৮ টি সহজ উপায়ে ঘরে বসে আয় করার সুযোগ জেনে নিন!

ঘরে বসে আয় করার সুযোগ জানতে চান? আজ এই বিষয়ের উপর কিছু তথ্য নিয়ে হাজির হলাম। 

কয়েক বছর আগেও এই পদ্ধতিতে মানুষ বিশ্বাসী ছিলোনা।  ঘরে বসে বা নিজস্ব মোবাইল ল্যাপটপ ব্যবহার করেও যে আয় করা যায় এই কনসেপ্ট টাই একটা বড় প্রশ্ন ছিল।

কিন্তু এখন এই কোভিড এর কারণে আর লোকডাউন এর দৌলতে প্রচুর মানুষ, স্টুডেন্ট থেকে গৃহবধূ বা বাইরে চাকুরী জীবি এমন মানুষেরাও এই ঘরে বসে আয় করার সুযোগের পক্ষপাতী।

COVID পরিস্থিতি এর পিছনে কিছুটা তো সাপে বর  এর মত কাজ করেছে , কারণ আমাদের অনলাইন জগতকে অনেকেটাই শক্ত সামর্থ করেছে এই লোকডাউন পরিবেশ। ওয়ার্ক ফ্রম হোম কে কাজে লাগিয়ে অনেকে পার্ট টাইম কাজেরও সুব্যাবস্থা করতে পেরেছে।

তবে এর কিছু জটিল দিক ও রয়েছে , বহু মানুষ শুধু শোনা কথায় মজে গিয়ে অনলাইন আর্নিং এ নেমে যায়। ফলস্বরূপ তাদের কিছু ঠক প্রতারক টাইপের মানুষের পাল্লায় পড়তে হয়।

আপনি যদি সত্যিই ঘরে বসে উপার্জন করতে চান , তাহলে সবার আগে জানতে হবে সঠিক পদ্ধতি ও পথ। তবে তারও আগে আপনাকে জানতে হবে , সৎ ও সঠিক উপার্জন কিন্তু বিনা পরিশ্রমে হতে পারেনা। তাই যদি আপনি শর্টকাট কিছু করার কথা ভাবেন , তাহলে ঘরে বসে আয় করার আয় করার আশা ছেড়ে দিন।

একটা কথা মাথায় রাখবেন , ঘরে বসে আয় করা কিন্তু প্রকৃতই কঠিন কাজ , শুরুতে আপনাকে বেশ ধৈর্য্য রাখতে হবে।

ঘরে বসে আয় বা অনলাইন আর্নিং এর কাজ অনেকটা ফ্রিল্যান্সিং এর মত। এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট কে হাতিয়ার বানিয়ে আপনি আপনার কর্মদক্ষতা অনুসারে স্বল্প থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও উপার্জন করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং বলতে যা বুঝায় – যদি এক কথায় বলি , তবে ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো , একটা স্বাধীন উন্মুক্ত পেশা। চিরাচরিত চাকুরী বা সময় বাঁধা কাজের বাইরে মুক্ত যে একটা কর্ম ক্ষেত্র রয়েছে, তাই ফ্রিল্যান্সিং। পড়াশোনা চলাকালীন বা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আপনি ফ্রিল্যান্সিংকে আগামীদিনের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন। এই অনলাইন মার্কেট বা ফ্রিল্যান্সিং হলো মিলিয়ন এমনকি বিলিয়ন ডলারের একটি বিপুল সমুদ্র।

ইন্টারনেট ও অনলাইন এর সুবাদে এখন খুব সহজেই আপনি একজন সফল ফ্রীলান্সার হতে পারেন। কিন্তু তার জন্য আপনাকে জানতে হবে সঠিক পন্থা বা পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা।

সবার আগে বলি, ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি সেই কাজই  করবেন যেটাতে আপনি দক্ষ বা পারদর্শী। আপনার প্যাশনই যদি এই কাজের উপর প্রফেশনাল হয় , তাহলে তা কখনই আপনার ফ্রাস্ট্রেশন এর কারণ হবেনা। বরং আপনি আপনার প্রতিটি কাজের মুহূর্ত উপভোগ করবেন।

ঘরে বসে আয় করার সুযোগ গুলো কি কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং

এখনকার এই ডিজিটাল যুগে আর্নিং এর একটি বড় ফিল্ড হল ডিজিটাল মার্কেটিং। এটা এতটাই বড় মার্কেট যে এর যেকোনো একটা পার্ট নিয়েও যদি আপনি সঠিক ভাবে ডিল করেন, তাহলে ও আপনার কাজের অভাব হবেনা আর উপার্জন তো মাশআল্লাহ।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর কয়েকটি উদাহারণ হচ্ছে-

  • সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং ( SEM )
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)
  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ইমেইল মার্কেটিং
  • সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • মোবাইল মার্কেটিং
  • ইউটিউব মার্কেটিং
  • টুইটার মার্কেটিং
  • গুগল ডিসপ্ল্যে নেটওয়ার্ক
  • ভাইরাল মার্কেটিং

তবে এগুলোর অনেক কটাই আপনি পারবেন না, যদিনা আপনার সঠিক জ্ঞান থাকে বা আপনি সিদ্ধহস্ত না হন সেই বিষয়ে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই , এমন অনেক কাজই আছে, যেগুলোতে আপনি বরাবরই দক্ষ।  প্রতিটি মানুষ কিছু সহজাত গুন্ নিয়েই জন্মগ্রহণ করে , তাই আগেই ভেঙে পড়াটা ঠিক নয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইন

যদি আপনার ড্রয়িং বা আঁকার প্রতি ঝোক থাকে , তাহলে আমি বলবো আপনি ছোট ছোট ডিজাইন এর কাজ গুলো মার্কেট থেকে নিতে পারেন। কয়েকমাসের একটা গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কোর্স করে নিন , তাহলে ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেশন এর মতো কিছু সফটওয়্যার এর ব্যবহার আপনি শিখে যাবেন।

বেশ কিছু পপুলার ফ্রিল্যান্সিং সাইট রয়েছে গুগল এ , সেখান থেকে আপনি ছোট বড় এরকম অনেক কাজ পেয়েযাবেন।  যেমন ধরুন – যেকোনো ইমেজ বা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ , বা ব্যানার ডিজাইন করা , ফেইসবুক বা ইনস্টাগ্রাম এর পোস্ট ডিজাইন, ব্রোসিউর, বিসনেস কার্ড ডিজাইন করা জাতীয় নানান ধরণের প্রজেক্ট।

বি:দ্রঃ প্রজেক্ট নেওয়ার আগে মার্কেট প্রাইস টা একবার দেখে নেবেন , আর চেষ্টা করবেন শুরুতে আপনার প্রাইস টা অনেকটাই কম রাখার। এতে আপনার মার্কেট পেতে এবং তাতে টিকে থাকতে অনেকটাই সুবিধা হবে।

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভলপমেন্ট

যদি আপনার কোডিং এর জ্ঞান থেকে থাকে , বা HTML , PHP এর বেসিক কোর্স করা থাকে , থামলে নিঃসন্দেহে আপনি ওয়েব সাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট ফিল্ড এ পা রাখতে পারেন। ছোট ছোট অনেক ব্যবসা এখন অনলাইন এ সুইচ হচ্ছে তাই ওয়েবসাইট ডিজাইন এর মার্কেট কিন্তু সারা বছর ই ভালোই থাকে।

যদি আপনি একদম নবিশ হন তাহলে আগে ছোট ছোট প্রজেক্ট গুলো ক্র্যাক করার চেষ্টা করুন, তারপর কোনো বড় ওয়েবসাইট এর কাজ হাতে নেবেন।

ওয়েব ডিজাইন এর প্রজেক্ট এ ভালোভাবে কাজ করলে কিন্তু মুনাফা অনেক।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

এই বিনোদন জগতের একটা গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট হলো এই অনলাইন প্লাটফর্ম যেখানে বিভিন্ন ব্যাবসায়ীরা তাদের পণ্য বা সার্ভিস এর প্রচার করে বাজার উন্নত করে।

যেমন টেলিভশন একটা মিডিয়াম প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস প্রমোশন বা এডভার্টাইসমেন্ট এর । তেমনি ফেইসবুক , ইনস্টাগ্রাম , এবং টুইটার হলো সেরকমই স্ট্রং সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মস।

যদি ভালো ভাবে এই মার্কেটিং স্ট্রাটেজি টা রপ্ত করা যায় তাহলে শুধু একটা না এরকম অনেকগুলো বিসনেস প্রোফাইল আপনি হ্যান্ডেল করতে পারবেন। আর সবগুলোই ঘরে বসেই নিজের সময় সুযোগ মত কাজ করে।

কনটেন্ট মার্কেটিং

এটির জন্য আপনাকে বিশেষ কিছু ট্রেনিং নিতে হবেনা।  যদি আপনি খুব ভালো লেখা লেখি করতে পারেন , বা যেকোনো বিষয় নিয়ে বেশ চর্চা করতে পছন্দ করেন, তাহলে এই কাজ টি আপনি সাচ্ছন্দে করতে পারেন।

কনটেন্ট রাইটিং হলো, এখনকার সময় এর একটি ব্রহ্মাস্ত্র। যেকোনো বিসনেস এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হলো এই রাইটিং। শুধু খেয়াল রাখবেন আপনার লেখাটি যেন বেশ আকর্ষণীয় হয় এবং অবশ্যই অরিজিনাল হয়। তাহলে আর কোনো সমস্যা নেই।

ব্লগিং

আজকাল কার যুগে এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কাজ যা করে আপনি ঘরে বসে আয় করতে পারেন। ব্লগিং কি, কিভাবে ব্লগিং শুরু করা যায় এবং ব্লগিং করে কিভাবে টাকা আয় করার উপায় নিয়ে পৃথক তিনটি পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ব্লগিং এর শুরুটা একটু কষ্টকর আর ধৈর্য্য সাপেক্ষ হলেও, একটা সময় এর পর আর্নিং টা বেশ মনের মত হয়। এখনকার সময় এ দ্রুত যদি উপার্জন করতে চান, তাহলে এই ফিল্ড এ আসতেই পারেন।

কিছুটা ধৈর্য্য ও কিছুটা ক্রিয়েটিভিটি , ব্যাস, এই দুই এই পেশার মূল স্তম্ভ।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর নাম শোনেনি এমন মানুষ এর সংখ্যা খুবই কম। তবে কাজ টা আসলে কি, সেটা হয়তো অনেক বিগিনার রাই জানেননা।

আরোও দেখুন – এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করতে হয়

ঘরে বসে অন্যের প্রোডাক্ট সেল করে কমিশন আয় করার কাজটি হল এফিলিয়েট মার্কেটিং। বিভিন্ন নামীদামী সাইট আছে যেখানে আপনাকে সর্বপ্রথম একটি এফিলিয়েট একাউন্ট খুলতে হবে। সেখান থেকে আপনি আপনার নামের একটি ইউনিক লিংক পাবেন প্রতি প্রোডাক্ট এর জন্য বা সার্ভিস এর জন্য।

আপনার কাজ টি হবে খুবই সাধারণ , ওই ইউনিক লিংক গুলোকে আপনার নিজেস্ব ওয়েবসাইট এ বা ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল এ শেয়ার করে দেওয়া। যতজন সেই লিংক এ ভিসিট করবে ও প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পার্চেজ করবে , আপনি সেই পরিমান কমিশন পেয়েযাবেন সেই সাইট থেকে।

এবার নিশ্চই জানতে ইচ্ছে করছে , এরকম কি কি সাইট আছে যেখান থেকে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা নিতে পারেন।

  • Amazon Associates. (ট্রাস্টেড এবং বহুল প্রচলিত)
  • eBay Partners.
  • Shopify Affiliate Program.
  • Click-bank.
  • Awin
  • ShareAsale
  • CJ Affiliate
  • Rakuten Affiliate Network
  • Fiverr

ইউটিউব চ্যানেল

ঘরে বসে আয় করার আর ও একটি পপুলার চয়েস হলো ইউটিউব চ্যানেল। যদি আপনি খুব বলেও গল্প বলতে পারেন , বা কবিতা আবৃত্তি বা গান করেন তাহলে নিজস্ব একটা চ্যানেল খুলে নিন আর তাতে নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করুন।

এখন অনলাইন এ এডুকেশন টাকেও খুব গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তাই আপনি চাইলে আপনার পছন্দ মতো বিষয় এর উপর একটা চ্যানেল খুলতে পারেন। এছাড়া ড্যান্স , কুকিং, ট্রাভেলিং বা vlogging করতে পারেন।

যত বেশি আপনার চ্যানেল এর কনটেন্ট মজাদার ও আকর্ষণীয় হবে তত কিন্তু আপনার ভিউয়ার বাড়বে, সাবস্ক্রাইবার বাড়বে।  তাই চেষ্টা করুন বিভিন্ন বিনোদন প্লাটফর্ম এ ও বন্ধু বান্ধব , পরিবার , সকলের সাথে আপনার ইউটিউব ভিডিও গুলো শেয়ার করতে।

বিশেষ কিছু টিপস

উপরে মাধ্যম ছাড়াও আপনি এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে বেশ কিছু ট্রাস্টেড সাইট এর মাধ্যমে ঘরে বসেই টাকা উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, সেগুলো যেন ফেক না হয়।

কিভাবে বুঝবেন সেগুলো ফেক ?

  • যদি আপনাকে কোনো সিকিউরিটি মানি জমা করতে বলে তাহলে সরে আসুন।
  • একটা সাধারণ কাজের জন্য যদি লোভনীয় মূল্য অফার করে , তাহলে সাবধান।
  • অযথা কোনো রেফারেল লিংক এ প্রবেশ করবেন না।

শেষ কথা

আশা করছি এই ব্লগ টা আপনাদের উপকারে আসবে। ঘরে বসে আয় করার নির্ভরযোগ্য ও ভরসা যোগ্য প্লাটফর্ম ও টেকনিক গুলো আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি , ওগুলো নিয়ে কাজ করুন আর আমাকে জানান আপনাদের মতামত।

যদি এই টপিক এর উপর আরো বিশদে জানতে চান , তাহলে অবশ্যই কমেন্ট এ জানান আমাকে, আমি খুব শীগ্রই আপনাদের প্রশ্নের উত্তর রিলেটেড ব্লগ নিয়ে হাজির হবো।

ততক্ষন , ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন।