ব্লগিং করে কত টাকা আায় করা যায় ও আয়ের উপায়!

যারা ব্লগার হতে চায় তাদের মনে এই প্রশ্নটি উদয় হওয়া খুব স্বাভাবিক যে ব্লগিং করে কত টাকা আায় করা যায়। তবে, তার আগে জীবনের প্রয়োজনীয় তথ্য আদান প্রদানের জন্য লেখা লেখির বিষয়টি আপনার কেমন লাগে।

যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে সুনির্দিষ্ট কোন বিষয় বেছে নিয়ে আপনিও একজন ব্লগার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। যার মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক পোষ্ট লিখে ব্লগে প্রকাশ করে অর্থ উপার্জনসহ আপনি একটি অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করতে পারেন।

এবারে নিচের প্রশ্নগুলি খেয়াল করুন-

  • আপনি কি ব্লগিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন?
  • ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন উপায় কি?
  • ব্লগিং করে কত উপার্জন করা যায়?
  • অর্থ উপার্জনের জন্য আপনার কি বিষয়ে ব্লগিং করা উচিত?

এই প্রশ্নগুলির মধ্যে যেকোনটি যদি আপনি জিজ্ঞাসা করে থাকেন তবে আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের এই গাইডে আপনি এমন সব দিক শিখবেন যা আপনাকে ব্লগিং শুরু করতে সাহায্য করবে।

এই পদ্ধতিগুলি একজন সফল ব্লগারের বহু বছরের পেশাদার ব্লগিং অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছি। কয়েক বছর আগেও, মানুষ শখের বশে ব্লগিং করতো। কিন্তু বিগত কয়েকবছর ধরে মানুষ পূর্ণকালীন কাজ করার পাশাপাশি ব্লগিং শুরু করে যাচ্ছে।

এখনোও ব্লগিং সেইভাবেই কাজ করে, তবে অনেক কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বর্তমান ২০২১ সালে, ব্লগিং একটি লাভজনক অনলাইন পেশা হলেও এর প্রতিযোগীতা অনেক বেড়ে গেছে। বহু মানুষ এই পেশায় প্রবেশের জন্য একটি ব্লগ শুরু করছে। সঠিক দিক নির্দেশনা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই আবার ক্লান্ত হয়ে মাঝ পথে হারিয়েও যাচ্ছে।

তাই, বাস্তবিক অর্থে যদি বলতে হয়, তাহলে শুরুতেই বলে নেওয়া ভাল যে – ব্লগি করে টাকা আয় করা এই সময়ে এতটা সহজ কিছু নয়। এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন কারিগরি জ্ঞান, দক্ষতা, ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতা।

এই গুনগুলি আপনার ভিতর থাকলে ব্লগিং করে কত টাকা আায় করা যায় – পোষ্টটি আপনার জন্য। এর সাথে আলোচ্য পোষ্টে ব্লগিং করে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় তা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।

চলুন শুরু করি।

ব্লগিং করে কত টাকা আায় করা যায়?

যেকোন পেশার মতো (ডাক্তার, আইনজীবী, আর্থিক পরামর্শ), ব্লগিংয়ের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। যেখান থেকে বছরে মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করার রেকর্ড রয়েছে। ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় তা বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন:

  • ব্লগিং এর জন্য আপনি কোন বিষয়টি বা niche বেছে নিতে চাইছেন?
  • এটা শেখার জন্য এবং বাস্তবায়নের জন্য কতটা সময় নিচ্ছেন?
  • আপনি আপনার ব্লগে ভিজিটরের সংখ্যা কেমন?
  • আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোন কোন কৌশলটি প্রয়োগ করেন?

এছাড়া আরো কিছু বিষয়, যেমন-ধারাবাহিকতা, নেটওয়ার্ক, ব্যক্তিগত প্রেরণা এবং লক্ষ্যগুলিও অনেক অবদান রাখে। যাইহোক, ডিজিটাল মার্কেটিং ফিল্ডে আপনার দক্ষতা ব্লগিং এর ক্ষেত্রে সত্যিই আপনাকে দ্রুত এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। ব্লগিং করে কত টাকা আায় করা যায় – বিষয়টি সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারণা লাভের জন্য বিশরা সাইটের এর অন্যান্য নিবন্ধগুলি যেমন ব্লগ কি, ব্লগ সাইট খোলার নিয়ম, অনলাইন ইনকাম ইত্যাদি আর্টিকেলগুলো দেখে আসতে পারেন।

তবে এই মুহুর্তে আমরা ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করবো। আপনার জন্য জিনিসগুলি সহজ করার জন্য, আমি এই গাইডের শেষে ব্লগিং সম্পর্কিত বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।

ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের উপায়

ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি কোন পর্যায়ে ব্লগিং করছেন এবং আপনার ব্লগের ধরণ কি তার ওপর নির্ভর করে আপনি এমন কিছু পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন যা আপনার স্টাইলের সাথে মিলে যেতে পারে।

  • AdSense, Media.net এর মত বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক বিজ্ঞাপন
  • সরাসরি বিজ্ঞাপন
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
  • দেশীয় বিজ্ঞাপন
  • স্পন্সর পোষ্ট
  • ডিজিটাল পণ্য বিক্রয়
  • অনলাইন কোর্স চালু করা
  • অনলাইন পরামর্শ প্রদান করুন
  • আপনার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে অন্যান্য সেবা প্রদান

প্রচলিত বিজ্ঞাপনগুলো ছাড়াও, আপনি অর্থ উপার্জনের অন্যান্য কৌশলগুলি প্রয়োগ করতে পারেন। শুধু বিজ্ঞাপন আনার পরিবর্তে, বিজ্ঞাপনদাতার অধিক উপকার হয় এমন কিছু ভ্যালু যোগ করার জন্যও সচেষ্ট থাকতে হবে।

আপনাকে মনে রাখতে হবে, ৪টি কমদামি এড নেওয়ার চেয়ে একটি বেশী দামি এড গ্রহন করা শ্রেয়।

বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যুক্ত করা

এমন কিছু বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক রয়েছে যা ব্লগ হতে টাকা উপার্জনের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তার মধ্যে যে দুটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক সবচেয়ে জনপ্রিয় তা হচ্ছে-

  • গুগল অ্যাডসেন্স (গুগল অফার করেছে)
  • মিডিয়া.নেট

এই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কগুলিতে অনুমোদন পেতে আপনার একটি ব্লগ থাকতে হবে। তারা আপনার ব্লগ এবং ব্যবহারকারীর আগ্রহের উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেখায়। বেশিরভাগ নতুন ব্লগ এই পদ্ধতিগুলি অর্থ উপার্যনের জন্য ব্যবহার করে। যেহেতু দেখানো বিজ্ঞাপনগুলি উচ্চমানের, তাই সেগুলিতে আপনার ভিজিটরগন বিরক্ত হবে না।

যদি আপনার ব্লগে প্রতিদিন ৩০০ টিরও কম ভিউ থাকে, তাহলে আপনি অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারেন।  যাইহোক, আপনার লক্ষ্য হবে যতো দ্রুত সম্ভব AdSense বা Media.net অনুমোদন পাওয়া।

আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে নিচে একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট যুক্ত করা হলো-

আপনি যদি টেক্সট জাতীয় কোনো বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন এবং এটি থেকে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ উপার্জন না হয়, তাহলে আপনাকে ডিরেক্ট বিজ্ঞাপন বা অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতি যা একজন ইন্টারমিডিয়েট বা অ্যাডভান্সড পর্যায়ের ব্লগারদের জন্য সহজ। অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপন অর্থ উপার্জনের অন্যতম সেরা উপায়। যেহেতু, এর মাধ্যমে একক কোন পণ্য বিক্রয় হলে আপনি তুলনামুলক অনেক বেশী পয়সা উপার্জন করতে পারবেন। যেখানে এডসেন্স বা মিডিয়া নেট এর বিজ্ঞাপনে একেকটি ক্লিকে যে পরিমান পয়সা পাওয় যায় তা সেই তুলনায় নিতান্তই নগন্য।

ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের এই মাধ্যমটি অনেক বেশি লাভজনক হওয়াই বেশিরভাগ ব্লগাররা যারা ব্লগিং থেকে উপার্জন করতে চায় তারা এখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর দিকে ঝুকে পড়ছে।

নীচের স্ক্রিনশটটিতে আপনি এক মাসের মধ্যে একটি প্রোগ্রাম থেকে অনুমোদিত আয় দেখতে পাবেন:

এখানে কিছু জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মার্কেটপ্লেসে এর নাম দেওয়া হলোঃ

  • অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম
  • ShareASale
  • পার্টনারস্ট্যাক
  • ইমপ্যাক্ট রেডিয়াস
  • আউইন
  • কমিশন জাংশন

আপনাকে যা করতে হবে তা হল, আপনি যে পণ্যটি সুপারিশ করছেন তার অনুমোদিত লিঙ্কটি শেয়ার করুন এবং যখন এটি থেকে কেউ ক্রয় করে, আপনি বিক্রয় পরিমাণের উপর নির্দিষ্ট হারে ভাল একটি কমিশন লাভ করবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি পথ ,যেখান থেকে অনেক ব্লগারই প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করা যায় তার উপর ভিন্ন এক পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। দেখে আসতে পারেন।

 নিজের তৈরি ইবুক বিক্রি করে

আপনি যদি লক্ষ্য করেন, দেখবেন যে শীর্ষ ব্লগারদের ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে তাদের নিজস্ব পণ্য (যেমন-ইবুক) বিক্রি করে।

আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, একটি বিষয় বাছাই করতে হবে, এবং সেই বিষয়ে একটি ইবুক কম্পাইল করতে হবে। এরপর এটি আপনার ব্লগে বা অ্যামাজনে বিক্রি করতে পারবেন। একবার আপনি এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে, আপনি অনলাইনে ইবুক বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

তদুপরি, আপনার নিজের পণ্য বিক্রি করা সবচেয়ে ভাল, যা থেকে আপনি প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করতে পারেন। আপনি আপনার নিবন্ধগুলিকে একটি সুগঠিত বইতে সংকলন করতে পারেন এবং এটি আপনার ব্লগে বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে যেমন kdp.Amazon.com- এ অর্থ উপার্জনের জন্য বিক্রি করতে পারেন। আপনি একটি বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইন করতে Fiverr এর মত একটি ফ্রিল্যান্সিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন।

দেশীয় বিজ্ঞাপন

আপনার ব্লগে যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিজিটর আসা শুরু হবে তখন দেশীয় কম্পানি থেকে বিজ্ঞাপন পাওয়ার দরজা আপনার জন্য খুলে যাবে। ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের এটি হলো একটি অন্যতম সেরা উপায়। বিশেষ করে, সংবাদ এবং চাকরি – এই ধরনের ব্লগে দেশীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সত্যিই অনেক অর্থ আয় করা সম্ভব।

অনলাইন কোর্স চালু করে

  • আপনি কি একটি ভিডিওতে আপনার পাঠ্যপুস্তক কনভার্ট করতে পারেন?
  • আপনি একটি ১-২ ঘন্টা ভিডিও কোর্স তৈরি করতে পারেন?

যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে এই পদ্ধতিটি অবশ্যই আপনার জন্য। এখন, আপনি একটি সহজ অনলাইন কোর্স চালু করুন।

আপনার অনলাইন কোর্সগুলো বিক্রি করার জন্য আপনি নিজের ব্লগ ছাড়াও অন্যান্য কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন।

সরাসরি বিজ্ঞাপন

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গুগল অ্যাডসেন্স হলো ব্লগারদের জন্য সেরা বিজ্ঞাপন প্রোগ্রাম। কিন্তু এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হল প্রতি ক্লিকে যে পরিমান অর্থ আপনাকে প্রদান করা হয়।

সেই তুলনায়, আপনি যদি সরাসরি বিজ্ঞাপনে প্রাপ্য অর্থের পরিমান অনেক বেশী। এজন্য, সরাসরি কোন বিজ্ঞাপন পেলে তা এডসেন্স এর বিজ্ঞাপনের জায়গায় প্রতিস্থাপন করে পরিচালনা করতে পারেন।

সরাসরি বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু করার সর্বোত্তম উপায় হল বিভিন্ন নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা এবং নতুন ডিল পেতে আপনার ব্লগে “মিডিয়া-কিট বা আমাদের সাথে বিজ্ঞাপন দিন” নামে একটি ওয়েব পেজ চালু করা। আপনি এই জাতীয় বিজ্ঞাপনগুলি পরিচালনা করতে ওয়ার্ডপ্রেস এর কিছু জনপ্রিয় প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন যা আপনার কাজটি অনেক সহজ করে দিবে৷

স্পনসর রিভিউ

পেইড রিভিউ আপনার মাসিক আয় বাড়ানোর একটি দুর্দান্ত উপায়। আপনি একটি ছোট রিভিউ পোস্ট থেকে দ্রুত ১০$ বা তারও বেশি উপার্জন করতে পারেন।

অর্থ প্রদান করে এমন রিভিউ/স্পন্সর কন্টেন্টের সুযোগ খুঁজতে এখানে কয়েকটি ওয়েবসাইট এর লিংক দেওয়া হলো –

  • Famebit(For YouTube channels)
  • Izea Pay per post
  • Tomoson
  • Revcontent

বিভিন্ন ব্রান্ডের প্রচারের জন্য ক্যাম্পেইন

এটি একটি প্রতিষ্ঠিত টার্গেট অডিয়েন্সসহ যে কোনও ধরণের ব্লগের জন্য এটি উপযুক্ত। আপনি কোনো ব্র্যান্ডের জন্য প্রচারাভিযান চালিয়ে তাদের টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারেন। এর জন্য, আপনি একটি উপযুক্ত ব্র্যান্ড নির্বাচন করবেন, তারপর তা প্রোমোট করার জন্য ওয়েবিনার, ইউটিউব ভিডিও ইত্যাদি কার্যক্রম হাতে নিতে পারেন।

এটি করার সময় আরোও অনেক ব্লগ যে এর সাথে জড়িত তাও দেখতে পাবেন।

অন্যান্য সেবা

আপনার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে, আপনি বিভিন্ন পরিসেবা প্রদান করতে পারেন। আপনি যে বিষয়ে ভালো তার ওপর ভিত্তি করে সেবার বিষয়বস্তু ঠিক করুন। যেমন, হতে পারে – আর্টিকেল লেখা, লোগো তৈরি, এসইও, ওয়েব ডিজাই, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব হোস্টিং ইত্যাদি কমন কিছু সেবা অফার করতে পারেন।

এই পরিষেবাগুলি আপনাকে কেবল অর্থ উপার্জন করতে সহায়তা করে না বরং আপনার দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাকে যা করতে হবে তা হল আপনার ব্লগে একটি পৃষ্ঠা তৈরি করুন এবং আপনি যে পরিসেবাগুলি অফার করছেন তার তালিকা করুন৷ আপনার সাইট ভিজিটর যাতে সহজেই দেখতে পারে এর জন্য ওয়েব পেজটি সাইটের নেভিগেশন মেনুতে যোগ করতে পারেন এবং সাইটের বিশেষ বিশেষ স্থানে সেই পৃষ্ঠার লিঙ্ক প্রয়োগ করতে পারেন।

আপনার অডিয়েন্সের জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করা এবং আপনার পরিসেবা সম্পর্কে আরও জিজ্ঞাসা করার বিষয়গুলি সহজ করুন। আপনি যখন আপনার প্রথম ২-৩ জন ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করবেন, তারপর আপনার সেবা বিক্রয় প্রক্রিয়া আরোও সমৃদ্ধ হবে। আসলে, আপনি অর্থপ্রদান এবং ফলো-আপের মতো কিছু জিনিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে সক্ষম হবেন।

 জীবনধর্মি ব্লগিং করে

এটি ব্লগিংয়ের আরেকটি ক্রমবর্ধমান রূপ যেখানে অনেক মানুষই তাদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে কথা বলে এবং এটিকে ঘিরে একটি কমিউনিটি তৈরি করে। বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউবে আপনি এ ধরনের প্রচুর ভিডিও ব্লগার দেখতে পাবেন।

এই ধরনের ব্লগিং এর জন্য কিছু জনপ্রিয় বিষয় হল:

  • জীবনধারা
  • ফ্যাশন
  • ভ্রমণ
  • মোটিভেশন
  • বিনোদন

এখানে মূল বিষয় হলো এটি বিনোদন হিসেবেই রাখা, সঙ্গে কোয়ালিটি যোগ করা এবং আপনার পারসোনাল ব্র্যান্ডিং এর চারপাশে একটি কমিউনিটি তৈরি করা। আপনার শৈলী এবং সামঞ্জস্যের উপর ভিত্তি করে এই কৌশল খাটিয়ে আপনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

অনেকের মাঝে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করা (রেকর্ডিং, এডিটিং, এবং পাবলিশিং) ইত্যাদিতেও আগ্রহ লক্ষ করা যায়। তবে এর জন্য বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়, ভিডিও এডিটিং -এ দক্ষ হতে হয় – যা বেশীরভাগ লোকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা।

সেই তুলনায় টেক্সট কন্টেন্ট তৈরি করা বেশ সহজ এবং কম সময়ের ব্যাপার। প্রথম প্রথম আপনি টেক্সট কনটেন্টের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন। তারপর সম্ভব হলে এই দুটোর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আপনার অডিয়েন্সের সংখ্য বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেন। যা আপনাকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

আর একটি কথা না বললেই নয়, সেই দিনগুলি চলে গেছে যখন ব্লগাররা ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য শুধুমাত্র অ্যাডসেন্সের উপর নির্ভরশীল ছিল।

আশার কথা হল, এডসেন্স এর বাইরে ব্লগিং করে অর্থ উপার্জনের নতুন নতুন আরও অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন বিকল্প বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক  এর আবির্ভাব হয়েছে, নগদীকরণ পদ্ধতির উন্নতি হয়েছে। যা আপনার ব্লগ থেকে আয়ের সম্ভাবনাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।