কোয়ালিটি কাকে বলে ও কোয়ালিটি কত প্রকার?

কোয়ালিটি কাকে বলে ও কোয়ালিটি কত প্রকার – এর উপর আজকের এই পোষ্ট। কোয়ালিটি বিষয়টি সাধারণত: পন্য বা সেবার ক্ষেত্রে বেশি শুনা যায়। বিশেষ করে নতুন ব্র্যান্ডের কোন জিনিস বাজারে ছাড়া হলে, ক্রেতা সাধারণ প্রথমে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে এই ভেবে যে না জানি এর মান কেমন হয়!

কোয়ালিটি শব্দটি খুব পরিচিত একটি নাম হওয়া সত্ত্বেও এই বিষয়ে আরোও বিস্তারিত ধারনা লাভের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে যারা গার্মেন্টস পন্য রপ্তানির সাথে জড়িত তাদের কোয়ালিটি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। কেননা, এক্ষেত্রে বিদেশী বয়ারদের সাথে কাজ করে পণ্যের গুনগত মান নিশ্চিত করে সরবরাহ করা হয়।

তাই এই আর্টিকেলে মুলত: কোয়ালিটি কাকে বলে এবং কোয়ালিটি কত প্রকার হতে পারে সে বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।

কোয়ালিটি কাকে বলে?

কোয়ালিটি কি বা কোয়ালিটি কাকে বলে:  বিষয়টি খুব সহজ। এর দ্বারা বুঝায়, একই ধরণের কোন পণ্য বা সেবার মধ্যে একটি অপরটির তুলনায় কত ভাল। কোয়ালিটির সঙ্গা অন্যভাবেও দেওয়া যায়, কোয়ালিটি হল কোন জিনিসের শ্রেষ্ঠত্বের মাত্রাকে বুঝায়।

আরোও সহজে যদি বলি-  উৎপাদিত পণ্য বা সেবা কাস্টোমারের চাহিদা পূরণে সমর্থ হয়েছে কিনা বা এক কথায় এটি ব্যবহার উপযোগী কিনা – তা যাচাই করা হয়।

মানুষের ক্ষেত্রে যদি ধরি, তাহলে কোয়ালিটি বলতে বুঝায় তার সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট বা গুনাবলি। যেমন, আব্দুর রহিমের ভিতর যদি সততা থেকে থাকে, তাহলে আমরা বলতে পারি, আব্দুর রহিম একজন সৎ লোক বা তার সবচেয়ে ভাল কোয়ালিটি হল, সে একজন সৎ লোক।

ব্যবসা বিশেষ করে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোয়ালিটি পরিমাপ করা হয় উৎপাদিত পণ্যের গুনগত মান কেমন বা অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্যের তুলনায় এর শ্রেষ্ঠত্বের মাত্র কতটুকু। এই জায়গায়, আর একটি জিনিস চলে আসে, তা হল পণ্যটিতে কোন প্রকার ত্রুটি আছে কিনা বা এটি ত্রুটি মুক্ত কিনা।

ISO ৮৪০২-১৯৮৬ মানদন্ড অনুযায়ি, কোয়ালাটি কাকে বলে তা নিম্নরুপভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:

সার্বিকভাবে কোন পণ্যে বা সেবার বৈশিষ্টগত সমষ্টি যা কাস্টোমারের চাহিদা বা প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়। ISO দ্বারা বুঝানো হয়, আন্তর্জাতিক মানদন্ড বিষয়ক সংস্থা যা কোন প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে কাজ করে।

পণ্যের কোয়ালিটি সাধারণত: ভোক্তা সাধারণ বা গ্রাহকগন তাদের অতীত ধারণা লব্ধ জ্ঞান থেকে বিচার করে থাকে। যদিও কাস্টমারের মতামতই পণ্যের কোয়ালিটি বিষয়ে চুড়ান্ত কোন বিষয় নয়। কেননা, গ্রাহক কোন পণ্যের প্রোকৌশলগত খুটিনাটি বিষয়ে পরিমাপ করার মত যথেষ্ট জ্ঞান রাখে না। কাস্টোমারের সন্তুষ্টি হল পণ্যের গুনগত মান বা কোয়ালিটির পরবর্তি ফলাফল।

বছরে পর বছর ধরে কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি উন্নত করার এবং তা বজায় রাখার কোন পথ অবলম্বন করে চলতে হয় যাতে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদিত পণ্য বা সেবা কাস্টমার কর্তৃক গ্রহণযোগ্য হয় বা গ্রাহকের চাহিদা পূরণে সমর্থ হয়। তা না হলে কাস্টমারের থেকে প্রত্যাখ্যান হওয়ার আশংকা থাকবে।

আরোও দেখুন কোয়ালিটি কন্ট্রোল কাকে বলে, কেন প্রয়োজন ও কিভাবে করা হয়।

বর্তমান মানুষের কোয়ালিটি যাচাই করা বিভিন্ন রকমে সুযোগ রয়েছে। কোয়ালিটি বিষয়ে নিচের তথ্যগুলিও বিবেচনায় ধরা হয়-

  • সমজাতিয় কোন পণ্যের শ্রেষ্ঠত্বের মাত্রা বিচার করা হয়।
  • স্পেসিফিকেশনের পন্যটি কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ তা দেখা হয়।
  • পণ্যের বৈশিষ্টগত সমষ্টি যা কাস্টোমারের চাহিদ মেটাতে সক্ষম কিনা।
  • পণ্য বা সেবাটি ব্যবহার উপযোগি কিনা।
  • এর মধ্যে কোন প্রকার ত্রুটি আছে কিনা।
  • কাস্টোমার পণ্যটি ব্যবহার করে সন্তুষ্ট হবে কিনা।

পন্য বা সেবার গুনগত মান নির্ধারণে উপরের বিষয়গুলি গুরত্বের সাথে বিচার করা হয়।

কোয়ালিটি কত প্রকার?

কোয়ালিটি কত প্রকার হতে পারে – তা নিচে উল্লেখ করা হয়।

পণ্যের কোয়ালিটি তিন প্রকার হতে পারে-

  • Quality of design: মানে হল, পণ্যটি দেখতে কেমন। যে কোন পণ্য প্রস্তুতের পর প্রথমে তার appearance বিবেচনায় আনা হয়। এর ভেতরগত মান যত ভাল হোক না কেন, এর ডিজাইন দেখতে যদি চোখে না ধরে তাহলে তার কাস্টমারের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়না। তাই ইহা অনেক সময় quality of design নামেও পরিচিত। এই ধরণের কোয়ালিটি নিশ্চিতের লক্ষ্যে মাঝে মাঝে ক্রেতাদের চাহিদা ও মতামত সংগ্রহ করা হয় এবং সে অনুযায়ি পণ্যের স্পেসিফিকেশন তৈরি করা হয়।
  • Quality of fitness: এর দ্বারা বুঝায় পণ্যটির ব্যবহার উপযোগি হয়েছে কিনা। স্পেসিকেশন অনুযায়ি উৎপাদিত পণ্য কাস্টারের চাহিদার সাথে মিলেছে কিনা।
  • Quality of performance: উৎপাদিত পণ্যের কার্যকারিতার গুনগত মান কেমন তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

ইনস্পেকশন এর উপর ভিত্তি করেও কোয়ালিটির প্রকারভেদ নির্ধারণ করা যায়। এর প্রত্যেকটি উৎপাদন প্র্রক্রিয়ার এক একটি ধাপের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এ ধরণের কোয়ালিটি কত প্রকার হতে পারে তা নিচে উল্লেখ করা হল-

১) উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বে পরীক্ষা:

পণ্য উৎপাদন শুরু করার পূর্বে বায়ারের পরামর্শ নিতে হয় এই অর্থে যে, কোন ধরণের কাঁচামাল ব্যবহার করা হবে। ফ্যাক্টরি অনেকসময় বেশি লাভের আশঅয় উৎপাদন খরচ কমিয়ে নিম্ন মানের কাঁচামাল ক্রয় করতে পারে যা বায়ারের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।

এই ইনস্পেকশন প্রক্রিয়ায় আবার কোন কোন সময় উৎপাদন পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপসমুহু পরীক্ষা করে দেখা হয়।

২) পণ্য উৎপাদনের সময় কোয়ালিটি পরীক্ষা:

এর মাধ্যমে বায়ার পণ্যে গড় মান কেমন হতে পারে সে বিষয়ে সার্বিকভাবে এক ধরণের ধারণা পেয়ে থাকে। যা উৎপাদন চক্রের প্রথম থেকেই দেখা হয়। এটি আমদানিকারকের জন্য খুব গুরত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যখন কোন উৎপাদিত পণ্যের ফিনিশড প্রোডাক্টস প্রোডাকশন লাইন থেকে বের হওয়া শুরু হয় তখন তখনই সেখান থেকে কয়েকটি উৎপাদিত পণ্যের গুনগত মান ভালভাবে যাচাই বাচাই করা হয়। যদি কোন সমস্য বা ভূল ত্রুটি ধরা পরে তখন তার ফ্যাক্টরি কর্তপক্ষকে জানানো হয় যাতে যথাযথ সংশোধন করে অবশিষ্ট পণ্যগুলো তৈরি করা যায়।

৩) দৈবচয়নের মাধ্যমে পণ্যের চুড়ান্ত পরীক্ষা:

এটিকে সাধারণত: প্রাক জাহাজিকরণ পরীক্ষা বলা হয় ইংরেজিতে যা pre shipment inspection নামে পরিচিত। ইহা সবচেয়ে কমন একটি পরীক্ষা যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। ইহা তখনই করা হয় যখন ১০০% উৎপাদন সম্পন্ন হয় এবং যার কমপক্ষে ৮০% উৎপাদিত পণ্যের প্যাকেটিং কাজ শেষ হয়ে যায়। কাজেই, এটি দৈবচয়নের মাধ্যমে বাস্তবিক অর্থে করা কোন পরীক্ষা যেখানে সরবরাহকারি কোন প্রকার খেলা খেলতে পারে না।

এই পরীক্ষা বায়ারকে ক্ষমতা প্রদান করে সরবরাহকরিকে চাপে ফেলার জন্য যাতে পণ্যের গুনগত মানে কোন প্রকার হের ফের করা সুযোগ না পায়। পণ্য জাহাজিকরন নিশ্চিত করাই হল এর উদ্দেশ্য।

৪) কনটেইনারে লোড করার সময় পরীক্ষা:

ইহা পণ্য উৎপাদন শুরুর পূর্বের পরীক্ষার মত যা কদাচিত করা হয়। ইহা তখনই করা হয় যখন বায়ারের কোন নির্দিষ্ট লোডিং পরিকল্পনা থাকে।

বন্ধুগন, কোয়ালিটি কত প্রকার – বিষয়ে উপরের আলোচনায় কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন, ধন্যবাাদ।

কোয়ালিটি পলিসি কাকে বলে?

কোয়ালিটি পলিসি হলো একটি স্বীকৃত কোয়ালিটি মেনেজমেন্ট সিস্টেমের (QMS) প্রয়োজনীয় উপাদান যেখানে আভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক স্টেকহোল্ডারদের জন্য QMS এর কার্য পরিধির বিষয়ে একটি ফ্রেমওয়ার্ক নির্ধারণ করা হয়।

কোয়ালিটি পলিসি কাকে বলে, এর উত্তরে আরোও সহজ ভাষায় বলতে গেলে – এটি আদর্শিকভাবে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি যা কোন সংস্থার উদ্দেশ্য, মিশন এবং কৌশলগত কর্মকান্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

ইহাতে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা থাকে যার মাধ্যমে কম্পানির উৎপাদিত পণ্য ও সেবার গুনগত মান অর্জনের উদ্দেশ্য পূরণ হয় এবং কোয়ালিটির উপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অরগানাইজেশনের প্রদত্ত শর্ত পূরণেও তা অঙ্গিকারবদ্ধ থাকে।

যেমন, ISO 9001 এর জন্য একটি কোয়ালিটি পলিসি থাকতে হয় এবং এর পরিমাপযোগ্য সব উদ্দেশ্যগুলো কম্পানির সমস্ত স্টাফদের নিকট বোধগম্য ও অনুসরণীয় হতে হয়।

কম্পানি স্টাফদের এটিও জানতে হয় যে, তারা যে কাজ করে তা কিভাবে করলে কম্পানির কোয়ালিটি পলিসির সাথে মিলে যাবে, সাংঘর্ষিক হবে না।

এজন্য, অডিটরগন সংস্থার কোয়ালিটি পলিসি এবং এর উদ্দেশ্য কতটুকু পূরণ হচ্ছে শুধুমাত্র সেদিকেই নজর দিবেনা, এর সাথে সাথে কম্পানির স্টাফ এ বিষয়ে কতটুকু সচেতন তাও পরীক্ষা করে দেখবে।

অধিকাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তার কোয়ালিটি পলিসি তাদের মুল ভবনে সকলের দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে এবং কম্পানি ওয়েবসাইটে প্রদান করে থাকে।

আরোও দেখুন-

কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কি, কিভাবে কাজ করে?

কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সের মধ্যে তফাৎ কি?

কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কি ও ইহা কিভাবে কাজ করে?

বন্ধুগন, কোয়ালিটি কাকে বলে, কোয়ালিটি কত প্রকার এবং কোয়ালিটি পলিসি কাকে বলে – বিষয়গুলির উপর যে তথ্য পরিবেশন করা হলো তাতে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। পাশাপাশি আমাদের পরবর্তি  পোষ্টের নোটিফিকেশন পেতে ফেসবুক পেজ -এ একটি লাইক দিয়ে দিবেন।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবান।

1 thought on “কোয়ালিটি কাকে বলে ও কোয়ালিটি কত প্রকার?”

Comments are closed.