আরবি ই’রাব: ৪র্থ পাঠ

আরবি ব্যকরণের মধ্যে الإِعْرَابُ একটি অন্যতম গুরত্বপূর্ণ অংশ। الإِعْرَابُ সম্পর্কে আমাদের পরিস্কার ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। তাই এই অধ্যায়ে  الإِعْرَابُ ও এর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তবে, الإِعْرَابُ বুঝার জন্য আরবি preposition সম্পর্কেও জানতে হবে। আরবি ব্যকরণে preposition এর নাম হল حَرْفُ جَرّ যা এই পাঠেই আলোচনা করা হবে। কেননা, الإِعْرَابُ এর সাথে حَرْفُ جَرّ এর সম্পর্ক রয়েছে।

যাহোক, চলুন প্রথমে আমরা الإِعْرَابُ নিয়ে আলোচনা করি।

الإِعْرَابُ কাকে বলে? الإِعْرَابُ কিভাবে কাজ করে?  (عامِل)

এর আগের পাঠে আমরা দেখেছি, আরবি اِسْمٌ বাক্যের Subject হতে পারে এবং Object হতে পারে। আবার اِسْمٌ টি  বাক্যের Preposition বা  Adverb এর পরেও আসতে পারে।

বাক্যে اِسْمٌ এর অবস্থান বা এর কাজের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে اِسْمٌ টির শেষের হরফের স্বরচিহ্নের (حَرْكَت বা تَنْبِيْن) তারতম্য হয়।  এই স্বরচিহ্নের তারতম্যের কারণে একই  اِسْمٌ এর শব্দরুপ বিভিন্ন রকম হয়।

اِسْمٌ এর শেষ অক্ষরের স্বরচিহ্নের ভিন্নতার এই প্রক্রিয়কেই الإِعْرَابُ বলে। আরবি اِسْمٌ এর স্বরচিহ্নের পরিবর্তন বাক্যে উপস্থিত عامِل এর কারণেও হয়ে থাকে। عامِل সম্পর্কে পরবর্তিতে অন্য এক পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে, এখানে এতটুকু বলা যায়, preposition আরবিতে যাকে حَرْفُ جَرّ বলা হয়, এই حَرْفُ جَرّ আরবি বিশেষ্য পদ বা  اِسْمٌ এর আগে বসলে اِسْمٌ টির শেষ অক্ষরের স্বরচিহ্নের পরিবর্তন হয়। কাজেই حَرْفُ جَرّ কে এক প্রকার عامِل বলা যায়।

এই পাঠে যখন حَرْفُ جَرّ নিয়ে আলোচনা হবে, তখন বিষয়টি আরোও সুন্দরভাবে বোধগম্য হবে।

যাহোক, আরবি ভাষায় ব্যবহৃত সকল اِسْمٌ ই اِعْرَاب গ্রহন করেনা। যে সব اِسْمٌ ,  اِعْرَاب গ্রহন করে তাদের المُعْرَابُ বলে আর যারা গ্রহন করেনা তাদের المَبْنِيُّ   বলে

Note: স্বাভাবিক অবস্থায় আরবি ভাষার সমস্ত اِسْمٌ এর শেষ অক্ষর পেশ বা ضمَّه  আকারে থাকে যা  مَرْفُوْعٌ  হিসাবে প্রকাশ পায়। 

এখন আমরা আরবি ভাষয় ব্যবহৃত দু’টি preposition বা حَرْفُ جَر সম্পর্কে খানিকটা ধারণা দিব, এরা হল-

  • في – in বা মধ্যে
  • على – on বা উপরে

এবারে নিচের চিত্রের সাহায্যে দেখানো হবে, আরবি اِسْمٌ এর পূর্বে حَرْفُ جَر বা preposition বসার কারণে اِسْمٌ টির শেষ অক্ষরের স্বরচিহ্ন বা হরকতটি কিভাবে পরিবর্তন হচ্ছে:

আরবি শিক্ষা

এর আগে আমরা জেনেছি, আরবি ভাষার সমস্ত اِسْمٌ স্বাভাবিক অবস্থায় مَرْفُوْعٌ হিসাবে থাকে। এখন উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে البَيتُ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার কারণে مَرْفُوْعٌ  আকারে ছিল। কিন্ত البَيْتُ এর পূর্বে حَرْفُ جَرّ বা Preposition في এসে বসায়  اِسْمٌ টির শেষ অক্ষর كَسْرَه বা যের বিশিষ্ট হয়ে مَخْرُوْرٌ হয়ে গেল। ইহাকে একত্রে  جَرّ و مَخْرُوْرٌ বলা হয়।

এভাবেই, কোন বাক্যে اِسْمٌ এর পূর্বে যদি حَرْفُ جَرّ বা Preposition এসে বসে তখন اِسْمٌ টির স্বাভাবিক مَرْفُوْعٌ অবস্থাটি বদলে গিয়ে مَخْرُوْرٌ হয়ে যায়।

Note:  مَرْفُوْعٌ এবং مَخْرُوْرٌ  

আরবি اِسْمٌ এর শেষ অক্ষর পেশ বিশিষ্টি হলে তাকে مَرْفُوْعٌ, অপরদিকে اِسْمٌ এর শেষ অক্ষর জের বিশিষ্টি হলে তাকে مَخْرُوْرٌ বলে। এই পেশ ও যের এর সংখ্য একটিও হতে পারে আবার তানভিনের মত দু’টিও হতে পারে।

এবারে, আরবি বাক্যে  اِسْمٌ এর অবস্থানগত ভিন্নতার কারণে اِسْمٌ  এর পরিবর্তিত শব্দরুপের উদাহারণ নিচের টেবিলের সাহায্যে উপস্থাপন করা হল।

[/fusion_text][fusion_table fusion_table_type=”1″ fusion_table_rows=”5″ fusion_table_columns=”4″ hide_on_mobile=”small-visibility,medium-visibility,large-visibility” class=”” id=”” animation_type=”” animation_direction=”left” animation_speed=”0.3″ animation_offset=””]

اِسْمٌ  এর অবস্থান বা কাজ اِسْمٌ  এর case اِسْمٌ  এর শব্দরুপ উদাহারন
اِسْمٌ বাক্যের subject হলে مَرْفُوْعٌ

Nominative case

اِسْمٌ টির শেষ অক্ষর পেশ বিশিষ্ট হল جَاءَ خَالِدٌ

খালিদ আসল

اِسْمٌ বাক্যের Object হলে مَنْصُوْبٌ

Accusative case

اِسْمٌ টির শেষ অক্ষর জবর বিশিষ্ট হল رَأَيتُ خالِدً

আমি খালিদকে দেখলাম

اِسْمٌ যদি Preposition বা

Adverb এর পরে বসে

مَخْرُوْرٌ

Genitive case

اِسْمٌ টির শেষ অক্ষর জের বিশিষ্ট হল مَرَرْتُ بِخَالِدٍ

আমি খালিদের পাশ দিয়ে গমন করলাম

اِسْمٌ যদি কোন কিছুর মালিকের ভুমিকায় থাকে مَخْرُوْرٌ

Genitive case

اِسْمٌ টির শেষ অক্ষর জের বিশিষ্ট হল قَلَمُ خالِدٍ خَدِيدٌ

খালেদের কলমটি নতুন

 

উপরের টেবিলের সর্ব ডানদিকে উদাহারনের কলামের প্রতিটি বাক্যে একই ব্যক্তি  خَالِدٌ ব্যবহৃত হয়েছে যে কিনা اِسْمٌ বা বিশেষ্য পদ।  বাক্যেগুলিতে তার অবস্থান গত কারনে খালিদ কখোনো দুন্ (مَرْفُوْعٌ), কখোনো দান্ (مَنْصُوْبٌ) এবং কখোনো দিন্ (مَخْرُوْرٌ) হয়েছে। অর্থাৎ খালিদুন্, খালিদান্ এবং খালিদিন্ হয়েছে।

কাজেই,  اِسْمٌ এর শেষ অক্ষরের স্বরচিহ্নই (  حَرْكَت বা تَنْبِيْن ) বাক্যে তার কাজের ধরণ ব্যক্ত করে। এভাবে যে, اِسْمٌ টি কি বাক্যের মধ্যে  مَرْفُوْعٌ হবে নাকি مَنْصُوْبٌ  বা مَخْرُوْرٌ হবে।

মুল পাঠ শুরুর পূর্বে আরবি স্বরচিহ্ন সম্পর্কে আরোও দু’ একটি কথা নিচে চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হল।

হরকত

নোট:

আরবি ভাষায় ব্যবহৃত তিনটি স্বরচিহ্ন আছে। এরা হল,

  • জবর বা  فَتْحَه,
  • পেশ বা ضمَّه
  • যের বা كَسْرَه.

আরবি ব্যঞ্জনবর্ণে এই তিনটি স্বরচিহ্নের কোনটিও যদি উপস্থিত না পাওয়া যায় তথন ইহাকে সুকুন চিহ্ন হিসাবে ধরা হয়

পরবর্তি পাঠসমুহ বুঝার সুবিধার জন্য এই যের, জবর ও পেশ এর আরবি নামগুলি  (كَسْرَه, فَتْحَه, ضمَّه) আমাদের মনে রাখতে হবে।

এবারে আমরা মুল পাঠে চলে যাব।

অর্থ আরবি শব্দ
The house البيتُ
In the house في البيتِ
The table المكتبُ
On the table على المكتبِ
The mosque المسجدُ
In the mosque في المسجدِ
The bed السرير
On the bed على السرير

 

উপরের টেবিলের ডান পাশের কলামের এই প্রত্যেক اِسْمٌ গুলো (البيتُ,  المكتبُ, المسجدُ, السريرُ)   হল  مَعْرِفَةٌ বা Definite Article. কারণ, মুল اِسْمٌ এর পূর্বে আলিফ-লাম যুক্ত আছে এবং  এর শেষ অক্ষরে হরকত রয়েছে। আর এই হরকত  ضمَّه বা পেশ হওয়ার কারণে এরা مَرْفُوْعٌ হয়েছে।

কিন্তু এই اِسْمٌ গুলির পূর্বে  যখন  Preposition বা  حَرْفُ جَرٍّ চলে এল তখন اِسْمٌ গুলোর শেষ অক্ষরের পেশ(ضمَّه) স্বরচিহ্ন পরিবর্তন হয়ে জের (كَسْرَه) হয়ে গেল। অর্থাৎ এই Preposition এর কারণে اِسْمٌ টি  مَرْفُوْعٌ থেকে  مَخْرُوْرٌ হয়ে গেল।

 

Leave a Comment