কাপড় কত প্রকার ও কি কি: যা সকলেরই জানা দরকার!

কাপড় কত প্রকার ও কি কি – বিষয়টির উপর সাধরণ পর্যায়ের ধারণা আমাদের থাকা প্রয়োজন।

আপনি নিশ্চয়ই নিজের বা পরিবারের সদস্যের জন্য কাপড় কিনেছেন। বিভিন্ন ধরণের কাপড়ের মাঝে পছন্দের কাপড়টি খুজে বের করা সত্যিকার অর্থেই একটি কঠিন কাজ। কাপড়ের রঙ ও ডিজাইন ধরে নিলাম পছন্দ হলো, কিন্তু কাপড়টি কি মানের ও কোন ধরণের তা কিন্তু অস্পষ্টই থেকে যায়। 

এজন্য, কাপড় কত প্রকার ও কি কি – বিষয়টির উপর যদি প্রাথমিক ধারণা থাকে, তাহলে আপনার পছন্দের কাপড় বাছাই করার সময় তার গুনগত মান নিয়েও ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। যেমন ধরুণ, অনেক সময় নিজের মনেই সন্দেহ দেখা দিতে পারে – কাপড়টি কি আসলেই কটন, কটন হলে এটা কি ১০০% কটন নাকি মিক্সড ইত্যাদি ইত্যাদি।

কাজেই কাপড়ের প্রকারভেদ ও গুনগত মান যাচাই সম্পর্কে একটি ধারণা থাকলে এই সন্দেহজনক পরিস্থিতি থেকে সহজেই পরিত্রান পেতে পারেন। আবার কাপড়ের সাথে যেহেতু সুতার সম্পর্ক রয়েছে তাই সুতার প্রকারভেদ নিয়েও আমাদের ধারনা থাকা প্রয়োজন।

তাহলে আসুন মুল আলোচনায় চলে যাই।

কাপড় কত ও প্রকার কি কি

কাপড় কাকে বলে?

কাপড় হচ্ছে এক প্রকার পদার্থ যা দিয়ে ক্লোথ, অ্যাপারেল এবং গার্মেন্টস জাতীয় বিভিন্ন ধরণের পণ্য তৈরি করা হয়। কাপড়ের ইংরেজি শব্দ হল ফেব্রিক্স।  যা বিভিন্ন ধরনের ইয়ার্ন ব্যবহার করের নিটিং বা উইভিং এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়। ইয়ার্ন আবার বিভিন্ন প্রকারের ফাইবার দ্বারা গঠিত। ইয়ার্ন বা সুতার একক হচ্ছে ফাইবার। কাপড় তৈরির সর্বপ্রথম ধাপে টেক্সটাইল ফাইবার ব্যবহার করে স্পিনিং পদ্ধতির মাধ্যমে ইয়ার্ন  তৈরি করা হয়। এরপর ইয়ার্ন দিয়ে নিটিং, উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং প্রভৃতি প্রক্রিয়া কাপড় তৈরি করা হয়। আর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে এই কাপড় কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে বিভিন্ন পোশাক তৈরি করা হয়।

ইংরোজ ক্লোথ এবং ফেব্রিকস অনেক ক্ষেত্রে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রক্রিয়াজাত ফেব্রিকসকেই সাধারনত: ক্লোথ বলা হয়। এক কথায় প্রত্যেক ক্লোথই ফেব্রিকস কিন্তু প্রত্যেক ফেব্রিকস ক্লোথ নয়।

কাপড় কত প্রকার হতে পারে তা নির্ভর করে টেক্সটাইল ফাইবার এর বিভিন্ন ধরণ ও গুনগত মান ও কি কাজে ব্যবহৃত হবে তার উপর। অনেক সময় ফাইবারের নামের উপর ভিত্তি করে কাপড়ের নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেনন যেসব কাপড় ১০০% কাস্মীরি ফাইবার দিয়ে তৈরি হয় তাদের কাস্মীরি কাপড় বলা হয়।

প্রত্যেক ধরনের কাপড় নিজ নিজ বৈশিষ্ট অনুযায়ি সহজে সনাক্তকরণের লক্ষ্যে একটি একক নাম ধারণ করে থাকে। ফেব্রিকস এর এই নিজস্ব স্বাতন্ত্রতা নির্ভর করে এর গঠন-প্রকৃতি, ডিজাইন, উইভিং পেটার্ন এবং ফাইবার এর উৎস প্রভৃতির উপর। ফেব্রিক্স এ ব্যবহৃত ফাইবারগুলো বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যায়। প্রধান প্রধান উৎসগুলো যেমন, উদ্ভিদ, প্রাণি, প্রাণির লোম, কীট পতঙ্গ এবং ক্রুড ওয়েল। আমরা জানি উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত ফাইবার হচ্ছে কটন, লিনেন, হেম্প এবং রেয়নস। এদের মধ্যে কটন ফাইবার হচ্ছে সারা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

কাপড় কত প্রকার ও কি কি?

কাপড় কত প্রকার বা কাপড়ের প্রকারভেদ কি কি হতে পারে প্রশ্নটি একটি সহজ শুনা গেলেও বিষয়টি আসলে তেমন সহজ নয়। এ বিষয়ে সাধারন ধারনা পেতে আমাদের কিছু না কিছু স্টাডি করা আবশ্যক।  উৎসভেদে কাপড়ের প্রকারভেদ প্রধানত: তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন, ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক, কৃত্রিম এবং মিশ্র ধরণের। এই তিন প্রকারের কাপড়ই মুলত: দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে পরিধেয় বস্ত্র হিসাবে বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

প্রকৃতিজাত উৎসের কাপড়

১) উদ্ভিদ জাত ফেব্রিকস: যেমন- কটন, লিনেন

২) প্রাণি জাত ফেব্রিকস: যেমন- উল, সিল্ক

৩) খনিজ পদার্থ হতে: যেমন এসবেসটস

উদ্ভিদজাত কাপড়

প্রাকৃতিক কাপড়ের মধ্যে উদ্ভিদজাত উৎস থেকে তৈরিকৃত কাপড় সবচেয়ে বেশী পরিচিত। এ ধরণের কাপড়ের জনপ্রিয়তা বেশী এবং অধিক হারে এদের ব্যবহার হতে দেখা যায়। এখানে প্রাণিজাত ফাইবারের কোন অংশ থাকে না। শত সহস্র বছর ধরে উদ্ভিদজাত উৎসের কাপড় সমগ্র বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।

উদ্ভিদজাত ফাইবার দিয়ে উৎপাদিত কাপড়ের অনেক উপকারিতাও রয়েছে। যেমন, গরম মৌসুমে এই ধরণের কাপড় পরিধানে বেশ আরামদায়ক এবং টেকসই।

নিচে জনপ্রিয় কয়েক ধরণের উদ্ভিদজাত উৎসের কাপড়ের নাম উল্লেখ করছি-

কটন বা সুঁতি কাপড়

এই কাপড়গুলো নরম এবং এদের ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। তাই গ্রিষ্ম কালে কটন কাপড়ের প্রচলন বেশী। আপনি কটন কাপড় দিয়ে পরিধেয় বস্ত্র থেকে শুরু করে বিছানার চাদর ও অন্যান্য ঘরে ব্যবহার্য সামগ্রি বানিয়ে নিতে পারেন।

আমরা জামা-কাপড় বানানোর জন্য মুলত: সুতি কাপড়কেই বেছে নিয়ে থাকি। কেননা পূর্বেই বলা হয়েছে, সুতি কাপড় নরম প্রকৃতির ও পরিধানে আরামদায়ক হয়, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে।

এছাড়া, এমন কিছু কাপড় আছে যা ব্যবহারের সময় শরীরের এক ধরণের এলার্জি ভাব দেখা দেয়। যা কটন কাড়রের বেলায় হয় না।

তবে, কটন কাপড়েরর মধ্যে বেশ বৈচিত্রতা দেখা যায়। গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সুতি কাপড় আবার কয়েক ধরনের হয় যেমন:

  • ক্যাম্ব্রি: ইহা খুব হালক ও সুক্ষ ধরনের সুতা দিয়ে তৈরি হওয়া মসৃন সুতি কাপড় যা সাধারনত: শিশুদের কাপড় উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
  • চামব্রে: এই ধরনের সুতি কাপড় হালকা থেকে মাঝারি ওজন বিশিষ্ট হয়। ইহা সেলাই করা সহজ এবং পরিধানেও আরামদায়ক। সাধারনত: শার্ট, টপস, বিভিন্ন পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • সিনো: ইহা একটু শক্ত প্রকৃতির সুতি কাপড় যা সাধারনত: ইউনিফর্ম, ট্রাওজারস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • ভেলভেট: ভেলভেট সুতি কাপড় একটু দামী এবং নরম প্রকৃতির হয়।
  • ডেনিম: ইহা খুব শক্ত এবং ভারি প্রকৃতির সুতি কাপড়। সাধারনত: জিন্স, স্কার্ট, জ্যাকেট ইত্যাদি ধরনের পোশাক তৈরিতে ডেনিম সুতি কাপড় ব্যবহৃত হয়।
  • লোন: এই ধরনের কাপড় খুব হালক সুতা দিয়ে তৈরি হয়। ইহা নরম প্রকৃতির হয়। মহিলাদের থ্রি-পিস ও অন্যান্য পোশাক লোন কাপড় দিয়ে বানানো হয়।
  • পপলিন: ইহা মাঝারি প্রকারের ভারি হয়। খুব জনপ্রিয় একটি কাপড় যা পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

কটন কাপড় চেনার উপায় নিয়ে আমার আরেকটি দেওয়া হয়েছে। লিংকে ক্লিক করে ভিজিট করতে পারেন।

লিনেন কাপড়

বহু প্রাচিন কাল থেকেই লিনেন কাপড় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ধারণ করা হয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচিন কয়েকটি কাপড়ের মধ্যে একটি।

ফ্ল্যাক্স নামিয় উদ্ভিদের ডালপালা থেকে উৎপাদিত ফাইবার দিয়ে লিনেন কাপড় তৈরি করা হয়। লিনেন কাপড়ও বেশ জনপ্রিয়। এর ফেব্রিকস নমনিয় এবং গরম কালে পরিধান করে বেশ আরামদায়ক মনে হয়। কারণ, এর ভিতর দিয়েও দেহে বাতাস চলাচল করতে পারে। এর জন্য লিনেন কাপড়ের পোশাক পরিধান করলে শরীরের এক ধরণের ঠান্ডা লাগা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এটি অনেক টেকসই ধরণের কাপড়। সহজে ছিড়ে যায় না।

তবে, লিনেন কাপড় কটন কাপড়েরর তুলনায় কিছুটা ভারি। দেহে এলার্জি সৃষ্টি করা উপাদান বা এলার্জেন জাতীয় পদার্থ এই কাপড়ে থাকে না।

এ ধরণের কাপড়ের মাঝেও রয়েছে বেশ বৈচিত্রতা। আপনি পরিধেয় পোশাক, ঘরের পর্দা, টেবিল ক্লথ ইত্যাদি জাতিয় জিনিস নিনেন কাপড় দিয়ে অনায়াসে তৈরি করতে পারেন।

হেম্প

ইহা এক প্রকার টেক্সটাইল ফেব্রিকস যা উদ্ভিদজাত ফাইবার দিয়ে গঠিত। Cannabis sativa নামের গাছ থেকে হেম্প ফাইবার উৎপাদন করা হয়। এই গাছের আলাদা বৈশিষ্ট আছে যা হলো এটি থেকে উৎপাদিত কাপড় অসম্ভব রকমের টেকসই হয় যদিও এটি শক্ত ধরণের কাপড়। এটি কটনের মত এতটা নরম হয় না।

হেম্প ফাইবার দিয়ে বিভিন্ন রকমের পোশাক ও ঘরের সাজ-সজ্জার সামগ্রি তৈরি করা যায়।

পাট

এটিও উদ্ভিদজাত এক প্রকার কাপড় যা আমাদের দেশের বহুল পরিচিত পাট গাছ থেকে উৎপাদিত হয়। পাটের আঁশ দিয়ে ঘরের কার্পেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকারে ব্যাগও প্রস্তুত করা যায়। এই ধরণের কাপড় বর্তমান সময়ে পরিবেশ বান্ধব হিসাবে খ্যাত।

ডেনিম

ডেনিম কাপড় সারা বিশ্বের যুব সমাজের নিকট একটি অন্যতম জনপ্রিয় কাপড় যা  জিনস নামে পরিচিত।ডেনিম এক বিশেষ ধরণের কাপড় যা ১০০% কটন ফাইবার দিয়ে তৈরি। তবে অনেক সময় ডেনিম কাপড় তৈরির সময় স্প্যানডেক্স বা পলিস্টার জাতিয় সিনথেটিক ফাইবার মেশানো হয়।

ডেনিম কাপড় টুইল উইভ প্রক্রিয়া তৈরি করা হয়।এই কাপড় ফ্রান্সের “De Nimes” শহর থেকে আবির্ভাব হয়েছে বিধায় ডেনিম কাপড় হিসাবে এর নামকরণ হয়।

এই ডেনিম কাপড় খুবই শক্ত প্রকৃতির, টেকসই এবং আরামদায়ক পরিধেয় কাপড় হিসাবে সকলের নিকট পছন্দনীয় হিসাবে পরিচিত লাভা করেছে।

এবারে ডেনিম কাপড় কত প্রকার আসুন তা জেনে নেই।

ডেনিম কাপড় কত প্রকার?
  • Raw Denim : ডেনিম কাপড় উৎপাদনের প্রথম ধাপ যা ধৌত বা কোন প্রকার ট্রিটমেন্ট করা হয়নি। ইহা ঘন ণীল বর্ণের হয়, কিন্তু ধৌত করার পর রং কিছুটা হালকা হয়ে যায়।
  • Sanforized Denim: ইহাও এক প্রকার কাচা ডেনিম যা সংকোচনের জন্য শুধুমাত্র ধৌত করা হয়। এছাড়া অন্য কোন ট্রিটমেন্ট করা হয় না।
  • Indigo Dyed Denim: ইহাই সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত ডেনিম। ইনডিগো হচ্ছে এক প্রকার নীল রং যা এখানে ট্রিটমেন্ট স্বরুপ ব্যবহার করা হয়।
  • Color Dyed Denim: সালফার Dye ডেনিম কাপড়ে বিভিন্ন রকমের রং যেমন সবুজ, ধুসর, লাল এমনকি গোলাপি ইত্যাদি দেওয়ার ক্ষেত্রে কাজ করে। এই Dye অন্য Dye এর সহিত মিলিত হয়ে আরোও রঙিন ডেনিম তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
  • Selvage Denim: এই ধরণের ডেনিম কাপড়ের কিনারা বরারব রং দেওয়া হয় যাতে ডেনিম কাপড়টি দেখতে আরোও আকর্ষণী হয়।
  • Acid Wash Denim: এই ডেনিম ধৌত করার সময় রাসায়নিক এসিড প্রয়োগ করা হয় যাতে এর রং কিছুটা Fade হয়ে যায়।
  • Poly Denim : ডেনিম কাপড় নরম করার জন্য পলি ডেনিম ফাইবার মিশিয়ে এই ধরনের ডেনিম তৈরি করা হয়। পলি ডেনিম অনেকটা জনপ্রিয় ডেনিম কাপড়।

প্রাণিজাত কাপড়

সিল্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও অভিজত কাপড়ের মধ্যে সিল্ক কাপড় অন্তর্ভূক্ত। ইহা প্রাণিজাত উৎসের এক প্রকার কাপড় যা খুবই মসৃন ও নরম।

ককুন (cocoon) নামের সিল্ক ওয়ার্ম সিল্ক সংগ্রহ করা হয়। তারপর এটি দিয়ে কাপড় বানানো হয়। সাধারণত: বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রচলিত পোশাক সিল্ক কাপড় দিয়ে তৈরি হয়।

এছাড়া, বিশেষ করে, মহিলাদের বিভিন্ন রকমের পোশাকে সিল্ক কাপড়ের ব্যবহার চোখে পড়ার মত।

উল

প্রাণির লোম বিশেষ করে ভেড়ার লোম দিয়ে উল ফেব্রিকস তৈরি হয়। শীত কালে উল কাপড়ের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকে।

কৃত্রিম ফেব্রিকস

উৎসের উপর ভিত্তি করে কয়েক ধরণের হয় :

১) রিজেনারেটেড: রেয়ন, লয়সেল

২) সিনথেটিক: নাইলন, পলিষ্টার, এক্রিলিক, স্পানডেক্স

এছাড়া গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত কাপড়েরর মধ্যেও ফেব্রিক কত প্রকার কি কি সে সম্পর্কেও আমাদের ধারণা থাকা প্রয়োজন।

বাজারে কোন কোন ধরনের কাপড় পাওয়া যায়?

কাপড়ের প্রকারভেদ অনুযায়ি বাজারে অনেক ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। আপনার পছন্দের সঠিক কাপড়টি বাছাইয়ের জন্য আপনার বিভিন্ন কাপড়ের নাম সম্পর্কে একটি সম্যক ধারনা থাকা আবশ্যক। দেশীয় বাজারে বিদ্যমান কাপড়ের প্রকারভেদ এর মধ্যে নিচের কাপড়গুলো বেশ জনপ্রিয়।

কটন: ইহা তুলা গাছ হতে তুলার আঁশ দিয়ে এই ফেব্রিকস তৈরি হয়। কটন ফেব্রিকস হচ্ছে পরিধানে সবচেয়ে আরামদায়ক। গৃষ্মকালে এই ধরণের ফেব্রিকস দিয়ে তৈরি কাপড় বহুল ব্যবহৃত হয়।

লিনেন: এই ধরণের ফেব্রিকস Flax নামক গাছের মুলের ফাইবার হতে তৈরি হয়। এই গাছ সাধারনত: শীত প্রধান দেশে বেশী দেখা যায়। এর ফাইবারগুলো কটন ফাইবার তুলনায় শক্তিশালী এবং অধিক শোষন ক্ষমতা সম্পন্ন। ইহা খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই ধরণের ফাইবার দিয়ে প্রস্তুতকৃত কাপড় এর শীতলতা এবং সজীবতার জন্য গরম আবহাওয়ায় ব্যবহারের জন্য খুব পছন্দনীয়।

উল: ইহাও একটি প্রাকৃতিক উৎস হতে প্রাপ্ত একধরণের ফেব্রিকস। প্রাণির লোম হতে এধরণের ফেব্রিকস তৈরি করা হয়।

এছাড়াও গার্মেন্টস শিল্পে আরোও বিভিন্ন রকমের ফেব্রিক ব্যবহার করা হয়।

 বন্ধুগন, পোস্টের তথ্যগুলি যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে আমাদের ফেসবুক পেজে একটি লাইক দিন, পরবর্তি পোষ্টের নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য।

1 thought on “কাপড় কত প্রকার ও কি কি: যা সকলেরই জানা দরকার!”

Comments are closed.