ঘরে বসে আর্টিকেল লিখে আয়: চলুন জেনে নেই এর উপায়!

আপনি কি ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে চান ? বা কোনো পার্ট টাইম কাজের মাধ্যমে আপনার উপার্জন একটু বাড়াতে চান? তাহলে, আপনিও ঘরে থেকেই আর্টিকেল লিখে আয় করার সুযোগটি নিতে পারেন।

এই ডিজিটাল দুনিয়ায় খুব সহজে সেটা সম্ভব যদি আপনি আর্টিকেল লিখে অনলাইনে আয় করার সঠিক পথ অবলম্বন করতে পারেন। এই সঠিক পথ টাই অনেকে জানেনা , তাই তারা কিছু ফেক বা দালাল টাইপ লোকের খপ্পরে পরে।

এই ব্লগ এ আপনি আর্টিকেল রাইটিং এর সমস্ত প্রসেস এবং আর্নিং এর উপায় সমন্ধে জানতে পারবেন। যা আপনাকে একটি স্টেডি আর্নিং ও একটি সফল ফ্রীল্যানসিং ক্যারিয়ার দেবে।

COVID 19 বা করোনা  প্যান্ডেমিক এ ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি হওয়ায়, ইনকাম এর সোর্স অনেকটা কমে গেছে। তার মধ্যে আবার ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করাটাও এখনো খুব একটা সুরক্ষিত না, বিশেষ করে যদি সেটা কোনো crowded এরিয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে ঘরে বসে কাজ করাটাই বেষ্ট।  কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে আপনি ঘরে বসে টাকা উপার্জন করবেন?

তার থেকেও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, উপায় তো অনেক আছে কিন্তু সবগুলো কি সিকিউর?

এ ছাড়াও আরো এমন কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলোর উত্তর আপনি এই ব্লগেই পাবেন , যেমন ধরুন –

  • Exactly কোথা থেকে ইনকাম করবেন? বা কি ভাবে করবেন?
  • লেখার জন্য কি ধরণের যোগ্যতা প্রয়োজন?
  • কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া কি এই পেশায় আশা যাবে ?

চলুন দেখা যাক।

বিভিন্ন বিষয়ে যে কোনো ভাষায় আর্টিকেল লিখে হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারেন প্রত্যেক দিন। তবে অনলাইন কাজে আপনার পর্যাপ্ত পরিশ্রমের সঙ্গে ধর্য্যেরও প্রয়োজন। সেই বিষয়ে খেয়াল রাখবেন।

নিচে আর্টিকেল লিখে আয় করার মাধ্যম গুলি নিয়ে আলোচনা করা হলো।  পড়তে থাকুন আর জেনে নিন আর্টিকেল রাইটিং কি?

আর্টিকেল লিখে আয়- বিষয়টি কি ?

 আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং হলো কোনো বিষয় বা বস্তু সম্বন্ধে যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা। আপনার জানা বা অজানা যেকোনো বিষয় এর উপর এ পর্যাপ্ত পরিমানে জ্ঞান আহরণ করার পর সেটিকে গুছিয়ে সুন্দর করে ব্লগ বা আর্টিকেল আকারে পরিবেশন করাই হল আর্টিকেল রাইটিং।

বি দ্রঃ এটি শুধু বাংলা, ইংলিশ বা হিন্দী ভাষায় না , যেকোনো মাতৃভাষাতেই লেখা হয়ে থাকে। তাই আপনার যে ভাষাতেই জ্ঞান থাকুক না কেন , আপনি একজন সফল আর্টিকেল রাইটার হতে পারেন।

আপনার আর্টিকেল আপনি কম করে ৩০০ বা তার বেশি শব্দেও ব্যক্ত  করতে পারেন। আগে , আর্টিকেল শুধু মাত্র খবরের কাগজে, নানান মেগাজিনে  অথবা বই এর পাতাতেই লেখা হতো।  কিন্তু এখন আপনি বিভিন্ন ফোরাম, ব্লগ , ডিজিটাল মার্কেটে ও আপনার আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারেন এবং তার মাধ্যমে টাকাও উপার্জন করতে পারেন।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম কি?

কিছু সাধারণ বা বেসিক নিয়ম , যেটি না জানলে আপনার শুরুটাই নড়বড়ে হবে

আর্টিকেল লিখতে হলে কিছু সাধারণ নিয়ম আছে যেগুলি আপনাদের অবলম্বন করতে হবে। এই ছোট ছোট সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম গুলি আপনার আর্টিকেল কে রুচিকর বানাতে সাহায্য করে।

সবার প্রথমে মাথায় রাখতে হবে, আপনার রিডার্স বন্ধুরা যাতে আপনার কনটেন্ট পড়ে ইন্টারেস্ট পায়। প্রত্যেকটি শব্দ বা লাইন এমন ভাবে প্রতিস্থাপিত করতে হবে যাতে আপনার রিডার্স রা সেটা শেষ অবধি পড়তে মজা পায়।

বিষয়বস্তুটি কে সহজ ও সরল ভাবে উপস্থাপন করুন যাতে, খুব সহজেই যে কেও পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারে।

এগুলো খুবই সাধারণ নিয়ম, কিন্তু এইগুলো ফলো করলে এবং আপনার লেখার বুনন ঠিক থাকলে খুব অল্প দিনের মধ্যেই আপনি নিঃসন্দেহে এক কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে মার্কেটে নাম করতে সফল হবেন।

আপনি যে বিষয়ে পারদর্শি, যার সম্পর্কে আপনার বিস্তার জ্ঞান আছে, এবং আপনার ভিউয়ার্স দের   সঠিক তথ্য দিতে পারবেন সেই বিষয়টি তুলে ধরুন। যত বেশি বিষয়টির সম্পর্কে আপনার জানা থাকবে  ততো বেশি ডিটেলসে আপনি আপনার ভিউয়ার্স দের দিতে পারবেন।

এবারে আসুন, আকর্ষণীয় বা মজাদার আর্টিকেল কি ভাবে লিখবেন – তা নিয়ে কিছু কথা বলি।

 আপনি যেভাবে এই আর্টিকেল টি পড়ছেন , সেরকম ভাবে আপনার আর্টিকেল যদি মজাদার হয় , তাহলে আপনার ভিউয়ার্স নিঃসন্দেহে বাড়বে ও আপনার আর্নিং এর পথ প্রসস্থ হবে।

 ছোট্ট এবং চমকপ্রদ টাইটেল: সবার প্রথমে আপনাকে আর্টিকেলে এক আকর্ষণীয় এবং ছোট্ট টাইটেল দিতে হবে।  এমন টাইটেল যা আপনার বিষয়কে ফুটিয়ে তুলবে , আর্টিকেলের টাইটেল দেখেই যেন লোকে আপনার আর্টিকেল পড়তে আসে।  এটি একেবারে স্পষ্ট হতে হবে, যাতে লোকেরা বুঝতে পারে আপনার আর্টিকেলের বিষয় বস্তুটি কি।

  1. ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ : আপনার আর্টিকেলের প্যারাগ্রাফ সবসময় ছোট রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ ছোট পেরাগ্রাফ পড়ুয়াদের আকর্ষিত করে, অন্য দিকে বড় প্যারাগ্রাফ মানেই মানুষ সেটি পড়ার ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলে। এখন রীলস এর যুগ তাই প্রত্যেকটা সেকেন্ড ইম্পরট্যান্ট। ছোট প্যারাগ্রাফ আর্টিকেল কে স্পষ্ট এবং ফ্রেন্ডলি  করে তোলে।
  2. মজার বা আকর্ষক হেডিং : আর্টিকেল যত সুন্দর হেডিং দ্বারা গঠিত হবে ততই সুন্দর ও মজার হবে। হেডিং যেমন – H১, H ২ ..৩..৪ ইত্যাদি। সাব হেডিং আপনার আর্টিকেল কে অনেক ভাগে ভাগ করে সেটিকে বিশ্লেষণ করে যারফলে আর্টিকেল টি পড়তে ও বুঝতে অনেক সুবিধা হয়।
  3. ছবির ব্যবহার : ছবি আমাদের সবার চোখ আকর্ষণ করে। তাই আর্টিকেল টি সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে সাজাবেন , মনে রাখবেন সবকটি ছবি বা ইমেজ যেন কপিরাইট ফ্রি হয়, আর অবশ্যই সেগুলো যেন আপনার আর্টিকেল সম্পর্কৃত ই ছবি হয। এতে লোকে আপনার আর্টিকেল পড়তে আগ্রহী এবং আনন্দ অনুভব করবে।
  4. মিনিমাম শব্দের প্রয়োগ: যখনি কোনো আর্টিকেল লিখবেন চেষ্টা করবেন কমপক্ষে ৫০০ টি শব্দে গুছিয়ে লিখতে। তার বেশী (১০০০- ১৮০০) শব্দেও লিখতে পারেন, কিন্তু ৫০০ এর কম লিখতে যাবেন না।  মনে রাখবেন যত বেশি শব্দ দিয়ে লিখবেন এবং সহজ ভাষায় লিখবেন আপনার টপিক পড়তে বাকীদের ততটাই ভালো লাগবে।

এই সমস্ত আর্টিকেল এর বেসিক সূত্র যদি আপনি ধরে চলেন তবে আপনার লেখা আকর্ষণীয় হবে এবং লোকে আপনার আর্টিকেল বেশি করে পড়বে।  উপরে আমি আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করলাম।  এবার চলুন দেখে নি আপনার আর্টিকেল গুলো আপনি কোথায় পাবলিশ করবেন এবং তার থেকে কিভাবে উপার্জন করবেন।

তবে, আপনার লেখা আর্টিকেল যদি নিজের ব্লগে পোষ্ট করতে চান তাহলে তাকে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানোর জন্য প্রয়োজনীয় এসইও কাজ নিশ্চিত করতে হবে।

আর্টিকেল লিখে আয় করার নিয়ম কি?

 আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি তো জানলেন কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোথায় আর্টিকেল টি পোস্ট করবেন? কোথা থেকে আপনার আর্টিকেল এর বিনিময়ে আপনি টাকা অর্জন করতে পারবেন?

কনটেন্ট রাইটিং বা আর্টিকেল রাইটিং এখন আয়ের এক অন্যতম পথ। তাই সঠিক মাধ্যম গুলি আপনার জানা প্রয়োজন।

নিচে অনলাইন এ আর্টিকেল লিখে ইনকাম করার কিছু মাধ্যম আলোচনা করা হল।

১. ব্লগ (blog) – এর মাধ্যমে ইনকাম :

আপনি আপনার নিজের ব্লগ ওয়েবসাইট বানাতে পারেন, এবং সেই ওয়েবসাইটে আপনার আর্টিকেল পোস্ট করে আপনি সহজে আয় করতে পারবেন। বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল লিখে ওয়েবসাইটে ভিসিটর্সদের আকৃষ্ট করতে পারেন। আর যখনি আপনার ওয়েবসাইট এর ভিউস বেড়ে আসবে অমনি আপনি তার থেকে টাকা ইনকাম করতে শুরু করবেন।

আপনাকে ধ্যৈর্য ধরে একাধিক বিষয়ের ওপর একটানা আর্টিকেল পোস্ট করে যেতে হবে।  তবেই ভিউয়ার্স  আকৃষ্ট করতে পারবেন। আপনার ব্লগে একটা আর্টিকেল যতদিন থাকবে ততদিন তা থেকে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

২. অন্যের ব্লগে আর্টিকেল লিখে ইনকাম :

আপনি পেইড গেস্ট -ও হতে পারেন অর্থাৎ অন্যের ব্লগে আপনার লেখা আর্টিকেল পোস্ট করে আয় করতে পারেন।

অনলাইন মার্কেটে এমন অনেক ওয়েবসাইট ওনার আছেন যারা নিজেদের ব্লগের জন্য রাইটার খোঁজেন। আপনিও চাইলে তাদের জন্য আর্টিকেল লিখতে পারেন। ওনারা আপনাকে একটা নির্দিষ্ট এমাউন্ট পে করবে, আপনার প্রত্যেক আর্টিকেল এর জন্য।

ওয়েবসাইট ওনার আপনাকে যে বিষয় এ আর্টিকেল লিখতে দেবেন , সে বিষয়ে একেবারে অরিজিনাল কনটেন্ট লিখতে হবে।  অন্য আর্টিকেল থেকে কপি করলে হবে না। যত অরিজিনাল এবং ভালো লিখবেন তত বেশি আপনি কাজ পাবেন।

৩. নিজের লেখা আর্টিকেল বিক্রয় করে আয় :

বর্তমানে আপনি নিজের আর্টিকেল অন্য কোনো বড় ব্র্যান্ডকে বিক্রি করে ইনকাম করতে পারেন। তবে তার জন্য আপনার রাইটিং  খুব হাই কোয়ালিটির হতে হবে। কারণ এখন মার্কেটে কনটেন্ট রাইটারের প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে।

এমন কিছু ওয়েবসাইট যেখানে আর্টিকেল বিক্রয় করা যায় সেগুলি হল – fiverr, hirewriter, ইত্যাদি।

৪. কপিরাইটিং এর মাধ্যমে আয় :

অনলাইন আর্টিকেল মাধ্যমে আয়ের অন্যতম হলো কপিরাইটিং। এতে আপনাকে কিছু স্ক্যান করা ফাইল দেবে সেগুলিকে শুধু দেখে টাইপ করতে হবে।

বর্তমানে ফাইভার, ফ্রিল্যান্সিং , আপওয়ার্ক প্রভৃতির মার্কেটে এই ধরণের কপিরাইটিং কাজ অনেক পাওয়া যায়।  বিড করে আপনাকে শুধু কাজ খুঁজে নিতে হবে।

উপসংহার

নিজ ঘরে থেকে আর্টিকেল লিখে আয় করার বিষয়টি নতুন কোন ধারণা নয়। ইন্টারনেট ও কম্পিউটার প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে সারা বিশ্বেই বর্তমানে এটি আয় করার খুব সাধারণ একটি মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে।  আশা করি আর্টিকেল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এখানে তুলে ধরতে পেরেছি। যদি আপনি লিখতে ভালোবাসেন , বা লেখা লেখি আপনার একটি প্যাশন হয় , তাহলে অবশ্যই এই রাইটিং ফিল্ড এ আসুন ও এখন থেকে উপার্জন শুরু করুন। আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং এর জন্য আপনাকে বিশেষ কোনো কোর্স অবধি করতে হবেনা। আপনি আপনার নিজস্ব সৃজনশীলতার কারণেই বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবেন। এই ফিল্ড এ যদি কিছুর প্রয়োজন হয় , তা হলো আপনার ধৈর্য্য।

আশা করছি, আপনি এই ব্লগটি দ্বারা উপকৃত হবেন এবং ঘরে বসে সঠিক পদ্ধতিতে আয় করতে সক্ষম হবেন।

লিখতে থাকুন , ভালো থাকুন। অবশ্যই কমেন্ট সেকশন এ জানান কেমন লাগলো আজকের ব্লগটি।

আয়ের উপায়।  আর দেরি না করে আর্টিকেল লেখা শুরু করুন এবং নিজের এক্সট্রা ইনকাম উপভোগ করুন।