ওয়েবসাইট কি? ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

ওয়েবসাইট কি – বিষয়টি সম্পর্কে কিছু তথ্য নিয়ে চলে এলাম। যদিও অনেকেরই এ বিষয়ে ধারণা রয়েছে।

নেট তালাশ করে তথ্য যোগার করা আজ আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের একটি অতি সাধারণ ঘটনা হিসাবে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন আমরা অসংখ্য ওয়েবসাইটের সাথে consult করছি আমার কাংখিত তথ্যটি খুজে পেতে। কিন্তু আমরা কি কখনোও ভেবিছি – ওয়েবসাইট কি বা ওয়েবসাইট কাকে বলে এবং বাস্তবিক অর্থে ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করে?

প্রশ্নটি কিন্তু একেবারেই অমুলক নয়। হ্যা, আমাদের জানা দরকার নিত্য ব্যবহার্য্য এই জিনিসটি কিভাবে কাজ করছে।

এই প্রশ্ন এবং এর সাথে আনুষঙ্গিক আরোও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতেই আজ চলে এলাম এই টপিকস টি নিয়ে।

আজ আমি ওয়েবসাইটের বেসিক কিছু বিষয় যে, ওয়েবসাইট কি, ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করে, ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে, ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম এবং ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় – ইত্যাদি বিষয়ে প্রাথমিক একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

তাহলে, চলুন শুরু করি।

ওয়েবসাইট কি?

ওয়েবসাইট হচ্ছে একটি ইউনিক ডোমেইন এর অধীনে কতগুলে ওয়েব পেজের সমষ্টি যা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। সব ওয়েবসাইটের প্রতিটি ওয়েবপেজ এর বিপরীতে এক একটি লিংক বা হাইপার লিংক থাকে। এই লিংকগুলো অধিকাংশ সময় কোন টেক্সট এর উপর থাকে যা ক্লিক করে আমরা সেই ওয়েবসাইটের এক পেজ থেকে অপর পেজে বিচরণ করি।

কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হলে তার ডোমেইনের নাম ব্রাউজারের এড্রসবারে টাইপ করতে হয়। তারপর ব্রাউজার ঐ ওয়েবসাইটের প্রধান পেজ অর্থাৎ হোম পেজ প্রদর্শন করবে।

ওয়েবসাইট কি –উপরের আলোচনা থেকে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া গেল। যা কিনা এক কথায় কতগুলো ওয়েবপেজ এর সমষ্টি। তাহলে, এই সুত্র ধরে আর প্রশ্ন এসে দাড়ায় –

ওয়েবপেজ কাকে বলে?

ওয়েবপেজ এককভাবে কোন সাধারণ ডকুমেন্ট এর নাম যা ব্রাউজারে ডিসপ্লে করা যায়। আর HTML ভাষা প্রয়োগ করে এই ডকুমেন্ট তৈরি করতে হয়। HTML এর অর্থ হল Hyper Text Markup Language.

ওয়েবসাইট কোন ওয়েব সার্ভারে রাখতে হয় যাতে যে কোন সময় ইন্টারনেট ইউজার তার ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারে। ওয়েব সার্ভার হল একটি কম্পিউটার যা অনলাইনে কোন ওয়েবসাইট হোস্ট করে। হোস্টিং কথাটির অর্থ – ওয়েবসাইটে সমস্ত ওয়েবপেজ এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সহায়ক ফাইল সেই কম্পিউটার হোস্ট হিসাবে ধারণ করে।

ব্রাউজারের মাধ্যমে কোন ইউজার এর কোন অনুরোধ ওয়েব সার্ভারে পাঠানো হলে ওয়েব সার্ভর সেই অনুরোধের জবাব হিসাবে ওয়েবসাইটের সুনির্দিষ্ট সেই পেজ ইউজার এর নিকট প্রেরণ করে।

তাহলে উপরের আলোচনা থেকে ওয়েবসাইট কি বা ওয়েবসাইট কাকে বলে এবং এর সাথে প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে ধারণ পাওয়া গেল।

ওযেবসাইটের কাজ কি?

ওয়েবসাইট কি – বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা হলে এর কাজ সহজেই অনুমান করা যায়।

ওয়েবসাইটের প্রধান কাজ হল মানুষের নিকট তথ্য সরবরাহ করা। ওয়েবসাইট থাকার কারণে আমরা আমাদের চাহিদামত যেকোন তথ্য খুব সহজে পেয়ে থকি আবার নিজেদের তথ্যও প্রেরণ করতে পারি। যেমন, অনেক ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ফর্ম থাকে যা আমরা পূরণ করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রেরণ করতে পারি।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে প্রতি সেকেন্ডে নতুন নতুন বিষয় অনলাইন তথ্য ভান্ডারে বা ওয়েবসাইটে জমা হচ্ছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রদত্ত সেই তথ্যসমুহ আমরা পৃথিবীর যে কোন দেশে থেকে মুহুর্তের মধ্যেই সংগ্রহ করতে পারি।

তথ্য সরবরাহের কাজ ছাড়াও, ওয়েবসাইট নিম্নলিখিত কাজ সম্পাদন করে-

১. যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে:

যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্যের আদান প্রদান ঘটে যদি যা সাধারনত: দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগ। যার মাধ্যমে উভয় পক্ষই তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ করতে পারে। যেমন, কোন ওয়েবসাইটের মেসেঞ্জার, লাইভ চ্যাট, কমেন্ট বক্স ইত্যাদি এপ্লিকেশনের মাধ্যমে তথ্য লেনদেন হয়।

২. শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে:

দেশ-বিদেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে কোভিড কালীন সময়ে এর ব্যাপক প্রচলন লক্ষ করা গিয়েছে। আর এই ই-লার্নিং প্রক্রিয়াটি ওয়েবসাইট দিয়েই করা হচ্ছে। এছাড়া, ওয়েবসাইটে বিভিন্ন শিক্ষামুলক বিষয় বা টিউটোরিয়ালের সিরিজ দেওয়া থাকে যা আমরা ঘরে বসে সেই ওয়েবসাইটগুলো থেকে পেতে পারি।

৩. ব্যবসায়িক কাজে ওয়েবসাইট:

বিশ্বব্যাপি নামি দামি কম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবা অনলাইনে প্রোমোট করছে। যা ওয়েবসাইটের কারণেই সম্ভব হয়েছে এবং এর দ্বার ব্যবসা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। এছাড়া, ওয়েবসাইটে ই-কমার্সের প্রচলন হওয়ার পর আলিবাবা বা অ্যামাজনের মত বিশ্বের সেরা কম্পানি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা পরিচালনা করতে সমর্থ হয়েছে।

৪. বিনোদনমুলক কাজে:

অনলাইন গেইমিং, মিউজিক সাইট, খবরের লাইভ স্ট্রিমিং ইত্যাদি বিষয়গুলি কোন না কোন ওয়েবসাইটের অংশবিশেষ যার থেকে এ ধরণের কনটেন্ট সরবরাহ করার সুযোগ থাকে।

ওয়েবসাইট কত প্রকার?

ইন্টারনেটে প্রায় ২ বিলিয়ন ওয়েবসাইট রয়েছে বলে জানা যায়। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ উদ্দেশ্য সামনে রেখে ওয়েবসাইট তৈরি করি। যেহেতু প্রত্যেকের প্রয়োজন বা উদ্দেশ্য এক রকম হতে পারে না, তাই বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম প্রয়োজন পূরণের স্বার্থে ওয়েবসাইটও বিভিন্ন প্রকারের হবে – এটিই স্বাভাবিক।

তবে, ওয়েবসাইটের প্রকারভেদের মধ্যে যেগুলো সচারাচ আমরা দেখতে পাই, তার কয়েকটি নিচে উল্লেখ করছি-

  • ব্লগ: ব্লগ ওয়েবসাইট এর উৎপত্তি web log থেকে হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এটি খুব জনপ্রিয় এক ধরণের ওয়েবসাইট। এটি আপনি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন।
  • কর্পোরেট: এটি ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট যেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কম্পানির বিভিন্ন পণ্য বা সেবার কথা উল্লেখ থাকে।
  • ব্রোশিউর : এই ওয়েবসাইট তথ্য সরবরাহের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। যার মাধ্যমে একটি store এর বিদ্যমান স্টক, মুল্য ইত্যাদি বিষয়ের উপর সাধারণ কিছু তথ্য প্রদান করে।
  • ই-কমার্স: এর আবার ব্রোশিউরের চেয়ে আর এক ধাপ এগিয়ে। যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে নিজের কম্পিটার ব্যবহার করে অনলাইনে কেনা কাটা করতে পারেন।
  • নিউজ বা ম্যাগাজিন: বর্তমান বিশ্বের ছোট বড় প্রায় সব পত্রিকার অনলাইন ভার্সন রয়েছে। এই ধরণের ওয়েবসাইট হচ্ছে নিউজ বা ম্যাগাজিন ওয়েবসাইট।
  • সোশ্যাল মিডিয়া: এটিকে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় বললেও ভূল হবে না। যার প্রকৃষ্ট উদাহারণ ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি।
  • শিক্ষামুলক: যেমন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট যেখান থেকে ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ওয়েবসাইট যেখানে গিয়ে আপনি বিভিন্ন অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহন করতে পারেন। যেমন, coursera.org আজকের দিনের জনপ্রিয় একটি শিক্ষামুলক সাইট।
  • উইকি বা কমিউনিটি ফোরাম

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি জিনিস লাগে তা বিবেচনায় নিয়ে আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরির কাজে হাত দিতে হবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আজকাল বিভিন্ন পণ্য বা সেবার প্রচার প্রচারণার কাজ ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়। আপনার সম্ভাব্য কাস্টোমার আপনার কম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হরেক রকম পণ্য বা সেবা সম্পর্কে অগ্রিম ধারণা নিতে পারবে।

যাহোক, ওয়েবসাইটের কাজ কি –  আলোচনায় এসব কথা ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে – তার উপর সংক্ষিপ্ত একটি ধারণা দিব।

১. ডোমেইন:

ওয়েবসাইট তৈরি করতে সবার আগে যে জিনিসের প্রয়োজন হবে তার নাম ডোমেইন। এটি হবে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ঠিকানা যার সুত্র ধরে মানুষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবে বা আপনার থেকে তথ্য নিতে পারবে।

যেমন, কোন ওয়েবসাইটের ডোমেইনের নাম : www.yourwebsite.com

এখানে www এটির পূর্ণ ‍রুপ হচ্ছে world wide web. অনেকে এটিকে ইন্টারনেটের সমর্থক শব্দ মনে করে। আসলে ব্যাপারটি তা নয়। world wide web সাধারণ মানুষের নিকট web নামেও পরিচিত। এটি হতে পারে ইন্টারনেট এর একটি অংশ বিশেষ মাত্র। ইন্টরনেট হচ্ছে বৃহত পরিসরের একটি নেটওয়ার্ক যার ভিতর জমা থাকে অনলাইনের যাবতীয় তথ্য ভান্ডার। যেমন ধরুন, Telnet, FTP, e-mail ইত্যাদি যেমনভাবে ইন্টারনেটের এক একটি অংশ তেমনি world wide web জিনিসটিও ইন্টারনেটের একটি অংশ।

World wide web হচ্ছে সমস্ত অনলাইন কনটেন্টের নেটওয়ার্ক যা html ভাষায় ফরমেট করা থাকে এবং সেই কনটেন্ট http request এর মাধ্যমে ব্রাউজার এবং ওয়েব সার্ভারের মধ্যে আদান প্রদান ঘটে।

World wide web ১৯৯১ সালে Tim Berners-Lee কর্তৃক সর্বপ্রথম ডিজাইন করা হয়।

যাহোক, ডোমেইনের যে উদাহারন উপরে দেওয়া হয়েছে তার শুরুতেই সেই ‘www’ কথাটি উল্লেখ রয়েছে। যদিও এটি আবশ্যক নয়। ইচ্ছে হলে আপনি এটি বাদ দিয়েও আপনা ওয়েব এড্রেস ব্যবহার করতে পারেন।

এর পরের অংশটি ‘yourwebsite’ এটি হবে আপনার পছন্দকৃত কোন নাম। যেমন, www.bishra.com এর ক্ষেত্রে ‘bishra’ নামটি ‘yourwebsite’ এর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এর পরের অংশটি  ‘.com’ যাকে ডোমেইন এক্সটেনশন বলা হয়। ডোমেইন এক্সটেনশন আপনি .net বা .org যে কোনটিই বেছে নিতে পারেন।

তো, আশা করি ডোমেইন এর বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এভাবে আপনার ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন এর নাম ঠিক করে নিবেন।

২. হোস্টিং:

ওয়েব হোস্টিং হচ্ছে আপনার থেকে দুরে অবস্থিত কোন সার্ভার যেখানে আপনার ওয়েব কনটেন্ট রাখা হয় বা হোস্ট করা হয়। এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটের যাবতীয় কনটেন্ট সব সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারির নাগালের ভিতর থাকে। যখন তখন সে তার কম্পিউটারের ব্রাউজারে আপনার ওয়েব এড্রেস লিখে সেখানে ভিজিট করতে পারে।

আপনি কোন ধরণের হোস্টিং বেছে নিবেন তা নির্ভর করবে আপনার ভিজিটরের সংখ্যার উপর এবং আপনার কি পরিমান স্টোরেজ এর জায়গার প্রয়োজন হতে পারে তার উপর।

ওয়েব হোস্টি সাধারণত: দুই প্রকার হয়, যেমন-

  • Shared Hosting: অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে আপনার ওয়েবসাট যখন share করে একই সার্ভারে রাখা হয় তখন তাকে shared hosting বলা হবে। যেমন ধরুন, আপনি একটি ‍ছাত্র ডরমিটরিতে উঠবেন যেখানে এর থাকার রুম, রান্না ঘর, বাথরুম ইত্যাদি অন্যদের সাথে share করে থাকতে হয়।
  • Dedicated Hosting: এটির বেলায় পুরো সার্ভারটি আপনার। এখানে অন্য কারোও ওয়েবসাইটের কোন জায়গা নেই। এখন আপনি সম্পূর্ণ পৃথক একটি রুম ভাড়া নিচ্ছেন যার সাথে রয়েছে attached bath ও attached kitchen. তবে, এ ধরণের সার্ভার ছোট খাট ওয়েবসাইটের জন্য নয়। বড় সর ওয়েবসাইট হলে এবং যদি তার ভিজিটরের সংখ্যা প্রচুর হয় তখন ডেডিকেটেড সার্ভারের প্রয়োজন হয়।

৩. ওয়েবসাইট প্লাটফর্ম:

বাজারে অনেক ওয়েবসাইট বিল্ডার বা প্লাটফর্ম রয়েছে যা ব্যবহার করে আপনি সহজেই একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারেন। তবে, আমি আপনাকে self-hosted WordPress ব্যবহার করতে সুপারিশ করি।

বর্তমান বিশ্বে ওয়েবসাইট তৈরির সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্মের নাম WordPress. সারা বিশ্বে ইন্টারনেট জগতে যত ওয়েবসাইট আছে তার প্রায় ৩০% ওয়েবসাইট WordPress দিয়ে তৈরি।

WordPress একটি ফ্রি এবং open source প্লাটফর্ম যেখানে রয়েছে শত সহস্র ডিজাইন, টেমপ্লেট বা থিম এবং প্লাগ-ইন। এর এত বেশী জনপ্রিয়তার কারণ হল, এটি খুব ব্যবহার বান্ধব। আপনি নতুন হয়েও খুব সহজে WordPress দিয়ে তৈরি কোন ওয়েবসাইট চালিয়ে যেতে পারবেন। এর জন্য আপনার ওয়েব প্রোগ্রামার বা কোডিং জানার প্রয়োজন হবে না।

এই হল ওয়েবসাইট তৈরির তার মুল উপকরণ। এছাড়া, আরোও কিছু সংশ্লিষ্ট জিনিস যেমন SSL security, SEO, loading speed, , tracking, analysis ইত্যাদি বিষয় প্রয়োজন হবে। যা পরবর্তিতে ধীরে ধীরে করা যেতে পারে। SSL security অনেক সময় হোস্টিং কেনার সময় ফ্রি অফার করা হয়। আপনার ওয়েব কনটেন্ট সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানোর জন্য SEO কাজ করতে হয়। আর ওয়েবসাইটের পারফরমেন্স মনিটরিং এর জন্য বিভিন্ন টুলস এর সাহায্যে সময়ে সময়ে tracking ও analysis করতে হয়।

ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ এর মধ্যে পার্থক্য কি?

ইন্টরনেট ব্রাউজিং এর প্রসঙ্গ এলে webpage এবং website টার্মস দু’টির ব্যপক প্রচলন লক্ষ করা যায়। এই দু’টি টার্মস প্রাসঙ্গিক হওয়ায় অনেকে দু’টোকে একই জিনিস মনে করে। কিন্তু, বিষয়টি কি আসলে তাই?

না, webpage এবং website বিষয় দু’টি এক জিনিস নয়। এদের মাঝে বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান।

তাই, ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ এর মধ্যে পার্থক্য কি – চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ এর মধ্যে পার্থক্য জানা থাকলে এদের নিয়ে কাজ করা আমাদের জন্য আরোও সহজ হবে। এ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকলে আপনি যখন একটি ওয়েবসাইটের একটি পেজ ব্রাউজ করেন এবং ওয়েবসাইটের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেভিগেট করেন – এইসব বিষয় তখন পরিস্কার বুঝতে পারবেন।

চলুন, প্রথমে ওয়েব পেজের সঙ্গার দিকে তাকাই –

ওয়েবপেজ কি?

ওয়েবসাইটের একক কোন ডকুমেন্টকে ওয়েবপেজ বলা হয়। প্রত্যেক ওয়েবপেজ এর একটি সুনির্দিষ্ট বা ইউনিক url থাকে। যা ব্রাউজারে দিয়ে আপনি সেই পেজটিতে প্রবেশ করতে পারেন। ওয়েবসাইটের অধিকাংশ url একটি অপরটির সাথে হাইপার লিংক প্রযুক্তির সাহায্যে যুক্ত থাকে। যার ফলে আপনি এক পেজ থেকে অপর পেজ-এ নেভিগেট করে যেতে পারেন। আর এভাবেই আপনার গোটা ওয়েবসাইটের একটি সাইট ম্যাপ তৈরি করা সম্ভব হয়।

আপনি কোন ধরণের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করছেন তার উপর ভিত্তি করে ওয়েবপেজসমুহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে তৈরি করা যায়। এদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ল্যাঙ্গুয়েজ এর নাম html, php, python, perl ইত্যাদি। সাধারণত: স্টেটিক ওয়েবসাইট নির্মাণে html ভাষা ব্যবহৃত হয় যা ব্রাউজারে দ্রুত লোড হতে পারে।

অপরদিকে, আপনার ওয়েবসাইটকে interactive বা dynamic হিসাবে তৈরি করতে হলে অন্যান্য ভাষা যেমন জাভাস্ক্রিপ্ট, পিএইচপি ইত্যাদি ভাষার ব্যবহার হয়।

এই কারণেই, দুই ধরণের ওয়েবপেজ আমরা দেখতে পাই – একটি স্টেটিক এবং অপরটি ডায়নামিকি।

ওয়বপেজের বৈশিষ্ট:

ওয়েবপেজেরর বৈশিষ্ট নিম্নরুপ:

  • ওয়েবসাইটের অংশ যা এক একটি টপিকস নিয়ে লেখা হয় এবং পেজগুলো পরস্পর অন্যান্য পেজ এর সাথে লিংক অবস্থায় যুক্ত থাকে।
  • প্রতিটি ওয়েবপেজ এর টাইট ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং তাদের সুনির্দিষ্ট url থাকে।
  • ওয়েবসাইটের তুলনায় ওয়েবপেজ তৈরিতে সময় কম লাগে।
  • ওয়েবপেজ তৈরি করা তুলনামুলকভাবে অনেক সহজ।

ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ এর মধ্যে পার্থক্য আলোচনায় এবারে চলুন ওয়েবসাইট নিয়ে কথা বলি-

ওয়বসাইট কাকে বলে?

ওয়েবসাইট কি – যদিও এর উত্তর উপরে রয়েছে, তথাপি আরোও সহজভাবে বলতে গেলে –  কতগুলি ওয়েবপেজ নিয়ে ওয়েবসাইট গঠিত হয় যার পেজসমুহ পরস্পরের সাথে হাইপার লিংক প্রযু্ক্তির সাহায্যে যুক্ত থাকে। সকল ওয়েবপেজ একটি একক ডোমেইনের অন্তর্গত থাকে যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে এককভাবে সনাক্ত করা হয়। ওয়েবসাইটের বিভিন্ন সেকশন থাকে যেমন হেডার, ফুটার, সাইডবার, নেভিগেশন মেনু – ইত্যাদি। একটি একটি সেকশনের আওতায় এক বা একাধিক ওয়েবপেজ থাকতে পারে। ব্রাউজারের এড্রেসবারে ওয়েবসাইট ডোমেইন এর url বসিয়ে যে কেউ নিজ কম্পিউটার থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারে এবং তার এক পেজ থেকে অপর পেজে খুব সহজে নেভিগেট করতে পারে।

ওয়েবসাইটও ওয়েবপেজ এর মত প্রোগ্রামিং ভাষা লিখে তৈরি করতে হয়। তবে, ওয়েবপেজ এর তুলনায় ওয়েবসাইট ডেভেলপ করা অনেক জটিল কাজ এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

ওয়েবসাইট মুলত দুই ধরণে হয় – একটি স্টেটিক এবং অপরটি ইন্টারএকটিভ।  স্টেটিক ওয়েবসাইটে যে সব তথ্য শেয়ার করা হয় তাতে ইউজারের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার মত কোন সুযোগ থাকে না।

অপরদিকে, ইন্টারএকটিভ ওয়েবসাইটের বেলায় ভিজিটার প্রদত্ত তথ্য সম্পর্কে কমেন্টের বা অন্য কোন মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে। এ ধরণের ওয়েবসাইটের উদাহারণ হল ই-কমাস, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, এফিলিয়েটস ইত্যাদি।

আদর্শগতভাবে, কোন ওয়েবসাইটে হোম পেজ, কন্টাক্ট পেজ, সাপোর্ট পেজ, ব্লগ পেজ ইত্যাদি পেজ ছাড়াও আরোও অনেক পেজ বা কনটেন্ট থাকতে পারে।

ওয়েবসাইটের বৈশিষ্ট

ওয়েবসাইট কি বা এর সঙ্গা থেকে ওয়েবসাইটের বৈশিষ্ট সম্পর্কে অটোমেটিক একটি ধারণা চলে আসে।  নিচে ওয়েবসাইটের কয়েকটি বৈশিষ্ট তুলে ধরা হল –

  • ওয়েবসাইট হল বিভিন্ন ওয়েবপেজ এর ক্লাস্টার (cluster) বা গুচ্ছ যেখানে টেক্সট, মিডিয়াসহ আরোও অন্যান্য কনটেন্ট থাকতে পারে।
  • ওয়েবসাইট একক কোন ডোমেইন এড্রেস দ্বারা উপস্থাপিত হয়।
  • ওয়েবসাইট তৈরিতে তুলনামুলক সময় বেশী লাগে।
  • ওয়েবপেজ এর তুলনায় ওয়েবসাইট তৈরি করা অনেক জটিল কাজ।

বন্ধুরা,  ওয়েবসাইট কি এবং এর আরোও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের আলোচনা কেমন লাগল কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।