অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম জানার বিষয়ে আমাদের আগ্রহের কোন কমতি নেই। বিশেষ করে যে সকল শিক্ষিত মহিলারা বিয়ের পর সংসারের তাগিদে চাকরি না খুজে ঘরে থেকে কাজ করা পছন্দ করেন। আপনি যদি এরকম পর্যায়ের হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি সঠিক জাগায় এসেছেন। এই পোষ্টটি আপনার জন্য।

তবে, একটি সমস্য হল, অনলাইনের ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে বাজারে তথ্যের কোন ঘাটতি নেই। অনলাইন, অফলইনসহ বিভিন্ন উৎসে তথ্যের ছড়াছড়ি। অভাব শুধু কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের।

তাই, এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা অনলাইন ব্যবসা কিভাবে করব তার উপর প্রয়োজনিয় তথ্য সঠিকভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করব।

আপনি যদি ইংরেজীতে পারদর্শি হয়ে থাকেন, আপনার যদি শেখার মানসিকতা থাকে এবং যদি আপনি পরিশ্রমি হয়ে থাকেন, তাহলে সাফল্য আপনার দোরগড়ায়।

তবে, মনে রাখতে হবে, যে কোন নতুন ব্যবসার শুরু করার পর সাফল্য পেতে আপনার ধৈর্যের প্রয়োজন হবে। বিষয়টি এমন নয় যে, আজ শুরু করলে কালই লাভ দেখা যাবে।

আর একটি সাধারন নিয়ম আপনি হয়ত প্রায়ই দেখে থাকতে পারেন, যারা খুব দ্রুত সাফল্য পায়, তাদের সফলতা টেকসই বা দীর্ঘ মেয়াদি হয় না। আর যারা আস্তে আস্তে সফলতার শিখরে পৌঁছে, তারা দির্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে।

এজন্য আপনাকে ঘরে থেকে অনলাইন ব্যবসা শুরুর আগে একটি সুদুর প্রসারি পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে। অনেক কথা হয়ে গেল, এবার মুল প্রসঙ্গে চলে আসি। আজ আমি আপনাদের নিকট অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম আমার আইডিয়া শেয়ার করব। আসুন শুরু করা যাক সহজ দশটি পদ্ধতিতে অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম।

অনলাইন টেইলরিং :

মেয়েদের সাধারনত: সেলাই শেখার ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই একটি প্রচলন লক্ষ করা যায়। তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি সেলাই শেখার অংশটুকুও সেরে নেয়। যাতে অন্ততপক্ষে নিজের কাপড়গুলো নিজেই তৈরি করা শিখতে পারে। আপনার যদি এরকম একটি অতিরিক্ত দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে আপনি ঘরে থেকে অনলাই টেইলরিং ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

কি কি লাগবে এই অনলাইন টেইলরিং শুরু করতে?

এজন্য আপনার প্রয়োজন হবে, দুটো সেলাই মেশিন যার একটি ট্র্যাডিশনাল এবং অপরটি ইনডাস্ট্রিয়াল টাইপের সিঙ্গেল নিডল মেশিন। আর একটি ওভার লক মেশিন। এছাড়াও লাগবে কিছু প্রয়োজনীয় আসুসঙ্গিক যেমন, কেচি, সেপ কার্ড, কাপড় পরিমাপের ফিতা, বিভিন্ন রং এর সুতা এবং রঙ্গিন চক ইত্যাদি।

কিভাবে অনলাইন টেইলরিং শুরু করবেন?

আপনি অনলাইন টেইলরিং কিভাবে শুরু করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার বিজিনেস প্ল্যান এর উপর। তবে, সম্পূর্ন  নতুন ভাবে শুরু করার বেলায় ছোট পর্যায়ে শুরু করাটাই ভাল। কাজেই, ধরে নেই সকলের মত আপনিও ছোট থেকে শুরু করবেন।

এজন্য প্রথমেই আপনার ছোট আকারের ব্যবসা পরিকল্পনাটি তৈরি করে নিতে হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আপনি প্রথমে আপনার কাস্টমার টার্গেট করুন, কারা এবং কোন কোন এলাকার লোক আপনার কাস্টমার হবে। প্রথম প্রথম ট্রায়াল হিসাবে আপনার আত্মীয় স্বজনদেরও টার্গেট করে নিতে পারেন।

এবার আসি অনলাইন প্রসঙ্গে। অনলাইনে কিভাবে আপনার এই টেইলরিং ব্যবসা প্রোমোট করবেন। এজন্য, বিনা পয়সায় আপনি ”গুগল মাই বিজিনেস” সাইটে গিয়ে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে একটি একাউন্ট করুন। তারপর সেখানে কোন এলাকার কাস্টমারদের সেবাটি দিবেন তা উল্লেখ করুন।

কাস্টমাররা ”গুগল মাই বিজিনেস” সাইটের যোগযোগের ঠিকানা অনুযায়ি অর্ডর দেওয়া নিয়ে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। অর্ডার পাওয়ার পর আপনি একজন এসিস্ট্যান্টকে জামার কাপড় ও মাপ নেওয়ার জন্য গ্রাহকের বাসায় পাঠাবেন। তারপর জামাটি তৈরি করার পর পুনারায় ঐ গ্রাহকের নিকট পৌঁছে দিবেন।

ফ্যাশন হাউজ :

এখানে আপনার প্রয়োজন হবে কিছু থান কাপড় যা দিয়ে আপনি পোশাক তৈরি করবেন এবং তারপর সেই পোশাকে এমব্রয়ডারি করে নিবেন। এভাবে হরেক ডিজাইনের হরেক রকম মহিলাদের ড্রেস তৈরি করবেন। তার আপনি সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে বাজারজাত করবেন। সেক্ষেত্রে ফেসবুকে একটি পেজ তৈরি করলেই প্রাথমিকভাবে আপনি আগাতে পারেন। তারপর ব্যবসা বড় হলে আপনি অনলাইন সপ তৈরি করে তার মাধ্যমেও মার্কেটিং করতে পারবেন।

আর্টিকেল লিখে:

বিশ্বব্যাপি অনেক অনলাইন জব প্লেস রয়েছে যেখানে আপনি বিভিন্ন আর্টিকেল লেখার কাজ পেতে পারেন। তবে, এই অনলাইন জব সাইটের মধ্যে আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সিং ডট কম, গুরু প্রভৃতি নির্ভরযোগ্য যেখানে কাজ পেলে পেমেন্ট নিয়ে আপনাকে কোন ঝামেলা পোহাতে হবেনা। আপনি যদি ইংরেজীতে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে সহজেই এখানে আপনি সাফল্য পেতে পারেন। বায়ারের চাহিদা মোতাবেক আপনাকে বিভিন্ন টপিকসের উপর আর্টিকেল লিখে যেতে হবে। যেকোন টপিকসের উপর আর্টিকেল লেখার সময় অনলাইন থেকে কনটেন্টের ড্রাফট যোগার করতে হবে। তারপর ঐ কনটেন্ট রিরাইট করে ইউনিক কনটেন্টে রুপান্তরিত করবেন। এরজন্য আপনি বাজারে কিছু ফ্রি আর্টিকেল স্পিনিং সফ্টওয়ারের সাহায্য নিতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার:

ওয়ার্ডপ্রেস হল সারা দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম। সারা বিশ্বে যত ওয়েবসাইট রয়েছে তার একটি বড় অংশই ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মে তৈরি। এটা কঠিন কিছু নয়। ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়ার কারনেই ইহা এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছে। একটু চেষ্টা করলে আপনিও ভাল একজন ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হতে পারেন। ইউটিউবে অনেক ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে যেখান থেকে খুব সহজে ঘরে বসেই আপনি শিখে নিতে পারেন। এখানে আপনার শেখার বিষয় হল ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাসবোর্ডের প্রতিটি মেনু কিভাবে কাজ করে তা শিখে নেওয়া। এরপর কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেসে পেজ ও পোস্ট তৈরি করতে হয় এবং কিভাবে তা ফরম্যাটিং করতে হয়। এছাড়া, ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে অনেক ইকামার্স ওয়েবসাইট ইদানিংকালে তৈরি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে জানতে হবে প্রোডাক্ট পেজ কিভাবে কাজ করে, প্রোডাক্ট কিভাবে এন্ট্রি দিয়ে পোস্ট করতে হয় ইত্যাদি। এই কাজগুলো শিখে নিতে পারলে আপনি অনলাইন জব থেকে সহজেই কোন কাজ যোগার করতে পাববেন। যা আপনি ঘরে থেকেই কাজগুলো করে পয়সা উপার্জন করতে পারবেন।

ব্লগিং :

ব্লগিং হল একটি অনলাইন ডায়রির মত। অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম এর মধ্যে ব্লগিং হল অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এখানে আপনি বিভিন্ন টপিকসের বিভিন্ন আর্টিকেল লিখে নিয়মিত পোস্ট করে যাবেন। ব্লগিং করার জন্য আপনি ওয়ার্ডপ্রেসকে বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি ডোমেইন কিনতে হবে এবং তা কোন ওয়েব হোস্টিং সার্ভারে হোস্ট করে নিতে হবে। তাতে আপনার বছরে হাজার দুই টাকার মত খরচ হবে।

এখানে আপনার ব্লগিং সাইটে আর্টিকেল লিখার আগে যে কোন একটি নিশ (Niche) বেছে নিতে হবে। নিশ বলতে বুঝায় কোন সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক টপিকস যার উপর ভিত্তি করে আপনি নিয়মিত ভাবে আর্টিকেল লিখে পোস্ট করে যাবেন। এভাবে যখন আপনার ৫০-৬০ টি আর্টিকেল পোস্ট হয়ে যাবে তখন আপনি  ভাল সংখ্যায় আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর পেয়ে যাবেন।

যখন প্রতি মাসে আপনার ব্লগিং সাইটে ভিজিটর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে, তখন আপনি গুগল এডসেন্স থেকে একাউন্ট করে নিবেন। এর দ্বারা আপনি প্রতি মাসে আয় করতে পারেন। এছাড়া অন্যান্য এড নিয়েও আপনি ভাল মাপের পয়সা আয় করতে পারবেন। মজার বিষয় যে, গুগল এডসেন্স এখন বাংলা ভাষাতেও আপনার একাউন্ট অনুমোদন দেওয়া শুরু করেছে।

ডাটা এন্ট্রি:

কম্পিউটারের অন্যান্য অফিস এপ্লিকেশন সফ্টওয়ারের সাথে সাথে  আপনার যখন ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কেও ধারনা হয়ে যাবে তখন আপনি অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে খুব সহজেই ডাটা এন্ট্রির কাজ যোগার করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে ডাটা এন্ট্রির ধারন কিছুটা পাল্টে গিয়েছে। আগের মত গতবাধা ডাটা এন্ট্রির দক্ষতা নিয়ে টিকে থাকা আপনার জন্য কষ্টকর হতে পারে। যেমন ধরুন, কোন ইকমার্স সাইটে প্রোডাক্ট এন্ট্রি এক ধরনের ডাটা এন্ট্রি কাজ যে কাজে বাজারে অনেক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া আরোও অনেক ধরনের ডাটা এন্ট্রি কাজ রয়েছে যা আপনি আপওয়ার্কে গেলেই বুঝতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং:

অনলাইন ব্যবসা কিভাবে করব সেই ১০ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এই এপ্রোচটি বর্তমান সময়ে খুব প্রচলিত। এফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোন উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য আপনি বাজারজাত করার জন্য অনলাইনে প্রোমোট করবেন। ধরুন, আপনার ব্লগ সাইটে আপনি কোন প্রোডাক্টের তুলনামুলক রিভিউ আর্টিকেল পোস্ট করলেন। সেখানে যে পন্যটিকে আপনি সুপারিশ করবেন ঐ প্রোডাক্টের এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করবেন। পরে আপনার কোন ভিজিটর যদি ঐ লিংক ব্যবহার করে পন্যটি কিনে তাহলে আপনি পন্যটির বিক্রয়মুল্যের উপর একটি নির্দিষ্ট অংকে কমিশন পাবেন। এই হল এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ধারনা।

গ্রাফিকস ডিজাইনিং:

মহিলাদের জন্য গ্রাফিকস ডিজাইনিং এর কাজ অনেকটা পছন্দের। মনের মাধুরি মিশিয়ে আপনি কোন একটি কাজের ডিজাইন তৈরি করতে পারেন। বর্তমান বাজারে গ্রাফিকস ডিজাইনের অনেক চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আপনার কাজের সুযোগ রয়েছে। যেমন ধরুন প্রিন্টিং ইন্ডাষ্ট্রি, টেক্সটাইল ইনডাষ্ট্রি, ফ্যাশন ডিজাইনিং ইত্যাদি সেক্টরে একজন গ্রাফিকস  ডিজাইনারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি গ্রাফিকস ডিজাইনিং কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তাহলে ঘরে থেকেই অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে কাজ গুলের অর্ডর যোগার করে অনলাইনেই ডেলিভারি দিতে পারেন।

ই- কমার্স :

আপনি ইতিমধ্যেই ওয়ার্ডপ্রেস থেকে শুরু করে অনেক কিছুই জেনে গেছেন। এখন আপনি খুব সহজেই একটি অনলাইন সপ তৈরি করে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু করতে পারেন। এর জন্য আপনার একটি ওয়েবসাইট লাগবে। আপনার ই-কমার্স সাইটে আপনি প্রথমে মেয়েদের জামা-কাপড় উঠিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। হরেক রকম থ্রি পিস, ওয়ান পিস এবং আরোও অন্যন্য ফিমেল আইটেম বেছে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি বড় বড় ফ্যাশন ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের পণ্যের ছবি যোগার করে আপনার সাইটে প্রোমোট করেও পয়সা উপার্জন করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং :

সবশেষে ফ্রিল্যান্সিং। একটি স্বাধিন পেশা। উপরের কোন কিছুতেই যদি আপনি আগ্রহি না হন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ অনলাইন ভিত্তিক কাজ। যা আপনি ঘরে থেকেই সামাল দিতে পারেন। এর জন্য যদি আপনার কম্পিউটার এবং লেখালেখির উপর দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি একজন আপওয়ার্কার হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

 

পরিশেষে এই অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের কাছে কেমন লাগল কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। উল্লেখিত ১০ টি বিষয়ে যদি আরোও কোন বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে জানাতে ভুলবেন না। এছাড়া অন্য কোন বিষয়ের উপর ব্যবসায়িক ধারনা পেতে লিংকে ক্লিক করুন। ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।