টেক্সটাইল ফাইবার: ফাইবার কাকে বলে, কত প্রকার ও এর বৈশিষ্ট।

টেক্সটাইল ফাইবার কি, বিষয়টি টেক্সটাইল জগতের একটি বুনিয়াদি বিষয়। এটি  টেক্সটাইল মেনুফেকচারিং প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ অংশ। কাপড় তৈরি করা রান্না করার মত সহজ কোন বিষয় নয়। কাপড় বা গার্মেন্টস পোশাক তৈরিতে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয় যা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। যেমন, ফাইবার, ইয়ার্ন, সুতা, কাপড়, ডাইং, প্রিন্টিং ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হয়। তারপর তাতে সৈন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন প্রকার এমব্রয়ডারি কাজের প্রয়োজন হয়। এভাবে একটি পোশাক পণ্য ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলে গ্রাহকের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়।

একটি ভাল মানের খাবার তৈরির সময় যেভাবে সবচেয়ে উত্তম মানের বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করা হয়, তারপর প্রক্রিয়াজাত বা রান্না করে খাবার টেবিলে সরবরাহ করা হয় ঠিক একইভাবে একটি ভাল মানের পোশাক তৈরির ক্ষেত্রেও কাপড়ের নানা ধরণের কাঁচামাল সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে গ্রাহকের নিকট আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হয়।

আর এই তৈরি পোশাকের মুল ভিত্তিই হল ফাইবার। ফাইবার হল এমন এক বস্তু যা সরু বা চিকন ও পাতলা প্রকৃতির হয়। এদের প্রস্থের চেয়ে দৈর্ঘ যথেষ্ট পরিমানে বেশী হয়। এরা সাধারণত: প্রস্থের চেয়ে লম্বায় শত-সহস্রগুন বেশী হয় যা অনেকটা চুলের মত আকৃতি প্রদান করে। একটি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একক।

কাজেই আপনি যদি খুব ভাল মানের একটি পোশাক তৈরি করে উপস্থাপন করতে চান তাহলে সবার আগে আপনাকে এই ফাইবারের প্রতিই মনযোগ দিতে হবে। ফাইবারটি গুনগত মান কেমন, এটি কোথা থেকে উৎপত্তি, এর টেকসই কেমন হবে ইত্যাদি বিষয়ে নজর দিতে হবে।

প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, টেক্সটাইল ফাইবার কাপড় তৈরির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এর জন্য সবার আগেই আপনার জানা দরকার টেক্সটাইল ফাইবার কি, টেক্সটাইল ফাইবার কাকে বলে, টেক্সটাইল ফাইবার কত প্রকার- কি কি, টেক্সটাইল ফাইবারের বৈশিষ্ট কি – ইত্যাদি বিষয়।

টেক্সটাইল ফাইবার কি, কাকে বলে?

টেক্সটাইল ফাইবার কি – জানার জন্য প্রথমে ফাইবার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। ফাইবার চুলের মত পাতলা ধরণের এমন পদার্থ যার দৈর্ঘ প্রস্থের তুলনায় বেশী থাকে। আর টেক্সটাইল ফাইবার হল ঐ সমস্ত ফাইবার যার মধ্যে কাপড় তৈরির গুনাবলী বিদ্যমান থাকে। যেমন, ফাইবারটিকে স্পিনিং করে ইয়ার্ন তৈরি করা যায় কিনা, এটি ইলাস্টিক প্রকৃতির কিনা এবং পরিশেষে এটি দিয়ে প্রস্তুতকৃত কাপড় বা পোশাকটি টেকসেই হলে ফাইবারটিকে একটি টেক্সটাইল ফাইবার হিসাবে ধরে নেওয়া যাবে।

টেক্সটাইল ফাইবারের সঙ্গা অন্যভাবেও বলা যায়, এই ফাইবার হল এমন ধরণের পদার্থ যা প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া যায় এবং কৃত্রিম ভাবেও তৈরি করা যায় যা দিয়ে স্পিনিং এর মাধ্যমে ইয়ার্ন তৈরি করা যায় এবং পরবর্তিতে নিটিং এবং উইভিং প্রক্রিয়ায় মানসম্পন্ন ও টেকসই কাপড় বা ফেব্রিক তৈরি করা যায়। এরপর তা ডাইং, প্রিন্টিং এবং ফিনিশিং এর মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী একটি মানসম্পন্ন কাপড় হিসাবে তৈরি গ্রাহকের নিকট বাজারজাত করা যায়।

টেক্সটাইল ফাইবারের  একটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় হল ইহা কমপক্ষে ৫ মিলি মিটার লম্বা হতে হবে। দৈর্ঘে এর চেয়ে কম হলে ইহা স্পিনিং করার উপযোগী হবে না।

আরেকটি মনে রাখার জন্য গুরত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রত্যেক টেক্সটাইল ফাইবার একই মান সম্পন্ন হয়না। প্রতিটি ফাইবার ভিন্ন ভিন্ন মান সম্পন্ন হয় যা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানের পোশাক প্রস্তুত করা হয়। যেমন, কোন কোন টেক্সটাইল ফাইবার অন্য ফাইবারের তুলনায় অধিক তাপ ধারণ করতে পারে, কোন কোন ফাইবার দিয়ে তৈরি করা পোশাক অধিক টেকসই বা মজবুত হয়। আবার কোন কোন ফাইবারের পোশাক পরিধানে অধিক আরামদায়ক অনুভুত হয়। এজন্য আপনার চাহিদামত পোশাকটি কি ধরণের হবে তা নির্ণয়ের পূর্বে টেক্সটাইল ফাইবার সম্পর্কে আপনার একটি পরিপূর্ণ ধারণা থাকতে হবে।

আরেকটি উদাহারণ দিলে পরিস্কার হয়ে যাবে, যেমন ধরুন আমরা রান্না করার সময় মসলা ব্যবহার করি। একেক মসলার এক এক ধরণের স্বাদ। এজন্য, রান্নায় মসলা দেওয়ার আগে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কোন কোন মসলা দিবেন এবং কি পরিমানে দিবেন যাতে রান্না করা খাবারের স্বাদ আপনার পছন্দমত হতে পারে।

 একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন, সব ফাইবার কিন্তু কাপড় তৈরির উপযোগী নয়। এজন্য প্রত্যেক টেক্সটাইল ফাইবারই ফাইবার হিসাবে গণ্য কিন্তু প্রত্যেক ফাইবার টেক্সটাইল ফাইবারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

যেমন, তুলা বৃক্ষ হতে প্রাপ্ত তুলায় আঁশ বা ফাইবার থাকে যাকে আমরা কটন ফাইবার বলে থাকি। এই কটন ফাইবার যথেষ্ট শক্তিশালি প্রকৃতির হয় এবং এদেরকে সহজেই ভাঁজ করা যায় এবং স্পিনিং এর মাধ্যমে ইয়ার্ন তৈরি করা যায়। ফলে এই ধরণের ফাইবার হল টেক্সটাইল ফাইবার।

অপরদিকে, আপনি কি কখনোও লক্ষ করেছেন, ভুট্টার উপরে লেগে থাকা চিকন লম্বা আকারের তন্তুর ন্যায় এক ধরনের বস্তু? হ্যা, দেখতে ফাইবারের মতই চিকন ও পাতল হলেও এরা নরম প্রকৃতির, শক্ত নয়। এদেরকে প্যাঁচানোর পর ইয়ার্ন তৈরি করলে টেকসই হয়না, সহজেই ছিড়ে যায়। ফলে  এরা ফাইবার হলেও এদেরকে টেক্সটাইল ফাইবার বলা যাবেনা।

টেক্সটাইল ফাইবারের প্রধান শর্ত কি কি?

আমরা আগেই জেনেছি যে, প্রত্যেক ফাইবার জাতীয় পদার্থই টেক্সটাইল ফাইবার হতে পারে না। কোন ফাইবারকে টেক্সটাইল ফাইবার হতে হলে অত্যাবশ্যকিয় কিছু শর্ত পূরণ করতে হয় যা নিম্নরুপ-

  • ফাইবারের দৈর্ঘ প্রস্থের তুলনায় ১০০০ গুন বেশী হতে হবে।
  • এটিকে অবশ্যই যথেষ্ট পরিমানে শক্ত ও ইলাস্টিক হতে হবে এবং স্পিনিং এর মাধ্যমে ভাল মানের ইয়ার্ন তৈরি করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
  • ফাইবারটিকে ফ্লেক্সিবল এবং সুক্ষ গঠনের হতে হবে।
  • একে ডাইং করার সুযোগ থাকতে হবে।
  • এটি যাতে সহজলভ্য হয়, এর দাম যেন নাগালের বাইরে চলে না যায়।

টেক্সটাইল ফাইবারের বৈশিষ্ট কি?

আমরা আগেই জেনে এসেছি যে, পোশাকের মুল উপাদানের একক হল ফাইবার যা বিভিন্ন প্রকার উৎস হতে পাওয়া যায়। ফাইবার এর গুনগত মান নির্ভর করে তা কোথা হতে উৎপত্তি লাভ করেছে বা কিভাবে তৈরি হয়েছে তার উপর। নিচে ফাইবারের কিছু বৈশিষ্ট উল্লেখ করা হবে যার মাধ্যমে এর গুনগত মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

প্রত্যেক পদার্থেরই কোন না কোন বৈশিষ্ট থাকে। সে আলোকে, টেক্সটাইল ফাইবারের ক্ষেত্রেও বৈশিষ্ট থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। টেক্সটাইল ফাইবারের বৈশিষ্ট নিম্নলিখিত প্রকারের হতে পারে-

  • ভৌতগত বা physical properties:
  • তাপীয় বা thermal properties;
  • রাসায়নিক বা Chemical properties

ফাইবারের ভৌতগত বৈশিষ্ট বা physical property

ফাইবারের ভৌত বৈশিস্টগুলি নিম্নরুপ-

  • দৈর্ঘ: এটি ফাইবারের বৈশিষ্ট নির্ণয়ের একটি গুরত্বপূর্ণ প্যারামিটার যার মাধ্যমে ফাইবারের কার্যকারিতা প্রকাশ পায়। এক একটি ভিন্ন ভিন্ন ফাইবার দিয়ে যখন একটানা দৈর্ঘের একটি ইয়ার্ন তৈরি করা হয় তখন এক একটি ফাইবারের প্রস্থের তুলনায় দৈর্ঘের পরিমান গুরত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। অন্যথায় এটি দিয়ে ইয়ার্ন তৈরি করা সম্ভব হয় না।

এজন্য ফাইবারের দৈর্ঘ প্রস্থের অনুপাত একটি অত্যাবশ্যকিয় বিষয় হিসাবে ধরা হয়। অধিকাংশ ভাল মানের ফাইবারের দৈর্ঘ প্রস্থের অনুপাত ১০০:১ হিসাবে গণ্য করা হয়।

এছাড়া, প্রকৃতিজাত অন্যান্য ফাইবারে দৈর্ঘ প্রস্থের অনুপাত হল-

  • কটন : ১৪০০
  • উল: ৩০০০
  • সিল্ক: ৩৩x106
  • ফ্ল্যাক্স: ১২০০
  • Ramie: 3000

দৈর্ঘ হল ফাইবারের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট বিশেষ করে স্পিনিং করার বেলায়। ফাইবারের দৈর্ঘ বেশী হলে ইয়ার্ন তৈরির সময় একটি ফাইবারের সাথে অপরটির সমাপতিত অংশের পরিমানও বৃদ্ধি পায় যা ইয়ার্নকে পিচ্ছিল হতে বাধা দেয়। লম্বা ফাইবার দিয়ে স্পিনিং এর মাধ্যমে ইয়ার্ন তৈরির সময় লম্বা ফাইবারের ইয়ার্ন অধিকতর শক্ত হয়ে থাকে।

অপরদিকে, খাট ফাইবার দিয়ে ইয়ার্ন তৈরি করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়। একটি ফাইবারের দৈর্ঘ যদি 0.5 ইঞ্চির কম হয় তাহলে তা দিয়ে ইয়ার্ন তৈরি করা আদৌ সম্ভবপর হয় না। পাতলা ফাইবার দিয়ে পাতলা ইয়ার্ন তৈরি হয়, একইভাবে মোটা ফাইবার দিয়ে মোটা ইয়ার্ন তৈরি হয়।

টেক্সটাইল ফাইবারের দৈর্ঘ অনেক সময় কমবেশি হয়ে থাকে। যেমন, কটনের বেলায় ৪০% এবং উলের ক্ষেত্রে ৫০% পর্যন্ত ফাইবারের দৈর্ঘ উঠানামা করতে পারে। কটন ফাইবারের দৈর্ঘ বেশী হলে ইয়ার্নের গুনগত মান ভাল হয়। অপরদিকে উল ফাইবারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ন বিপরীত অর্থাৎ এর দৈর্ঘ কম হলে গুনগত মান ভাল হয়। আবার প্রকৃতিগতভাবে পাটের ফাইবারের দৈর্ঘ অনেক বেশী হয়ে থাকে যা অনেক সময় কেটে ছোট করা হয়।

দৈর্ঘের উপর ভিত্তি করে ফাইবার দু’ প্রকারের হতে পারে-

  • Continuous filament: একটানা লম্বা ধরণের ফাইবারকে ফিলামেন্ট বলে। অনেক লম্বা ফিলামেন্ট যেমন ব্যবহৃত হতে পারে, অন্যদিকে লম্বা ফিলামেন্টকে কেটে staple ফাইবারের মত ছোট করেও ব্যবহার করা যায়। এই ফাইবারগুলো প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উভয় উৎস হতেই সংগ্রহ করা যায়। যেকোন প্রকৃতিগত ফাইবার দিয়ে ফিলামেন্ট তৈরি করা যায়। যখন ইয়ার্ন তৈরিকে একটি মাত্র ফিলামেন্ট ব্যবহার করা হয় তখন তাকে মনো ফিলামেন্ট বলে। অপরপক্ষে যখন একধিক ফিলামেন্ট দিয়ে ইয়ার্ন করা হয়, তাকে মাল্টি ফিলামেন্ট বলে।

মনো ফিলামেন্ট এর স্পিনারেটে ১.৫ টি গর্ত থাকে এবং মাল্টি ফিলামেন্ট এর স্পিনারেটে (spinneret) 10-100 টি গর্ত থাকে।

  • Staple fiber: ফাইবারের দৈর্ঘ যখন কম হয় তখন তাকে স্টেপল ফাইবার বলে। স্টেপল ফাইবার লম্বায় কম থাকার ফলে এটি সাধারণত: প্রাকৃতিক ফাইবারের সাথে বেশী সম্পর্কিত। একমাত্র সিল্ক ব্যতিত সকল প্রাকৃতিক ফাইবার স্টেপল ফাইবার হিসাবে সংগ্রহ করা হয়। কিছু কিছু কৃত্রিম ফাইবারও স্টেপল ফাইবার হিসাবে তৈরি করা হয়।

দৈর্ঘের উপর ভিত্তি করে স্টেপল ফাইবার পুনরায় তিন প্রকারের হয়, যথা

Short staple: এর দৈর্ঘ ২ ইঞ্চির কম।

Medium Staple: এদের দৈর্ঘ ২-৪ ইঞ্চির মধ্যে।

Long staple: দৈর্ঘ ৪ ইঞ্চির চেয়ে বেশী হলে।

 

  • শক্তিমত্তা বা strength: কোন ফাইবারের ভর বহন করার ক্ষমতাকে ঐ ফাইবারের ‍strength বলা যেতে পারে। ফাইবারের শক্তিমত্তাকে সাধারণত: এর tenacity হিসাবে গন্য করা হয়।

Tenacity=Strength/linear density.

ইহাকে CN/Tex বা N/Tex হিসাবে ব্যক্ত করা হয়।

  • ইলাস্টিসিটি: টেক্সটাইল ফাইবারের ভৌত গুনাবলীর মধ্যে ইহা হল তৃতীয় গুরত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট। ইলাস্টিসিটি হল পদার্থে এমন একটি ধর্ম যখন বল প্রয়োগের ফলে কোন পদার্থের আকার বিকৃত হলে পুনরায় তার আকার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। কাপড় বা পোশাকের ক্ষেত্রে কাংখিত বৈশিষ্ট হল যে কাপড় ভাঁজ করলে বা প্যাঁচানো হলে অথবা জোরে টান দিলে যাতে তার আকার বিকৃত হয়ে না যায়। অর্থাৎ কাপড়টির ফাইবারের যাতে এমন মাত্রায় ইলাস্টিক বৈশিষ্ট থাকে যাতে তা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফাইবারের ইলাস্টিক স্বভাব যত বেশী হবে তা কাপড় হিসাবে তত ভাল মানের হবে। উদাহারণ স্বরুপ বলা যায়, কোন ১০০০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ বিশিষ্ট কোন ইয়ার্ন বল প্রয়োগের মাধ্যমে টান দিলে এর দৈর্ঘ ১০৫০ সেন্টিমিটার হল। বলটি সরিয়ে নেওয়ার পর যদি ইয়ার্নটির দৈর্ঘ পুনরায় ১০০০ সেন্টিমিটারে পরিমাপ হল তাহলে ধরে নিতে হবে এই ফাইবারের ১০০% ইলাস্টিক রিকোভারি। কিন্তু বল সরিয়ে নেওয়ার পর যদি তার দৈর্ঘ ১০১০ সেন্টিমিটার হয় তাহলে ফাইবারের ইলাস্টিসিটি হবে ৮০%। এখানে ইয়ার্ন প্রসারিত বা elogate হয়ে এর দৈর্ঘ হয়েছে ১০১০ সেন্টিমিটার। এই ক্ষেত্রে ইয়ার্নের elongation হল ১%। কাজেই, এখন বলা যায় যে elongation হল elasticity এর বিপরীত অবস্থা।
  • ইউনিফর্মিটি: এটি হল টেক্সটাইল ফাইবারের চতুর্থ প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট। ইহা গুরত্বপূর্ণ যে, এক ফাইবারের সাথে অপরটির দৈর্ঘ ও প্রস্থের পার্থক্য যাতে বেশী না হয়। অন্যভাবে বলা যায়, কাপড়ের গুনগত মান ধরে রাখার জন্য ফাইবারগুলোকে অধিক মাত্রায় ইউনিফর্ম বা একই রকম হতে হবে।
  • Spinnability: স্পিন এবিলিটি দ্বারা বুঝায় হল এক একটি ফাইবারের মধ্যে এমন গুন বা বৈশিষ্ট থাকতে হবে যাতে ফাইবারটিকে যাতে স্পিনিং করে ইয়ার্ন তৈরি করা যায়। আরোও সহজ ভাষায় বলতে গেলে এই ফাইবার দিয়ে যাতে সুতা পাকানোর প্রক্রিয়ায় ইয়ার্ন বানানো যায় এবং এভাবে প্রস্তুতকৃত ইয়ার্ন যাতে যথেষ্ট পরিমানে শক্ত হয়। অল্পতেই যেন ছিড়ে না যায়। একেই বলা হয় স্পিন এবিলিটি।

মজার বিষয় হল, স্পিন এবিলিটি সাধারণভাবে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত ফাইবারের জন্য বেশী প্রযোজ্য হয়। মুলত: এটি দ্বার বুঝায় extrusion প্রক্রিয়ায় viscous material থেকে কোন continuous thread তৈরি করা যায় কিনা এবং সুতাটিকে যাতে শক্ত হয়। প্রযুক্তিগতভাবে একটি সুতা যত বেশী লম্বা হয় তার স্পিন এবিলিটিও তত বেশী হয়।

 

উপরের এই পাঁচটিকে বৈশিষ্টকে কোন প্রাকৃতিক ফাইবারের প্রাথমিক বা primary properties বলা হয়। কৃত্রিম বা সিনথেটিক ফাইবারের বেলায় এই প্রাথমিক বৈশিষ্টগুলি এত বেশী ধর্তব্য নয় যেহেতু কৃত্রিম ফাইবার তৈরির সময় এর বৈশিষ্টকে  চাহিদামত কম-বেশী করা যায়।

  • Cohesiveness: কোন ভাল মানের স্পিন এবিলিটি সম্পন্ন ফাইবারের আরেকটি বিষয়ও লক্ষণীয়। তা হল ফাইবারগুলি যেন একটি অপরটির সাথে লেগে থাকার বৈশিষ্ট থাকে। যাকে cohesiveness বলা হয়। আরোও পরিস্কারভাবে বলতে গেলে cohesiveness হল টেক্সটাইল ফাইবার দিয়ে ক্রিম্পিং ও স্পিনিং করার সময় একটি ফাইবার অপরটির সাথে একত্রে মিশে গিয়ে লেগে থাকার যে প্রবনতা তাকে বুঝায়।
  • Fineness: এর অর্থ হল ফাইবারের সূক্ষতা যা এর গুনগত মানের সৈন্দর্য প্রকাশ করে। এটিকে অনেক সময় denier নামেও অভিহিত করা হয়। Fineness ইয়ার্নের গননা, শক্তিমত্তা এবং ধারাবাহিকতা উপর প্রভাব বিস্তার করে।
  • Flexibility: ইহা টেক্সটাইল ফাইবারের এমন একটি গুন যা তাকে বার বার ভাঁজ হয়ে যাওয় বা কুঁচকে যাওয়া থেকে নিবারণ করে।
  • Crimp: ইহা হল ফাইবারের cohesiveness বাড়িয়ে দেয়। ফলে কাপড় পরিধানের সময় এর উষ্মতা বেড়ে যায়। এই বৈশিষ্টের ফলে কাপড়ের কোমলতা, ঘনত্ব ও শোষন প্রবনতা বজায় থাকে।
  • Density: ইহা প্রতি একক ভলিউমে কাপড়ের ওজনকে বুঝায়।
  • Elongation: ইহা হল টান দিয়ে বল প্রয়োগের ফলে কাপড় বা ফাইবারের লম্বা হয়ে যাওয়া বা প্রসারিত হয়ে থাকার প্রবনতা যা ফাইবারের প্রাথমিক দৈর্ঘের সাথে শতাংশ হিসাবে প্রকাশ করা হয়। ফাইবার elongation বিভিন্ন মাত্রার তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে কম বেশী হয়।

Thermal property বা তাপীয় বৈশিষ্ট

ফাইবারের এই ধরণের ধর্ম নিম্নলিখিত প্রকারের হতে পারে-

  • Amorphousness:
  • Crystallinity:

Chemical Property বা রাসায়নিক ধর্ম

  • পানি: পানির সাথে ফাইবারের পারস্পরিক ক্রিয়ার আলোকে ফাইবার দু’ প্রকারের হয়, যেমন- হাইড্রোফোবিক এবং হাইড্রোফিলিক। হাইড্রোফোবিক ফাইবার এমন ধরণের ফাইবার যা পানির প্রতি আকৃষ্ট হয়না। ফলে, এ ধরণের ফাইবারের পানি শোষণের পরিমান কম থাকে। অন্যদিকে হাইড্রোফিলিক ফাইবার পানির প্রতি আকৃষ্ট থাকে।
  • শোষণ ক্ষমতা বা absorbency: ইহা হল ফাইবারের পানি ধরে রাখার প্রবনতা যা ফাইবারের amorphous এবং crystalline অঞ্চলের অনুপাতের উপর নির্ভর করে। কারণ এই অনুপাত পলিমার এর পোলারিটি নির্নয় করে।
  • অম্ল বা এসিড: বিভিন্ন ফাইবারের সাথে এসিডের ক্রিয়ার ফলাফল বিভিন্ন রকম হয়। এজন্য, এসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফাইবারকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে খুব সতর্কতার সাথে এসিড নির্বাচন করতে হবে। কাপড় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ফাইবারের কাংখিত মান অনায়নের লক্ষ্যে অত্যাবশ্যকিয় এমন এসিড নির্বাচন করতে হবে যা ফাইবারের ক্ষতিকর নয় ।
  • ক্ষারীয় বা এলকালি: ইহা ফাইবার এবং এসিডের পারস্পরিক ক্রিয়ার মতই যা বিভিন্ন ফাইবারের ক্ষেত্রে এলকারির প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন রকম হতে পারে। এজন্য, ফাইবার প্রক্রিয়াজাতের অংশ হিসেবে এলকালি নির্বাচনেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন, মৃদু ধরণের এলকালির উল ফাইবারের উপর তেমন কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া থাকে না, কিন্তু বেশী ঘনত্বের caustic soda উল ফাইবারের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব থাকে।

টেক্সটাইল ফাইবার কত প্রকার?

উৎসগতভাবে টেক্সটাইল ফাইবারকে দু’টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়, তার হল

  • প্রাকৃতিক ফাইবার বা natural fiber
  • কৃত্রিম ফাইবার বা man made fiber বা synthetic fiber

Natural fiber পুনরায় নিম্নলিখিত প্রকারের হতে পারে-

  • Vegetable fiber: এরা আবার কয়েক প্রকারের হয়-
    • Seed fibers: যেমন কটন, kapok;
    • Bast fibers: যেমন, পাট, flax, ramie, hemp ইত্যাদি;
    • Leaf fibers: যেমন- ‍abaca যা Manila hemp নামেও পরিচিত, আনারস, sisal ইত্যাদি;
  • Animal Fibers:
    • Hair fibers: যেমন- উল, mohair, উটের পশম, alpaca, lama
    • Cooon fibers: যেমন – সিল্ক
  • মিনারেল ফাইবার: যেমন এসবেসটস

এছাড়া, রাসায়নিক ফাইবারেরও বেশ প্রচলন রয়েছে যা নিম্নরুপ:

  • রিজেনারেটেড ফাইবার: যেমন- ভিসকোজ, রেয়ন, সেলুলোজ এস্টার (এসিটেট), কেজিন ফাইবার (casein) ইত্যাদি।
  • সিনথেটিক ফাইবার: যেমন- পলিস্টার, এক্রিলিক, পলিপ্রোপাইলিন, পলিইউরেথেন ইত্যাদি।

এক নজরে টেক্সটাইল ফাইবারের শ্রেণীবিভাগ:

টেক্সটাইল ফাইবার