বাদাম খুব জনপ্রিয় এক প্রকার খাদ্যের নাম। আমারা অনেকে প্রায়ই সুযোগ পেলে এটি, বিশেষ করে ভাজা বাদাম খেতে পছন্দ করি। জনবহুল রাস্তার কোন মোড়ে দাড়ালে বাদাম বিক্রেতার সাথে দেখা মিলতে পারে। আমরা তখন কাগজের ঠোঙায় ১০ – ২০ টাকার কিনে নিয়ে একটি একটি করে হাতে ভেঙ্গে খাওয়া শুরু করি। অনেকটা শখের বশেই বলা যায়। যদিও ভাজা বাদামের কিছুটা ব্যতিক্রমি স্বাদ থাকে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। তবে আপনি, বাদামের পুষ্টিগুন মাথায় রেখে কাঁচা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

কিন্তু এটি খেলে কি হয়, বাদামের পুষ্টিমান কেমন, এর কি কি উপকারি দিক রয়েছে, কি কি নিয়ম মেনে খেতে হয় তা অনেকেরই সঠিকভাবে জানা নেই।

এসব সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর উপস্থাপনের জন্য এই আর্টিকেল।  এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব। চলুন, এবার শুরু করি।

বাদাম কি?

বাদাম কি – প্রশ্নটি আমাদের কাছে অজানা নয়। বাদামকে আপনি nuts নামেও ডাকতে পারেন। নাটস হল এক প্রকারের ড্রাই ফুড। উদ্ভিদবিদ্যা অনুযায়ি নাটস তাকেই বলা হল যা বাইরের দিক দিয়ে একটি শক্ত আবরণে আবৃত থাকে এবং এর ঠিক ভিতরেই থাকে বীজ। যে বীজকে আমরা খাদ্য হিসাবে খেয়ে থাকি। সে হিসাবে বাদামকে আপনি বীজ, লিগিউম বা ফল নামেও ডাকতে পারেন।

কুলিনারি দৃষ্টিকোন থেকে বাদাম দিয়ে আপনি বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু রেসেপি তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন। এক কথায় বলা যায়, এটি হল শক্তি সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার। বাদামের পুষ্টিগুন খুব গুরত্বপূর্ণ।

বাদাম কত প্রকার?

  • চিনাবাদাম (peanuts)
  • কাজুবাদাম (cashew nuts)
  • কাঠবাদাম (almonds)
  • পেস্তাবাদাম (pistachio nuts)
  • আখরোট (walnuts)

 

বাদামের উপকারিতা কি?

এটি একটি স্বাস্থ্যকর পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। যদিও এখানে চর্বির উপস্থিতি বেশী তথাপি এর চর্বিগুলির স্বাস্থ্যগত উপকারি দিক রয়েছে। এছাড়াও, এতে রয়েছে প্রোটিন এবং ফাইবারের উপস্থিতি।

অনেক গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে জানা যায় যে, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে  এটি জোরালো ভূমিকা রাখে।

নাটসের উপকারিতাগুলি এক এক করে উল্লেখ করা হল:

  • এটি উপকারি চর্বি, ফাইবার এবং আমিষ জতীয় খাদ্যের এক চমৎকার উৎস।
  • বাদামের অধিকাংশ চর্বিই হল monounsaturated fat এবং omega-6 ও omega-3 polyunsaturated fat যা চর্বি উপকারি চর্বি হিসাবে বিবেচ্য। যদিও বাদামে কিছুটা সম্পৃক্ত বা saturated fat এর উপস্থিতিও বিদ্যমান থাকে।
  • বাদামে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবন যেমন মেগনেসিয়াম ও ভিটামনি-ই রয়েছে।
  • নিয়মিত ইহা খেলে এর স্বাস্থ্যগত উপকারি বিষয় অনেক গবেষণায় খুজে পাওয়া গিয়েছে।
  • ৩৩টি গবেষণার সম্মিলিত ফলাফলে দেখা গিয়েছে যে এই ধরণের নাটস ওজন বৃদ্ধি বা ওজন কমাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেনা।
  • উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও কিছু বিপাকীয় রোগ যেমন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে বাদাম সাহায্য করে।
  • ১২০০ জন লোকের উপর পরিচালিত একটি গবেষণায় যাদের দৈনিক ৩০ টি করে বাদাম খাওয়ানোর ফলে তাদের বিপাকিয় রোগে আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিপাকিয় রোগের একটি উদাহারণ হল ডায়াবেটিস
  • এছাড়াও, বাদাম অনেক ক্রোনিক বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। যেমন, নিয়মিত বাদাম খাওয়ার দ্বার আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা এবং ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাকমিয়ে দিতে পারে।

বাদামের পুষ্টিগুন কেমন?

বাদামের পুষ্টিগুন সকলের নিকট খুব সমাদৃত। বাদামে আমিষ, শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদান থাকে। এর বাইরে কিছু ভিটামিন ও খনিজ লবনের উপস্থিতিও বিদ্যমান আছে। তবে, বিভিন্ন ধরণের নাটসের খাদ্য উপাদানের পরিমান ও গুনগত মান বিভিন্ন রকম হতে পারে।

সার্বিকভাবে, বাদামের পুষ্টিগুন নিচে উল্লেখ করা হল-

  • বাদামের পুষ্টিগুন এর আওতায় প্রতি গ্রাম হিসাবে এর ভিতর ২৯ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  • আখরোট বা walnuts ব্যাতীত সব বাদামে অধিক পরিমানে mono unsaturated fat বিদ্যমান।
  • সম্পৃক্ত চর্বি বা saturated fat এর পরিমান কম থাকে।
  • উদ্ভিদজাত প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাদ্যের খুব ভাল একটি উৎস। কাজেই, এটি প্রাণিজ প্রোটিনের একটি সুন্দর বিকল্প। কোন কোন নাটসে আরজিনিন নামের এমাইনো এসিড থাকে যা রক্তনালীকে স্বাভাবিক বা সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
  • এটি কোলেস্টেরল মুক্ত একটি খাবার।
  • এর ভিতর অধিক পরিমানে ফাইবার থাকে যা স্বাস্থ্যগত বিচারে উপকারি।
  • উদ্ভিদজাত উপকারি রাসায়নিক পদার্থে সমৃদ্ধ যা এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব পূরণ করে।
  • এখানে ভিটামিন-ই, ভিটামিন-বি৬, নিয়াসিন এবং ফলেট নামীয় প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান থাকে। এছাড়া কিছু খনিজ লবন যেমন, মেগনেসিয়াম, জিন্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম থাকে।

এর মত অধিকাংশ বীজ জাতীয় খাদ্য প্রোটিন, উপকারি চর্বি, ফাইবার এবং ভিটামি ও খনিজ লবনে সমৃদ্ধ থাকে। তৈলাক্ত বীজ এন্টি অক্সিডেন্ট ধারণ করে যা চর্বিকে দ্রুত rancid হওয়া থেকে থামিয়ে দেয়।

এছাড়াও, বাদামের মত অন্যান্য বীজ জাতীয় খাদ্যের বিশেষ বৈশিষ্টের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তারা খুব গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  নিচে তাদের কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ উপকারি দিক উল্লেখ করছি, যেমন-

 

বাদাম কি ওজন কমায় না বাড়ায়?

ইহা যদিও উচ্চ শক্তি বা ক্যালরি বিশিষ্ট এবং চর্বি সমৃদ্ধ একটি খাবার তথাপি এটি খাওয়ার সাথে দৈহিক ওজন বৃদ্ধির কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অনেক মানুষের উপর পরিচালিত গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে দৈনিক অধিক পরিমানে বাদাম খাওয়া বরং দৈহিক ওজন কমাতে সহায়তা করে।

কাজেই, গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ি ইহা ওজন হ্রাস করা খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তবে, বাদাম আমাদের এবডোমেন বা পেটের চর্বি দুরীকরণের মাধ্যমে অধিক পরিমানে ওজন কমাতে কাজ করে।  এর কার্যকারিতা নিয়ে এমন তথ্যও পাওয়া যায়।

তলপেটের চতুর্দিকে চর্বির পরিমান কম রাখা গেলে হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য জটিল দীর্ঘ মেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে যাবে। এজন্য এটিকে নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যপ্রদ খাদ্য তালিকায় গণ্য করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য গ্রহন নির্দেশনা অনুযায়ি দৈনিক ৩০ গ্রাম করে বাদাম খাওয়ার উল্লেখ রয়েছে।

দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাদাম কিভাবে কাজ করে?

  • চর্বি শোষণে: বাদামের চর্বি সম্পুর্নরুপে শরীরে শোষণ হয়না। গবেষণা থেকে জানা যায়, শুধু ৬৮-৯৪ শতাংশ চর্বি শরীরে শোষণ হয়।
  • ক্ষুধা পরিতৃপ্ততায়: বাদাম ভক্ষণে ক্ষুধা মিটে গিয়ে পরিতৃপ্ততা লাভ হয় এবং ক্ষুধার অনুভুতি কমিয়ে দেয়। এর ফলে খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। বাদাম খাওয়ার এই প্রভাব বাদামে প্রোটিন, চর্বি ও ফাইবারের উপস্থিতির কারণে হয়ে থাকে।
  • শক্তি খরচে: কোন কোন গবেষণা লব্ধ ফলাফল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বাদাম খেলে শরীরে ক্যালরি খরচ বেড়ে যায়। অপর এক গবেষণায় জানা যায় বাদাম সমৃদ্ধ খাবারের শক্তি যা আমরা খরচ করি তা মুলত: এর চর্বি উপাদান থেকে প্রাপ্ত হয়। এর অর্থ হল আমরা অধিক চর্বি বার্ন করি ফলে শরীরে চর্বির উপস্থিতি কমে যায়।

এভাবে, কম চর্বি পরিশোষণ, কম খাদ্য গ্রহন এবং অধিক শক্তি খরচ এই তিন ভাবে বাদাম আমাদের দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা পালন করে। যদিও শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বীজের প্রভাবের অধিক পরিমানে গবেষণার সুযোগ হয়নি তথাপি বাদামের সাথে খাবার উপযুক্ত অন্যান্য বীজের প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ফাইবার এর উপস্থিতির উপর সাদৃশ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে বাদামের কোন ভূমিকা আছে ?

নিয়মিত সুনির্দিষ্ট মাত্রায় বাদাম খেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণের ঝুঁকি কমে যায়। এর ব্যাখ্যা হতে পারে বাদামের ভিতর অসম্পৃক্ত চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার, অন্যান্য ফাইটোক্যামিকেলস, ভিটামিন ও খনিজ লবনের উপস্থিতি।

বাদাম যদিও একটি চর্বি সমৃদ্ধ খাবার হলেও এর উপস্থিত চর্বি যেমন mono unsaturated ও poly unsaturated fat আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি হিসাবে বিবেচিত। কারণ, বাদাম অসম্পৃক্ত ধরণের চর্বির খুব ভাল একটি উৎস যা স্বাস্থ্যকর। অপরদিকে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি চর্বি হিসাবে চিহ্নিত যে সব চর্বি আছে যারা সম্পৃক্ত প্রকৃতির চর্বি হয়ে থাকে তা বাদামে কম পরিমানে থাকে।

বাদামে সুন্দর সংমিশ্রনের এই চর্বি আপনার হার্টকে সুস্থ হিসাবে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে। বাদামে বিদ্যমান mono unsaturated ও poly unsaturated fat আপনার low density lipoprotein (LDL) কোলেস্টেরল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এই ধরণের LDL কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

LDL কোলেস্টেরল রক্তনালী বিশেষ করে ধমনির ভিতর এক ধরণের plaque বা আবরণের স্তর তৈরি করে যার ফলে রক্তনালী সরু হয়ে যায়। রক্তনালীর এই অবস্থাকে atherosclerosis বলা হয় যা পরবর্তিতে coronary heart disease তৈরি করতে পারে।

LDL কোলেস্টেরল কমানোর সাথে সাথে বাদামে উপস্থিত আরজিনিন নামক এমাইনো এসিডের প্রভাবে আপনার রক্তনালীকে সচল রাখতে ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতেও কাজ করে।

এছাড়াও, বাদামে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রায় এন্টি অক্সিডেন্টের কারণে আপনার শরীরে অন্যান্য যেকোন রকমের inflammation বা প্রদাহ দুরীকরণেও ইহা গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দৈনিক কতটুকু বাদাম খাওয়া উচিত?

বাদাম একটি উচ্চ ক্যালরি বিশিষ্ট খাবার হওয়ায় এটি থেকে স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে বিশেষজ্ঞগণের পরামর্শমতে দৈনিক ৩০ গ্রাম বা কাপের এক তৃতীয়াংশ পরিমান অথবা এক মুষ্টি পরিমান খাওয়া যেতে পারে। যেহেতু সব ধরণের বাদামের পুষ্টিগুন প্রায় একই রকম তাই যেকোন প্রকারই আপনি খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন। তবে ৩০ গ্রাম মিলাতে বিভিন্ন প্রকার নাটসের সংখ্যা বিভিন্ন হতে পারে, যেমন-

  • peanuts– এক মুষ্টি;
  • cashew nuts- ১৫টি;
  • almonds- ৩০ টি;
  • pistachio nuts- ৩০টি;
  • walnuts- ১০ টি সম্পুর্ণ আখরোট;
  • Hazelnuts- ২০টি;
  • Brazil nuts- ১০টি;
  • Macadamias- ১৫টি
  • Pecans- ১৫টি;
  • Pine nuts- ২ চা চামুচ;

সুত্র: The Australian Dietary Guidelines

 

বাদাম খাওয়ার নিয়ম কি?

বিভিন্ন প্রকার নাটসের মধ্যে আপনার পছন্দেরটি  মিশিয়ে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করতে পারেন। এর প্রকারভেদ অনুযায়ি বাদামের পুষ্টিগুন বা এতে ভিটামিন, মিনারেলস এর পরিমান সামান্য কম-বেশী হতে পারে। এজন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের নাটস খাওয়ার মাধ্যমে অনেক পুষ্টি পেতে পারেন।

নাস্তার টেবিলে একটি বা দু’টি বিস্কিট অথবা এক টুকরা কেক খাওয়ার পরিবর্তে এক মুঠো কাঁচা বা ভাজা বাদাম নির্দিধায় খেয়ে নিতে পারেন। এর সাথে অন্যান্য খাবার উপযোগী বীজ বা সবজি মিশিয়ে নিতে পারলে আরোও ভাল। এভাবে আপনি নাটস সহকারে সবজি ভিত্তিক খাদ্যেরে কোন রেসিপি তৈরি করতে পারেন। সবজিতে শক্তি বা ক্যালরি ঘনত্ব কম থাকে এবং একই সাথে ফাইবার বেশী থাকে। যার ফলে বাদাম সবজির সাথে মিশিয়ে রেসিপি তৈরি করা গেলে তা অধিক ফলদায়ক হবে।

যারা প্রাণিজ উৎসের খাদ্য পরিহার করে চলে বা যারা ভেজিটারিয়ান তাদের জন্য বাদাম একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। কেননা বাদাম প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার যা উদ্ভিদ হতে উৎপন্ন। তাই আপনি লিগিউমস ও বীজ জাতীয় খাদ্যের সাথে নিয়মিতভাবে বাদাম যোগ করে খাবার বানিয়ে খেতে পারেন।

আপনার শরীরের প্রোটিন চাহিদা পূরণের জন্য দৈনিক ৩০ গ্রাম বা তার বেশী পরিমানে বাদাম খেলেই চলবে। বাদামে বিদ্য আয়রন শোষণ ত্বরান্বিত করার জন্য আপনি বাদামের সাথে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলমুল যেমন টমেটো, কেপসিকাম এবং অন্যান্য সাইট্রাস জুস একত্র করে খেতে পারেন।

বাদামে অতিরিক্ত ফ্ল্যাভার যোগ করার জন্য যদি তৈল দিয়ে ভাজা হলে বাদামের উপর এর তেমন কোন প্রভাব থাকেনা। কারণ, বাদাম খুব ঘন প্রকৃতির এমন একটি বীজ যার ভিতর তৈল প্রবেশ করতে পারেনা; এমন কি, বাদাম যদি তৈলের মধ্যে ডুবিয়েও রাখা হয়। অধিকাংশ বাদাম অতিরিক্ত ২ শতাংশ চর্বি শোষণ করতে পারে।

তবে, লবনযুক্ত বাদাম সাধারনত: দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় সুপারীশ করা হয়না যেহেতু সেখানে অধিক পরিমানে সোডিয়াম থাকে। বিশেষ করে যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা থেকে থাকে তাহলেতো লবনসহ বাদাম থেকে একেবারেই দুরে থাকতে হবে। লবনসহ বাদামের রেসিপি আপনি বিশেষ কোন পার্টির জন্য রেখে দিতে পারেন। আর আপনার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় কাঁচা বা ভাজা যেকোন প্রকারের বাদামই রাখতে পারেন।

বাদাম খেলে কি হয়?

খুব জনপ্রিয় এই খাদ্যটি খেলে স্বাস্থ্যগত ভাবে যে সব উপকার সাধন হয় তা হল-

  • এটি একটি উদ্ভিদজাত খাদ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যের জন্য খুব নিরাপদ একটি খাবার।
  • ইহা পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার যেখানে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান যেমন প্রোটিন, উপকারি চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবনের উপস্থিতি রয়েছে।
  • এতে প্রচুর পরিমানে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে। ফলে বাদামকে এন্টি অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস বলা হয়। এই এন্টি অক্সিডেন্টের প্রাচুর্যতার ফলে শরীরের কোষের নরম চর্বি অক্সিডেশনের মাধ্যমে ধংস হওয়া থেকে বেচে যায়।
  • এটি উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাদ্য হওয়া সত্ত্বেও গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য মতে দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর ভূমিকা রয়েছে।
  • ইহা কোলেস্টেরল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড লেভেল কমাতে সাহায্য করে।
  • বিপাকীয় রোগ যেমন টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইহা সহায়তা করে।
  • এর এন্টি ইনফ্লামেটরি কার্যকারিতা আছে। ফলে শরীরের বিভিন্ন রকমের প্রদাহের বিরুদ্ধে ইহা কাজ করে।
  • এটি খুব উচ্চ মাত্রায় উপকারি ফাইবার নিয়ে গঠিত যার ফলে ক্ষুধার আগ্রহ কমাতে কাজ করে।
  • হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
  • এটি একটি বৈচিত্রময়, পুষ্টিকর এবং সহজ প্রাপ্য একটি খাদ্য।
  • এর ভিতর আরজিনিন নামের এমাইনো এসিড থাকে। যা রক্তনালীর প্রাচিরকে শক্তিশালী করে রক্তনালী সচল রাখতে সহায়তা করে।
  • এছাড়াও, বাদামের আরোও বহুবিধ উপকারি দিক রয়েছে।

 

কাচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি?

কাচা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখেও আপনি খেতে পারেন। এক্ষেত্রে কোন অসুবিধে নেই। তবে, কাঁচা নাটসের উপর থেকে লালচে আবরণটি ফেলে না দেওয়াই ভাল। এটি সহ খাওয়া উচিত। কারণ, এতে বাড়তি উপকার আছে। তা হল, এর মধ্যে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় ফাইটোক্যামিকেলস থাকে যা আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজে লাগতে পারে।

বাদামের কোন ক্ষতিকর দিক আছে?

এর তেমন কোন ক্ষতিকর দিক নেই বললেই চলে। তবে, সব নাটসেই এলার্জিগত কিছু উপাদান রয়েছে। যে সব মানুষ এসব এলার্জির প্রত সংবেদনশীল তাদের  এটি খাওয়ার বেলায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শিশু বয়স থেকে এ অবস্থার স্বীকার হতে পারে। কিন্তু, শুধু চিনাবাদাম এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম যার কারণে এলার্জি প্রাপ্ত বয়স্কদের পর্যন্তও হতে পারে।

আমরা জানি, এলার্জি এমন এক সমস্যা যার কোন আরোগ্য নেই। শুধু প্রতিকার বা প্রতিরোধ। কাজেই, আপনি বা আপনার বাচ্চার যদি এর প্রতি এলার্জি থেকে থাকে তাহলে এটি খাওয়া পরিহার করে চলুন। সুবিধামত কোন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যাতে এর ভাল একটি বিকল্প আপনি খুজে পেতে পারেন।

আপনার যদি  এর প্রতি এলার্জি থেকে থাকে তাহলে প্যাকেটজাত নাটস জাতীয় খাদ্য পন্যের লেবেল সব সময় খাওয়া পূর্বে পড়ে নিন। যে এলার্জির কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে কিনা।

১০০ গ্রাম বাদামে কত ক্যালরি থাকে?

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি, বাদাম বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। বাদামের প্রকারভেদে এর ক্যালরির মাত্রা বিভিন্ন পরিমানে হয়। আমরা যদি আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত বাদামকে বিবেচনায় আনতে চাই তাহলে চিনাবাদামের কথাই চলে আসে। সেক্ষেত্রে, অ্যামেরিকান কৃষি বিভাগ (USDA) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি ১০০ গ্রাম চিনাবাদামে ক্যালরির পরিমান হল ৫৬৭ ।

 

প্রীয় পাঠকবৃন্দ- পোস্টটি পড়ে কেমন লাগল বা এর উপর যদি আরোও কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে তা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে ভুলবেন না।

 

Reference:

  1. Nuts and seeds. (2020). Retrieved 27 December 2020, from https://www.betterhealth.vic.gov.au/health/healthyliving/Nuts-and-seeds
  2. The Top 9 Nuts to Eat for Better Health. (2020). Retrieved 27 December 2020, from https://www.healthline.com/nutrition/9-healthy-nuts
  3. 6 healthiest nuts: Protein and other benefits. (2020). Retrieved 27 December 2020, from https://www.medicalnewstoday.com/articles/323042#how-to-add-nuts-to-your-diet