ডোমেইন কি? ডোমেইন কিভাবে কাজ করে?

নেট জগতে নবাগতদের ডোমেইন সম্পর্কে পরিস্কার একটি ধারণা থাকা প্রয়োজন। ডোমেইন কি বা ডোমেইন কাকে বলে, ডোমেইন কিভাবে কাজ করে – এই জাতীয় প্রশ্ন মনের মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে।

ইন্টারনেট, ডোমেইন, ওয়েবসাইট, ওয়েবপেজ, ব্লগ ইত্যাদি বিষয় অনলাইন জগতের খুব পরিচিত নামসমুহের অন্যতম। এসব নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই বিষয়গুলির উপর স্বচ্ছ ধারণা থাকলে সামনের পথচলা আরামদায়ক ও সহজ হয়। কারণ, আপনি কি করতে চাচ্ছেন বা কি করছেন – তা আপনাকে পূর্ব থেকে জানতে হবে। সে সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে। যাতে বুঝা যায়, বিষয়গুলি পর্দার অন্তরালে কিভাবে কাজ সমাধা করে যাচ্ছে।

নতুনভাবে যারা আসে তাদের অনেকেই ডোমেইনের নামকে ওয়েবসাইট বা ওয়েব হোস্টিং সার্ভিসের সাথে মিলিয়ে ফেলে। কোনটি কি- তা নিয়ে এদের মাঝে সন্দেহ তৈরি হয়। টার্মসমুহ টেকনিকাল হলেও এটি কোন রকেট সায়েন্স নয়। একটু মনোযোগ দিলে এটি বুঝতে পারা যে কারোও পক্ষেই সম্ভব।

যাহোক, আজকের এই পোষ্টে ডোমেইন কি, ডোমেইন কত প্রকার, ডোমেইন কিভাবে কাজ করে – এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।

ডোমেইন কি?

ডোমেইন কি – সহজে বলতে গেলে, এটি হল আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা যা মানুষ ব্রাউজারের এড্রেস বারে লিকে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে। আরোও সহজে যদি বলি, আপনার ওয়েবসাইট হল একটি ঘর যার ঠিকানা হচ্ছে তার ডোমেইন নাম।

যদি আরোও বিস্তারিতভাবে বলতে যাই,

ইন্টারনেট হচ্ছে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় এক গ্রোবাল নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো একটি অপরটির সাথে ওয়াইফাই বা ক্যাবলস এর মাধ্যমে যুক্ত থাকে। এই নেটওয়ার্কের একটি কম্পিউটার অপরটির সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

প্রত্যেক কম্পিউটারের নিজস্ব আইপি এড্রেস দেওয়া থাকে। এই আইপি এড্রেস দিয়েই ইন্টারনেটের সুনির্দিষ্ট কোন কম্পিউটার সনাক্ত করা যায়। আইপি এড্রেস সংখ্যার দ্বারা বিন্যস্ত থাকে। একটি আদর্শ আইপি এড্রেস এমন দেখায়- 66.249.66.1। ডোমেইনের বেলাতেও ঠিক একই জিনিস। প্রত্যেক ডোমেইনের এক একটি নিজস্ব আইপি এড্রেস থাকে। ওয়েবসাইট আবির্ভাবের প্রথম পর্যায়ে আইপি এড্রেস দিয়েই কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হত।

এতে পরবর্তিতে সমস্যা দেখা দিল, তা হল – সংখ্যায় প্রকাশিত এমন আইপি এড্রেস মনে রাখা বেশ জটিল।

ধরুন, এমনভাবে সংখ্যায় সাজানো কোন আইপি এড্রেস দিয়ে যদি আপনাকে নির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইট ভিজিট করতে বলে, তাহলে এটি আপনার কাছে কেমন শুনাবে?

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় হিসাবেই আমাদের মাঝে ডোমেইন কথাটি চলে এল। এর মাধ্যমে আইপি এড্রেস দিয়ে ওয়েবসাইটে ঢুকার যুগের সুন্দর একটি পরিসমাপ্তি ঘটল। এখন যেকোন ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য তার ডোমেইনের নাম মনে রাখলেই হল। ডোমেইনের নাম সংখ্যার পরিবর্তে যেহেতু আক্ষরিকভাবে হয়, তাই এটি মনে রাখা তুলনামুলক অনেক সহজ।

এজন্যই, একটি কথা প্রচলিত – কোন সমস্যা সনাক্ত করা গেলে তার সমাধানের রাস্তাও খুঁজে পাওয়া যাবে।

ডোমেইন কিভাবে গঠিত হয়?

আপনি যখন একটি ডোমেইন কিনতে যাবেন, তখন ডোমেইন কি – সম্ভবত এর উপর আপনার একটি পূর্ব ধারণা আছে। কিন্তু অনেক লোক থাকতে পারে যাদের নিকট বিষয়টি তেমন পরিস্কার নয়। বিশেষ করে ডোমেইন এর নাম, টপ লেভেল ডোমেইন, সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন, থার্ড লেভেল ডোমেইন, সাব ডোমেইন, ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর – ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সন্দেহে পড়ে যায়।

আপনি তাদের মত একজন হয়ে থাকলে, পোষ্টের এই অংশটি আপনার জন্য গুরত্বপূর্ণ। কেননা, আপনি ডোমেইন কি বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সম্পর্কে পরিস্কার একটি ধারণা পাবেন। কিভাবে ডোমেইন গঠিত হয় তা জানা থাকলে আপনি এদের একটির সাথে অপরটির পার্থক্য বুঝতে পারেবেন।

ডোমেইন হল একটি নাম যার সাহায্যে ইন্টারনেট থেকে সুনির্দিষ্ট কোন ওয়েবসাইটের ঠিকানা খুঁজে বের করা যায়। ডোমেইনের নাম সাধারণত: দুই বা তিনটি ভাগে বিভক্ত যা পরস্পর থেকে ডট এর সাহায্যে পৃথক থাকে।

চলুন, তাহলে একটি উদাহারণ দিয়ে শুরু করি-

www.bishra.com

এই এড্রেসটি তিনটি অংশে বিভক্ত:

  • ডটের পূর্বের অংশ – www
  • দুই ডটের মধ্যবর্তি অংশ – bishra
  • দ্বিতীয় ডটের পরের অংশ – com

প্রথম অংশ: www

উপরে উল্লেখিত তিনটি অংশের প্রথম অংশ হচ্ছে www যার দ্বারা বুঝায় world wide web. এই অংশের কাজ হল ব্রাউজারে কোন ধরণের পেজ প্রদর্শন করা হবে তা ঠিক করে দেওয়া। তবে, অনেক ওয়েব ঠিকানায় এই অংশটি বাদ দেওয়া হয় এবং এর জায়গায় অন্য কোন নাম বসতে পারে।

যেমন- shop.bishra.com

তাহলে দেখা যাচ্ছে উপরের ওয়েব এড্রেসে ‘www’ এর স্থলে ‘shop’ বসেছে। এই ধরণের ঠিকানাকে সাব ডোমেইন বলে। অর্থাৎ এটি হল ‘bishra’ সাইটের সাবডোমেইন। সাব ডোমেইন অংশটিকে আবার থার্ড লেভেল ডোমেইন বলা হয়।

দ্বিতীয় অংশ: Bishra

এটিই হল আপনার ডোমেইনের মুল অংশ যাকে সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন বলা হয়। ডোমেইনের এই অংশের নামকে মানুষ ব্র্যান্ডের মত মনে রেখে ব্রাউজারের এড্রেসবারে লিখে কোন সাইটে প্রবেশ করে। এটি হচ্ছে  ইউনিক একটি নাম। ডোমেইন কেনার সময় এই নামে আপনার ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন হয়ে যাবে। রেজিষ্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর সারা বিশ্বের দ্বিতীয় কেউ পুনরায় এই নামে রেজিস্ট্রেশণ করতে পারবে না।

এই মুল ডোমেইন নামের নিম্নলিখিত নিয়ম রয়েছে-

  • এখানে খালি স্পেস রাখার সুযোগ নেই।
  • এটি case sensitive নয়। অর্থাৎ, ডোমেইনের নাম আপনি বড় হাতের বা ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে লিখলে কোন সমস্যা হয় না। তবে, উত্তম চর্চা হল – ছোট হাতের অক্ষর ব্যবহার করা।
  • ডোমেইন নামের ভিতর হাইফেন বা সংখ্যা ব্যবহার করা যায়। যেমন, bd-megh.com বা com ‍।
  • স্পেশাল ক্যারেক্টার যেমন @, #, $, % & ; ব্যবহার করা যায় না।
  • ডোমেইন সর্বোচ্চ ৬৩ ক্যারেক্টার বহন করতে পারে।

তৃতীয় অংশ: .com

এই তৃতীয় অংশকে ডোমেইন এক্সটেনশন বলা হয় যা টপ লেভেল ডোমেইন (TLD) নামে পরিচিত। এই TLD আবার দুই প্রকার হতে পারে, যেমন-

  • Generic: যেমন .com, .net, .org ইত্যাদি।
  • Country Specific: যেমন, ‍ae, .in, .jp, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুগলের ডোমেইন google.com, বাংলাদেশের জন্য google.com.bd ইত্যাদি।

এই ডোমেইন এক্সটেনশন দেখে ওয়েবসাইট সম্পর্কে একটি পূর্ব ধারণা পাওয়া যায়। যেমন, .com – সাধারণত বাণিজ্যিক সাইটের বেলায়, .org – নন প্রোফিট ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে, .edu – শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য, .gov – সরকারি প্রতিষ্টানে ব্যবহৃত হয়।

তবে, এখানে আর একটি জিনিস জেনে রাখা ভাল – যা হল প্রটোকল। এটি ওয়েবসাইট url এর প্রথম অংশ। URL সম্পর্কে অপর এক পোষ্টে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রটোকল হচ্ছে কোন ওয়েবসাইটের প্রথম অংশ যার প্রচলিত রুপ হচ্ছে  http:// (hyper text transfer protocol). এটি সম্পর্কে আরোও জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

ডোমেইন কিভাবে কাজ করে?

আমাদের মাঝে জানার এক প্রকার কৌতুহল কাজ করে যে, কোন ওয়েবসাইট ভিজিটের সময় ডোমেইন জিনিসটি কিভাবে কাজ করে। বিষয়টি বুঝতে পারলে আপনার নিকট অনেকটা মজার মনে হবে।

তাহলে চলুন দেখা যাক, আসলে ডোমেইন কিভাবে কাজ করে। যখন কোন ইন্টারনেট ইউজার ব্রাউজারে কোন ডোমেইন বসায়, তখন কি ধরণের ঘটনা ঘটে? ইউজারের কম্পিউটার স্ক্রীনে আপনার বা অন্য কারোও ওয়েবসাইট কিভাবে লোড হয় বা দৃশ্যমান হয়?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজে বুঝার জন্য আপনাকে প্রথমে ইন্টারনেট কি ও কিভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে।

ইন্টারনেট হল একটি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক যার ভিতর লক্ষ কোটি কম্পিউটার এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যুক্ত থাকে। ইন্টারনেটের সাহায্যে আপনি যে কোন তথ্য নিমিষেই যোগার করতে পারেন। বিশ্বের যে কোন প্রান্তে অবস্থিত যে কারোও সাথে মুহুর্তেই যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া, আরোও অনেক কিছুই ইন্টারনেটের সাহায্যে করা যায়।

এর জন্য আপনাকে যা করতে হয়, তা হল, আপনার কম্পিউটার বা ডিভাইসটি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে নেওয়া। যুক্ত হয়ে গেলেই আপনি চলে গেলেন অনলাইনে। যদি কেউ বলে কম্পিটারটি অনলাইনে রয়েছে; এর দ্বারা এটাই প্রকাশ করে যে, এটি ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত আছে।

তাহলে, বন্ধুগন, এই আলোচনা থেকে এতটুকু বুঝা গেল, এই লক্ষ-কোটি কম্পিউটার বা ডিভাইসগুলো একটি অপরটির সাথে ইন্টারনেট এর সাহায্যে যুক্ত।

মনে রাখার বিষয় যেটি – প্রতিটি কম্পিউটার বা ডিভাইসের নিজস্ব আইপি এড্রেস থাকে। আইপি এড্রেস হচ্ছে একটি ইউনিক নাম্বার যার সাহায্যে ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার বা ডিভাইসকে সনাক্ত করা হয়। আইপি এড্রেস কতগুলো সংখ্যা দ্বারা গঠিত যারা পরস্পর থেকে ডট এর মাধ্যমে পৃথক থাকে। যেমন, 73.14.213.99 – এটি একটি আইপি এড্রেস।

আবার এই পোষ্টের শুরুত, ডোমেইন কি বা কাকে বলে এর আলোচনায় আমারা জানতে পেরেছি, প্রতিটি ডোমেইন নামের বিপরীতে এক একটি আই পি এড্রেস থাকে। প্রতিটি ডোমেইনের জন্য একটি করে আইপি এড্রেস নির্দিষ্ট করার জন্য আপনার আর একটি জায়গার প্রয়োজন হবে যেখানে ঐ ডোমেইন এবং তার সাথে নির্দিষ্ট করা আইপি এড্রেসের তথ্য জমা থাকে। অনেকটা ম্যাপের মত যা আপনাকে সঠিক ডিরেকশনে চলার নির্দেশনা প্রদান করে। ডোমেইনের বেলায় এই ম্যাপকে বলা হয় Domain Name System বা DNS.

এক কথায়, DNS হল কতগুলি বিশেষ ধরণের সার্ভার যার কাজ হল ডোমেইনের সাথে সংশ্লিষ্ট সঠিক আইপি এড্রেসের এর সংযোগ ঘটানো। যখন কেউ ব্রাউজারে আপনার ডোমেইন বসায় তখন ব্রাউজার DNS বরাবর একটি অনুরোধ পাঠায়। DNS তখন ঐ ডোমেইনের সাথে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আইপি এড্রেসের তালাশে লেগে যায় এবং খুঁজে পাওয়ার পর তা যে হোস্টিং সার্ভারের হোস্ট করা থাকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়।

এরপর, হোস্টিং সার্ভারের কম্পিউটার থেকে ইউজারের চাহিদা অনুযায়ি তথ্য সংগ্রহ করে তার ব্রাউজারে ফেরত পাঠায়। এভাবেই, একজন ভিজিটর ডোমেইন এর নাম ব্রাউজারে লিখে কোন ওয়েবসাইটের যেকোন তথ্য দেখতে পারে। এর পিছনে ডোমেইন এভাবেই কাজ করে।

 

ডোমেইন কেনার নিয়ম কি?

যে কেউ ডোমেইন কিনতে পারে। এজন্য আপনাকে যেতে হবে একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রার কম্পানির নিকট। জনপ্রিয় কয়েকটি ডোমেইন রেজিস্ট্রারের নাম নিম্নরুপ

উপরে ডোমেইন রেজিস্ট্রার কম্পানির লিংক এ ক্লিক করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সেখানে গিয়ে প্রথমে চেক করে দেখুন আপনার পছন্দের ডোমেইনটি খালি আছে নাকি ইতোমধ্যে অন্য কেউ কিনে নিয়েছে। কিনে নেওয়া মানে এর নির্ধারিত ফি পরিষোদ করে নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করে নেওয়া।

যে ডোমেইন এখনোও রেজিস্ট্রেশন হয়নি, আপনি কেবল সেটিই নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এর মালিকানা ধরে রাখতে হলে আপনাকে বছর বছর সেই রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে হবে।

ডোমেইন ও ওয়েবসাইটের মধ্যে পার্থক্য কি?

আপনি যদি ওয়েব জগতে নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে ডোমেইন, ওয়েবসাইট, ওয়েবপেজ, url ইত্যাদি টার্মস প্রায়ই শুনে থাকবেন। কারণ, এক কথায় বলতে গেলে – এখানে আপনার কাজ হবে এসব নিয়েই। তবে, বিষয়গুলি পরস্পর কাছাকাছি হওয়ায় এদের মধ্যে পার্থক্য খুজে পাওয়া প্রথম প্রথম কঠিন মনে হতে পারে।

তাই, ডোমেইন ও ওয়েবসাইটের পার্থক্যের মধ্যে বেসিক দু’একটি কথা বলা দরকার।

আপনি ইতোমধ্যে ডোমেইন কি বা কাকে বলে- সে সম্পর্কে উপরে দেওয়া সঙ্গা থেকে ইতোমধ্যে ধারণা পেয়েছেন। এদের পার্থক্য সম্পর্কে পরিস্কার হওয়ার জন্য, নিচের চিত্রটির দিকে খেয়াল করুন-

ডোমেইন কি

উপরের চিত্র অনুযায়ি খুব সহজ ভাষায় যদি বলি,

ডোমেইন নেম হচ্ছে ওয়েব এড্রেস যা কোন ওয়েবসাটে প্রবেশের কাজে ব্যবহৃত হয়। ওয়েবসাটে প্রবেশের কাজে কিভাবে ব্যবহৃত হয়? ডোমেইনের নামটি ব্রাউজারে লিখে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হয়। ডোমেইন নেমকে আপনি শুধু ডোমেইন বলেও ডাকতে পারেন। ডোমেইন কি তা যদি আরোও সুনির্দিষ্টভাবে বলি তাহলে আপনার ব্যবহৃত ইমেইল এড্রেসের @ এর পরের অংশটিকে বলা হয়।

ধরুন আমার ইমেইল এড্রেস – ‍[email protected]

তাহলে ডোমেইন হবে শুধু bishra.com – এতটুকুই।

অপরদিকে, ওয়েব ব্রাউজারে ডোমেইনের নাম বসানোর পর কম্পিউটার স্ক্রিণে যা দেখা যায়, তাই হল ওয়েবসাইট। আরেকভাবে বলতে গেলে, ওয়েবসাইট হচ্ছে কতগুলি পেজ এর সমষ্টি যা সুনির্দিষ্ট কোন ডোমেইনের উপর বাস করে।

একটি ওয়েবসাইটের জন্য নিচের জিনিসগুলির প্রয়োজন হয় –

  • একটি ডোমেইন নাম
  • একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রার যার থেকে ডোমেইন কিনবেন
  • হোস্ট করার জন্য ওয়েব সার্ভার
  • ওয়েবসাইট বিল্ডার যেমন, squareSpace বা wix
  • ডিজিটাল কনটেন্ট যেমন- টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও ও অ্যান্য মিডিয়া ফাইল। সাইটে প্রবেশের পর যা ভিজিটর দেখতে পায়।

উপরের আলোচনায় লক্ষ করেছেন ডোমেইন কিভাবে গঠিত হয়। আর এখন দেখতে পেলেন ওয়েবসাইট তৈরিতে কি কি লাগে। তাহলে বুঝা গেল, ওয়েবসাইটের একটি অংশ বা উপাদান হল ডোমেইন।

ডোমেইন এবং ওয়েবসাইটের পার্থক্য প্রসঙ্গে পরিশেষে বলতে চাই –

একটি ডোমেইন কেনার অর্থ এই নয় যে আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে যতক্ষণ পর্যন্ত না তকে ওয়েব সার্ভারে হোস্ট না করা হয়। এরপর আপনাকে ওয়েবসাইটের ডিজাইন সহ বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তারপর হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট।

ডোমেইন হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের নাম। ডোমেইনের সাথে আরেকটি কথাও এসে যায় তা হল url যার অর্থ যেভাবে আপনি ঐ ওয়েবসাইটটি খুঁজে পাবেন। আর ওয়েবসাইট হল ব্রাউজারে ডোমেইন এর নাম বসানোর পর মানুষ যা দেখতে পায় এবং সেখানে যেভাবে প্রতিক্রিয় ব্যাক্ত করে।