ইয়ার্ন কাকে বলে, ইয়ার্ন কত প্রকার ও কি কি?

ইয়ার্ন কাকে বলে, ইয়ার্ন কত প্রকার ও কি কি – বিষয়টি নিয়ে শুরু করছি আজকের পোষ্ট।

প্রতিদিনই আমরা এমন জিনিস ব্যবহার করে চলছি যা টেক্সটাইল ইয়ার্ন দিয়ে তৈরি হওয়া। একটু চিন্তা করুন, যে জামাটি আপনি গায়ে পড়েছেন বা যে কার্পেটের উপর দিয়ে হাটছেন।

আপনি কি কখনোও আপনার প্রিয় জামাটি বা খুব কাছ থেকে লক্ষ করে দেখেছেন? হ্যা, আপনার জামাটি এমন কাপড় দিয়ে বানানো যা টেক্সটাইল ইয়ার্ন বুনিয়ে বা উইভিং প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়েছে। যে কার্পেটের উপর দিয়ে হাটছেন, তাও এই ইয়ার্ন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু, এই ইয়ার্ন আসলে কি, কিভাবে তৈরি হয়, ইয়ার্ন কত প্রকার হতে পারে- তা এই পোষ্টে আলোচনা করা হবে।

ইয়ার্ন কাকে বলে?

টেক্সটাইল ইয়ার্ন হল অবিরাম দৈর্ঘের এমন এক পদার্থ যা দিয়ে দুই বা ততোধিক ফাইবার একত্রে প্যাচিয়ে তৈরি করা হয়। ইহা পরবর্তিতে উইভিং, নিটিং, ফিনিশিং ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় ফেব্রিক বা অন্য কোন টেক্সটাইল পণ্য প্রস্তত করা যায়।

ইয়ার্ন হল এক প্রকার strand বা তন্তু যা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম ফাইবা বা ফিলামেন্ট দিয়ে গঠিত। ফাইবার চুলের মত দেখতে ছোট এক প্রকার চিকন আকৃতির কোন বস্তু আর ফিলামেন্ট ফাইবারের চেয়ে আকারে দীর্ঘ হয়।

টেক্সটাইল ইয়ার্ন বিভিন্ন রক প্রাকৃতিক ফাইবার দিয়ে তৈরি করা যায়, যেমন কটন বা লিনেন ফাইবার, ভেড়ার থেকে প্রাপ্ত উল ফাইবার, রেশম থেকে তৈরি সিল্ক জাতিয় ফাইবার। ইয়ার্ন আবার কৃত্রিম ফাইবার দিয়ে তৈরি করা যায়। যেমন, নাইলন, পলিস্টার, এক্রিলিক ইত্যাদি।

যে পদ্ধিতিতে ইয়ার্ন উৎপাদন করা হয় তাকে স্পিনিং বলা হয়। এই স্পিনিং কাজ হাত বা মেশিন উভয়ের সাহায্যেই করা যায়। যে সব ইয়ার্ন উইভিং কাজে ব্যবহৃত হয় তা শক্ত ভাবে প্যাঁচানো হয়। এর উপরিভাগ মসৃন থাকে। তবে নিটিং এর ক্ষেত্রে যে ইয়ার্ন ব্যবহার করা হয় তা আঁটশাটভাবে না প্যাঁচালেও হয়। কিছুটা ঢিলা হলে সমস্যা হয় না।

ইয়ার্ন তৈরি করার বিভিন্ন রকমের পদ্ধতি আবির্ভাব হওয়ায় বিভিন্ন রকমের ইয়ার্ন বাজারে সহজলভ্য হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বৈশ্বিক ভাবেও অনেক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহের জন্য প্রচুর পরিমানে ইয়ার্ন উৎপাদন করছে। এর ফলে, ইয়ার্নের ক্ষেত্রে অনেক বিশেষায়িত কিছু টার্ম রয়েছে যার সাথে আমাদের পরিচিত হওয়া প্রয়োজন।

আলোচ্য পোষ্টে যদিও ঐসব কিছু আলোচনার সুযোগ নেই, তবে ইয়ার্ন কত প্রকার হতে পারে এর উপরেই ফোকাস থাকার চেষ্টা করব।

ইয়ার্নের আলোচনায় অনেক সময় সুতার প্রসঙ্গ চলে আসতে পারে। কেননা তাদের মধ্যে বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে এক রকম মনে হতে পারে। কিন্তু তারা এক রকম নয়। কিছুটা বেসিক পার্থক্য আছে।

ইয়ার্ন ও সুতার উপর ধারণা পরিস্কারের জন্য নিচে এদের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য তুলে ধরা হল-

ইয়ার্ন ও থ্রেডের মধ্যে পার্থক্য

ক্রমিক নংইয়ার্নথ্রেড বা সুতা
একাধিক ফাইবার স্পিনিং করে তৈরি করা হয়।দুই বা ততোধিক ইয়ার্ন শক্ত করে প্যাঁচিয়ে তৈরি করা হয়।
ইয়ার্ন সুতার তুলনায় কম শক্তিশালি।সুতা ইয়ার্নের তুলনায় অধিক শক্তিশালি।
ইয়ার্ন সাধারণত: সুতার চেয়ে ওজনে ভারি।সুতা সাধারণত: ইয়ার্ন চেয়ে ওজনে হালকা।
ইয়ার্ন উইভিং বা নিটিং প্রক্রিয়ায় কাপড় তৈরিতে এবং সুতা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।সুতা কাপড় বা অন্য কোন জিনিস সেলাই কাজে ব্যবহার করা হয়।
এরা সুতার তুলনায় পাতলা হয়।সুতা ইয়ার্নের তুলনায় ঘন হয়।
ইয়ার্ন বড় প্যাকেজে বিক্রি করা হয়।সুতা ছোট প্যাকেজে বিক্রি করা হয়।

ইয়ার্ন কত প্রকার?

ইয়ার্নের গঠনগত বৈশিষ্ট ও ইয়ার্ন কিভাবে তৈরি করা হয় তার উপর ভিত্তি করে সমস্ত টেক্সটাইল ইয়ার্ন শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।

ইয়ার্ন দু’টি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে-

  • Spun yarn বা staple yarn
  • Filament yarn
  • Spun yarn বা staple yarn

যে ইয়ার্ন স্টেপল ফাইবার একটি অপরটির সাথে প্যাঁচিয়ে তৈরি করা হয় তাকে spun yarn বা staple yarn বলা হয়। এই spun ইয়ার্ন পুনরায় বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

যেমন, ইয়ার্নে ply এর সংখ্যার উপর ভিত্তি করে দুইভাগে ভাগ করা যায়:

  • Single ply yarn: এই spun বা ‍staple ইয়ার্নে শুধু একটি ply থাকে।
  • Multi-ply yarn: এই ধরণের spun বা ‍staple ইয়ার্নে একের অধিক ply থাকে যা twisting এর মাধ্যমে একত্রিত করা হয়।

Twist এর দিক বিবেচনায় এরা আবার তিন প্রকার হয়, যেমন

  • S – twist ইয়ার্ন: Spun বা Staple yarn যখন ঘড়ির কাটার দিকে প্যাঁচানো হয় তখন তাকে S – twist ইয়ার্ন বলা হয়। এই ইয়ার্নের ফাইবারগুলো বেকে গিয়ে ইংরেজি S এর আকার ধারণ করে।
  • Z – twist ইয়ার্ন: এই ক্ষেত্রে Spun বা Staple yarn ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে প্যাঁচানো হয়। Twist করার সময় এর ফাইবারসমুহ বেকে গিয়ে Z এর মত আকার ধারণ করে।
  • Zero – twist বা twist less ইয়ার্ন: এই ধরণের ইয়ার্ন দ্রবনীয় ফিলামেন্টকে untwisted বা প্যাচানো হয়নি এমন ‍staple ফাইবার এর সাথে wrapping করে তৈরি করা হয়। গরম পানিতে দ্রবনীয় হয় এমন ফিলামেন্ট wrapping এর কাজে ব্যবহার করা হয়। উইভিং এর পর এই ফিলামেন্টগুলি গরম পানিতে মিশে যায়। ফলে spun yarn হওয়া সত্ত্বেও দেখতে twist করা হয়নি এমন ইয়ার্ন মনে হয়। এজন্যই একে Zero – twist ইয়ার্ন বলা হয়।

আবার twist এর পরিমানের উপর ভিত্তি করে spun yarn তিন ভাগে বিভক্ত, যেমন-

  • Low twist yarn: এই ধরণের ইয়ার্নে twisting এর পরিমান স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। এরা নরম প্রকৃতির হয়। স্বাভাবিক twist ইয়ার্নের তুলনায় এদের শক্তি কম থাকে।
  • Normal twist yarn: এই ইয়ার্নে স্পিনিং এর নিয়ম অনুযায়ি twisting এর পরিমান স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে।
  • High twist yarn: এক্ষেত্রে twisting এর পরিমান স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। এরা কিছুটা অমসৃন বা rough মনে হয়। এই ইয়ার্ন বেশি শক্তি সম্পন্ন হয়।

স্পিনিং প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে spun yarn আবার দুই প্রকারের হয়, যেমন-

  • Ring frame yarn
  • Open end yarn

Ring frame yarn: এখানে ফাইবার সমুহ Ring frame machine এর সাহায্যে ‍স্পিন করা হয়। এদের পুনরায় নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়-

  • Carded yarn: এই ইয়ার্নের ক্ষেত্রে সাধারণ carding প্রক্রিয়া অনুসরন করা হয় এবং Ring frame machine এর সাহায্যে ইয়ার্ন তৈরি করা হয়।
  • Super Carded yarn: এই ধরণের ইয়ার্ন তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ ধরণের carding পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং একই ভাবে Ring frame machine এর সাহায্যে ইয়ার্ন তৈরি করা হয়। এই ইয়ার্ন কম ময়লাযুক্ত হয়। এদের শক্তি ভাল থাকে।
  • Semi-combed yarn: এক্ষেত্রে আংশিকভাবে combing প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়। এখানেও Ring frame machine দিয়ে ইয়ার্ন তৈরি করা হয়। ভাঙ্গা বীজগুলো ইয়ার্ন থেকে আংশিকভাবে অপসারণ করা যায়।
  • Combed yarn : এখানে পরিপূর্ণভাবে combing পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ভাঙ্গা বীজ ইয়ার্ন থেকে দুরীভূত হয়ে যায়। এদের শক্তিও বেশ ভাল হয়।
  • Super combed yarn: এখানে বিশেষ ধরণের combing পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এখানেও Ring frame machine দিয়ে ইয়ার্ন তৈরি করা হয়। ছোট ফাইবার, ময়লা ও ভাঙ্গা বীজ ইয়ার্ন থেকে সম্পূর্ণরুপে অপসারণ করা যায়।
  • Compact yarn: এখানে Ring frame এর ভিতর বিশেষ ধরণের compact ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। এভাবে উৎপাদিত ইয়ার্ন সবচেয়ে বেশি শক্তি সম্পন্ন হয়। এখানে ছোট ধরণের কোন ফাইবার অবশিষ্ট থাকে না এবং ময়লাও থাকে না।

Open end yarn: এই ধরণের ইয়ার্ন open end মেশিন বা rottor স্পিনিং মেশিনের সাহায্যে তৈরি করা হয়। এই ইয়ার্ন carding থেকে প্রাপ্ত silver দিয়ে সরাসরি স্পিনিং করা হয়। এখানে স্পিনিং এর কিছু ধাপ বাদ দেওয়া হয়। ফলে এভাবে উৎপাদিত ইয়ার্ন কিছুটা দামে সস্তা হয়। এরা তেমন শক্ত নয়। এই ইয়ার্ন ময়লা যুক্ত হয়। এখানে ছোট ছোট ফাইবার ও ভেঙ্গে যাওয়া বীজ পাওয়া যায়।

ফিলামেন্ট ইয়ার্ন: এই ইয়ার্ন লম্বা অবিরাম বা continuous ফিলামেন্ট বা ফাইবার দিয়ে গঠিত যা হয় twisting এর মাধ্যমে বা একত্রে মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এরা কৃত্রিম ফাইবার দিয়েও বানানো যায়।

ফিলামেন্ট ইয়ার্ন আবার দুই প্রকারের, যেমন

  • মনো ফিলামেন্ট: এখানে একটি মাত্র দীর্ঘ continuous ফিলামেন্ট থাকে।
  • মাল্টি ফিলামেন্ট: এখানে একের অধিক দীর্ঘ continuous ফিলামেন্ট থাকে।

মাল্টি ফিলামেন্ট ইয়ার্নকে আবার নিম্নরুপে ভাগ করা যায়-

  • Twisted ফিলামেন্ট ইয়ার্ন
  • Rotto ফিলামেন্ট ইয়ার্ন
  • Zero twist ফিলামেন্ট ইয়ার্ন

1 thought on “ইয়ার্ন কাকে বলে, ইয়ার্ন কত প্রকার ও কি কি?”

  1. I like the helpful information you provide in your articles.

    I will bookmark your weblog and check again
    here regularly. I am quite certain I’ll learn lots of new
    stuff right here! Best of luck for the next!

Comments are closed.