ওয়েব হোস্টিং কি, কত প্রকার ও কিভাবে কাজ করে?

ওয়েব হোস্টিং কি, এর মানে হলো – হোস্টিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান যখন তার ওয়েব সার্ভারে কোন ওয়েবসাইটের সব ধরণের ফাইল সংরক্ষণের জন্য জায়গা বরাদ্দ করে, তাকেই ওয়েব হোস্টিং বলা হয়। আমরা জানি ওয়েবসাইট তৈরিতে বিভিন্ন ধরণের ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষার কোড ব্যবহৃত হয় যেমন html, css, php, java script ইত্যাদি। এর সাথে ইমেজসহ আরোও অন্যান্য ধরণের ফাইল থাকতে পারে। ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডারের কাজ হচ্ছে এই কোডসহ অন্যান্য ফাইলগুলিকে সাধারণ ইউজারের নিকট বোধগম্য হয় এমনভাবে ব্রাউজারের স্ক্রীণে দৃশ্যমান করা। আপনি যে কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন না কেন, তা কোন না কোন হোস্টিং সার্ভারে রেখে দেওয়া থাকে।

আপনার ওয়েবসাইটকে হোস্ট করার জন্য সার্ভারে যে পরিমান জায়গার প্রয়োজন হবে তার উপর ভিত্তি করে ওয়েব হোস্টিং কয়েক প্রকার হয়ে থাকে। যেমন- শেয়ার হোস্টিং, ডেডিকেটেড, ভিপিএস, ইত্যাদি। ওয়েব হোস্টিং এর এই ধরণসমুহের মাঝে হোস্টিং সার্ভারের প্রযুক্তিগত ভিন্নতা থাকে।

এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ওয়েব হোস্টিং কি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের উপর একটি প্রাথমিক ধারণা পাবেন যা আপনার সামনের পথচলাকে সহজ করে দিতে পারে।

ওয়েব হোস্টিং কি

এর মানে হলো – হোস্টিং সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান যখন তার ওয়েব সার্ভারে কোন ওয়েবসাইটের সব ধরণের ফাইল সংরক্ষণের জন্য জায়গা বরাদ্দ করে, তাকেই ওয়েব হোস্টিং বলা হয়। আমরা জানি ওয়েবসাইট তৈরিতে বিভিন্ন ধরণের ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষার কোড ব্যবহৃত হয় যেমন html, css, php, java script ইত্যাদি। এর সাথে ইমেজসহ আরোও অন্যান্য ধরণের ফাইল থাকতে পারে। ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডারের কাজ হচ্ছে এই কোডসহ অন্যান্য ফাইলগুলিকে সাধারণ ইউজারের নিকট বোধগম্য হয় এমনভাবে ব্রাউজারের স্ক্রীণে দৃশ্যমান করা। আপনি যে কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন না কেন, তা কোন না কোন হোস্টিং সার্ভারে রেখে দেওয়া থাকে।

আপনার ওয়েবসাইটকে হোস্ট করার জন্য সার্ভারে যে পরিমান জায়গার প্রয়োজন হবে তার উপর ভিত্তি করে ওয়েব হোস্টিং কয়েক প্রকার হয়ে থাকে। যেমন- শেয়ার হোস্টিং, ডেডিকেটেড, ভিপিএস, ইত্যাদি। ওয়েব হোস্টিং এর এই ধরণসমুহের মাঝে হোস্টিং সার্ভারের প্রযুক্তিগত ভিন্নতা থাকে।

ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে এক কথায় বলতে গেলে, এটি হল World Wide Web এর ভিতর কোন ওয়েবসাইটের জন্য একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া বা কিনে নেওয়া বুঝায়। HTML, CSS এবং ইমেজসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ফাইলসমুহ যা ওয়েবসাইট কনটেন্ট নামে পরিচিত তা এর সার্ভারে রাখা হয় যাতে সারা বিশ্বের যে কেউ যখন তখন তার ব্রাউজার ব্যবহার করে এই কনটেন্ট দেখতে পারে।

ওয়েব সার্ভার কি?

ওয়েব সার্ভার হচ্ছে একটি কম্পিউটার যার সাথে ইন্টারনেট প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের ওয়েব ইউজার তার কম্পিউটার বা অন্য কোন ডিভাইসের মাধ্যমে সংযোগ ঘটাতে পারে।

কাজেই, ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার যারা রয়েছে তাদের কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। যেমন- সার্ভার, সংযোগ সক্ষমতা এবং কোন ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য এর সাথে  সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সামগ্রী।

ওয়েব হোস্টিং সেবা দানকারি প্রতিষ্ঠান কাস্টোমারের চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন ধরণের ওয়েব হোস্টিং এর উপর বিভিন্ন ধরণের প্যাকেজ অফার করে। যা ওয়েবসাইটের ক্ষুদ্র কোন ব্যাক্তি মালিক থেকে শুরু করে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের চাহিদাকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়।

ওয়েব হোস্টিং কিভাবে কাজ করে?

আপনার ওয়েবসাইট বিভিন্ন প্রকার ফাইলের সমষ্টি যা আপনার লোকাল কম্পিউটারে রক্ষিত থাকতে পারে। আপনার নিজের কম্পিউটারে লোকাল হোস্টের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের তৈরিকৃত ফাইলসমুহের কার্যকারিতা দেখতে পারেন। কিন্তু লোকাল হোস্টে শুধু আপনিই দেখতে পাবেন। অন্য কেউ নয়। আপনার কম্পিউটারে ওয়েব সার্ভার ইনস্টল করে নিলেই তা লোকাল হোস্ট হয়ে যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হল, আপনি ছাড়া সারা বিশ্বের লোকজন আপনার সাইট কিভাবে দেখতে পাবে? এর জন্য যে সব কাজ করতে হয় তাকেই ওয়েব হোস্টিং বলা হয়।

অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইট তৈরির সমস্ত ফাইলগুলি যখন আপনার লোকাল কম্পিউটার থেকে ওয়েব সার্ভারে আপলোড করা হয় তখন ওয়েব হোস্টিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যায়।

ওয়েব হোস্টিং গুরত্বপূর্ণ কেন?

আপনি যদি নিজেকে বা আপনার কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইন উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন, তাহলে আপনাকে কোন নির্ভরযোগ্য ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডার এর স্বরণাপন্ন হতে হবে। সারা বিশ্বে ছোট বড় মিলিয়ে শত শত ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডার রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরণের হোস্টিং সার্ভিস প্রদান করে যাচ্ছে।

হোস্টিং সার্ভিসের এই প্যাকেজসমুহ খুব স্বল্প টাকা থেকে শুরু করে অনেকটা ব্যয়বহুল পর্যন্ত হতে দেখা যায়। যা আপনার ব্যবসার ধরণ, ট্রাফিকের সংখ্যা ইত্যাদি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

কাজেই, আপনি ওয়েব হোস্টিং এর যে প্ল্যানটি বেছে নিবেন তার আগে আপনাকে দেখতে হবে আপনি কি উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইট ব্যবহার করবেন এবং হোস্টিং বাবদ আপনার বাজেটের পরিমান কেমন।

সঠিক হোস্টিং প্ল্যান নির্বাচন করার অর্থ হল হোস্টিং কম্পানি থেকে আপনি যে বিষয়গুলি গ্রহন করবেন তা যেন আপনার চাহিদা মোতাবেক সঠিক পরিমানে হয়। তা না হলে আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড ভাল হবে না। ফলে, আপনার টার্গেট অডিয়েন্স হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

চিন্তা করুন, বর্তমান বিশ্বে কত বড় সংখ্যার ব্যবসায়ি রয়েছে যারা তাদের ব্যবসা প্রাথমিকভাবে অনলাইনে পরিচালনা করে যাচ্ছে। যেমন, তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রি, বিক্রির জন্য lead generation বা তাদের brand awareness – এই কাজগুলো কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়েবসাইটের দ্বারাই সম্পন্ন হতে পারে।

আপনার ব্যবসার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোন পণ্য বা সেবা খুঁজতে গিয়ে কোন ভিজিটর যদি সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইটটিকে দেখতে পায় এবং তা ক্লিক করার পর load হতে যদি অনেক সময় পর্যন্ত  তাকে অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে এক কথায় আপনি একজন ভবিষ্যত কাস্টোমার হারালেন। কারণ, কোন পটেনশিয়াল কাস্টোমার বেশী সময় ধরে অপেক্ষা করবে না। অন্য কোথাও খুঁজার চেষ্টা করবে। এর ফলে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যাবে যা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য মোটেও কোন সুখকর খবর নয়।

এজন্য, আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ওয়েব হোস্টিং সার্ভার এর বিভিন্ন রিসোর্স যেমন র‌্যাম, হার্ড ড্রাইভ স্পেস, ব্যান্ডউইথ ইত্যাদি বিষয়াদি কি পরিমানে লাগতে পারে তা পরিকল্পনা করেই আপনাকে হোস্টিং প্ল্যান বেছে নিতে হবে।

কারণ, আপনার নির্বাচিত হোস্টিং প্ল্যান অনুযায়ি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য জায়গা বরাদ্দ থাকবে যেখানে আপনার ওয়েবসাইটেরে ফাইলসমুহ থাকবে।

অফলাইন দৃষ্টিকোন থেকে, ধরুন আপনি একটি অফিস স্পেস ভাড়া নিবেন। এখন আপনিই চিন্তা করে দেখুন কত বর্গফুট জায়গা হলে আপনার অফিসের সব জিনিসপত্র রেখে যাবতীয় কর্মকান্ড সুন্দরুপে সম্পন্ন করা যাবে। আপনার অফিসে কি পরিমান লোক  দৈনিক আসা যাওয়া করবে, সেখানে আগত সব লোকের জায়গার সংকুলান হবেতো? এই বিষয়গুলি পূর্ব থেকে চিন্তা করতে হয়। ওয়েবসাইটের জন্য ওয়েব হোস্টিং কম্পানি থেকে জায়গা বরাদ্দের বিষয়টিও ঠিক তেমনি।

যদি আপনি ওয়েবসাইট পরিচালনায় নতুন হয়ে থাকেন, তাহলে ওয়েব হোস্টিং এই খুটিনাটি বিষয়গুলি প্রথম প্রথম আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই, এই বিষয়ে একটি পরিস্কার ধারণা নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত।

ওয়েব হোস্টিং কত প্রকার?

ওয়েব হোস্টিং কি – এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি ধারণা পেয়েছেন। তাহলে, এবারে চলুন – এর প্রকারভেদ নিয়ে কথা বলি।

বাজারে অনেক ধরণের ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজ আছে। এর মধ্যে আপনার প্রয়োজন মিটে যায় এমন একটি প্যাকেজ আপনাকে বাছাই করতে হবে। এদের মধ্যে মুলত চার ধরণের ওয়েব হোস্টিং সচারাচর দেখতে পাওয়া যায়।

আপনাকে এই প্রত্যেক প্রকারের ওয়েব হোস্টিং এর সুবিধা অসুবিধা কি কি আছে সে বিষয়ে আপনাকে বিস্তারিত জানতে হবে। তারপর, আপনার জন্য কোনটি মানানসই তা ঠিক করতে হবে।

তাহলে চলুন জেনে নেই, সবচেয়ে কমন এই চার প্রকারের ওয়েব হোস্টিং এর খুটি-নাটি দিকগুলি।

  • শেয়ার হোস্টিং
  • ভিপিএইচ হোস্টিং
  • ডেডিকেটেড এবং
  • ক্লাউড

আপনি এসব প্রকারের ওয়েব হোস্টকে একটি এপার্টমেন্ট বা একটি ঘরের সাথে তুলনা করতে পারেন। যেভাবে, আপনি আপনার বাজেট এবং লাইফস্টাইলের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরণের ঘরের মধ্যে আপনার জন্য যেটি উপযুক্ত হয় সেটি নির্বাচন করেন।

শেয়ার হোস্টিং

আপনি যদি নতুনভাবে ওয়েবসাইট শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে এটি হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট একটি চয়েস। কারণ, নতুন হিসাবে আপনার ওয়েবসাইটের রিসোর্স যাই থাকুক না কেন সেখানে  ভিজিটরের সংখ্যা তুলনামুলক অনেক কম থাকে। অরগানিক ট্রাফিকের কথা যদি বলি, তাহলেতো প্রথম তা ছয় মাস শূণ্যের কোটায়  থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশী।

যাহোক, শেয়ার হোস্টিং এমন ধরণের হোস্টিং সার্ভিস যেখানে একই সার্ভারে একাধিক ওয়েবসাইট হোস্ট করা থাকে। সেই একাধিক এর সংখ্য কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্তও হতে পারে।

মুল বিষয় হল, যত সংখ্যার ওয়েবসাইট সেখানে হোস্ট করা থাকুক না কেন, যেহেতু একই সার্ভারে তাদের হোস্টিং দেওয়া হয়, তাই সমস্ত ওয়েবসাইটের জন্য সার্ভারের রিসোর্স একই রকম থাকে। অর্থাৎ, সার্ভার কম্পিউটারের র‌্যাম, সিপিইউ, ডিস্ক স্পেস, ব্যান্ডউইথ একই থাকে।

সার্ভারের সকল রিসোর্স সকল ওয়েবসাইটের মাঝে শেয়ার করার কারণে  এই ধরণের হোস্টিং সার্ভিস এর মুল্য সবচেয়ে কম হয়। যা যে কোন ওয়েবসাইটের শুরুর পর্যায়ে খুব লোভনিয় একটি ব্যাপার হতে পারে।

তাই, আপনি যদি নতুনভাবে ঘরে অবস্থান করে ওয়েবসাইটের দিয়ে ব্যবসা জাতিয় কিছু করতে চান বা ব্লগিং করে পয়সা উপার্জন করতে চান; তাহলে, শেয়ার হোস্টিং প্যাকেজ আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে।

শেয়ার হোস্টিং প্ল্যানেও আপনি ওয়েবসাইট তৈরির প্রয়োজনী টুলস বা উপকরণ কন্ট্রোল প্যানেল থেকে পেয়ে যাবেন। যেমন, ওয়েবসাইট বিল্ডার, ওয়ান ক্লিক ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলেশন, ইমেইল সার্ভিস ইত্যাদি।

তবে, আস্তে আস্তে যখন আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিকের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে মাসে ৫০০০০ অতিক্রম করবে, তখন আপনি হোস্টিং প্ল্যান শেয়ার থেকে আপগ্রেড করে নিবেন।

ভিপিএস বা ভারচুয়াল প্রাইভেট সার্ভার

ভিপিএস হোস্টিং এর অবস্থান হচ্ছে শেয়ার ও ডেডিকেটেড হোস্টিং এর মাঝামাঝি পর্যায়ে। এটি ঐ সব ওয়েবসাইট মালিকদের জন্য প্রযোজ্য যাদের ডেডিকেটেড সার্ভারের প্রয়োজন নেই অথচ তাদের একটু অধিক হোস্টিং সুবিধার প্রয়োজন।

ভিপিএস হোস্টিং এক প্রকারের ইউনিক হোস্টিং সুবিধা যেখানে প্রত্যেক ওয়েবসাইটের জন্য হোস্টিং সার্ভারে নিজস্ব স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয় যদি। যদিও এই হোস্টিং এর ক্ষেত্রে একই সার্ভারের রিসোর্সসমুহ একাধিক ওয়েবসাইট এর মাঝে শেয়ার করা হয়।

তবে, এখানে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য সার্ভার কাস্টমাইজেশনের সুযোগ বেশী থাকে এবং স্টোরেজ স্পেসও তুলনামুলক অধিক পরিমানে দেওয়া থাকে। তথাপি, আপনার ওয়েবসাইটের অধিক কর্মক্ষমতার জন্য একসাথে খুব বেশী পরিমানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয় এই ধরণের হোস্টিং এর ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তখন এই সার্ভারে অন্যান্য যে সব ওয়েবসাইট হোস্ট করা হয় তারা প্রভাব ফেলতে পারে।

যারা মাধ্যমিক পর্যায়ের ওয়েবসাইট ইউজার তাদের জন্য এটি একটি উত্তম পরিকল্পনা হতে পারে। কারণ, আপনি ডেডিকেটেড সার্ভারের তুলনায় দামে কিছুটা সুবিধা পাবেন এবং শেয়ার হোস্টিং এর চেয়ে অধিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

ডেডিকেটেড সার্ভার

এই ধরণের হোস্টিং প্যাকেজে একজন ওয়েবসাইট মালিক হিসাবে আপনার থাকবে সার্ভারে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এর কারণ হল, সার্ভারটি আপনি সম্পূর্ণরুপে ভাড়া নিচ্ছেন এবং আপনার সাইটই একমাত্র ওয়েবসাইট যেটিকে সেখানে হোস্ট করা হবে। এর অর্থ হবে, সার্ভারের রুট এবং এডমিনে আপনার থাকবে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার। কাজেই, আপনি এর সিকিউরিটি থেকে অপারেটিং সিস্টেম পর্যন্ত সবকিছুই নিজের মত করে বানিয়ে নিতে পারবেন।

তবে, সে যাই হোক না কেন, এর জন্য আপনাকে পয়সা গুনতে হবে। এ জায়গায় আপনি কার্পন্য করতে পারবেন না।

ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজগুলোর মধ্যে এটি হল সবচেয়ে ব্যয়বহুল একটি প্ল্যান। সাধারণত: যারা সার্ভারে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেতে চায় এবং যাদের ওয়েবসাইটে খুব বেশী পরিমানে ট্রাফিক আসা যাওয়া করে তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য।

তবে, এক্ষেত্রে প্রয়োজন, আপনার খুব উচু মাপের কারিগরি দক্ষতা যাতে সার্ভারে বিভিন্ন কিছু ইনস্টলেশন থেকে শুরু করে সার্ভার ব্যবস্থাপনার প্রতিটি বিষয় আপনার নখদর্পনে থাকে।

ক্লাউড হোস্টিং

ক্লাউড হোস্টিং বর্তমান সময়ে ওয়েব হোস্টিং জগতের সবচেয়ে আপডেটেড প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির আওতায় বিভিন্ন জায়গা থেকে একসাথে অনেকগুলো কম্পিউটার মিলে ওয়েব হোর্স্টি সার্ভারের ভূমিকা পালন করে। এইভাবে সম্মিলিত রিসোর্সের ভিতর দিয়ে সার্ভারে সব এপ্লিকেশন সফ্টওয়ার তাদের স্ব স্ব কার্যক্রম পরিচালনা করে।

ক্লাউড হোস্টিং এর আওতাভূক্ত সকল কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাহায্যে আবদ্ধ থাকে। এই হোস্টিং এর রিসোর্স দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সার্ভার তৈরি হয়। এর ফলে সার্ভারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডাউনটাইম হওয়ার আশংকা অনেক কমে যায়।

ক্লাউড হোস্টিং এর সুবিধাগুলো আপনার প্রয়োজনমত আপগ্রেড করানোর সুযোগ থাকে। যেহেতু, কোন নতুন ওয়েবসাইট লাইভে ছেড়ে দিলে তার গ্রো হতে সময় লাগে। কাজেই, সময়ের চাহিদামত আপনি ক্লাউড হোস্টিং এর সুযোগসমুহ বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

কোন ধরণের হোস্টিং বেছে নেওয়া উচিত?

এটি নির্ভর করবে আপনি কি ধরণের ওয়েবসাইট কি উদ্দেশ্যে তৈরি করতে চাচ্ছেন এবং তার জন্য আপনার হোস্টিং সম্পর্কিত কি কি রিসোর্সের প্রয়োজন তার উপর।

যদি আপনি একজন নবাগত হিসাবে ব্যক্তিগত শখের বশে কোন ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান অথবা একজন ব্লগার হিসাবে  নেটজগতে নিজের নাম লেখাতে চান; তাহলে আপনার জন্য শেয়ার হোস্টিং প্যাকেজ শ্রেয়।

এছাড়াও, শেয়ার হোস্টিং তাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের সবচেয়ে কম খরচে হোস্টিং সার্ভিস পেতে চায় বা যাদের হোস্টিং বাবদ বাজেট খুব সীমিত এবং যাদের ওয়েব হোস্টিং বিষয়ে কারিগরি জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে তাদের জন্য শেয়ার হোস্টিং সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।

আবার, আপনি যদি মধ্যম বা বৃহত সারির কোন ব্যবসায়ি হন এবং আপনার ব্যবসাকে আপনি অনলাইনে নিয়ে যেতে চান, তাহলে ভিপিএস হোস্টিং আপনার জন্য ভাল হবে। যেহেতু, এক্ষেত্রে আপনার জন্য বরাদ্দকৃত হোস্টিং এর রিসোর্স অন্য কোন ওয়েবসাইট এর সাথে শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না। এর বাইরেও, অন্য কোন ওয়েবসাইটের ট্রাফিক চূড়া আপনাকে বা আপনার ওয়েবসাইট কর্মদক্ষতার উপর কোন প্রভাব ফেলবে না।

অপরদিকে, আপনি যদি কোন ই-কমার্স সাইট খুলতে চান, তাহলে ক্লাউড হোস্টিং আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। যেহেতু, ক্লাউড হোস্টিং –এ খুব বেশী ট্রাফিক হলেও কোন অসুবিধা হয় না বা এতে সার্ভার এর ডাউনটাইম এবং সার্ভার বসে যাওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।

আবার, যারা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কোন ওয়েবসাইট ওপেন করতে চায়, তারা ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং প্ল্যান গ্রহন করতে পারেন। কারণ, এখানে সার্ভারকে ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য অপটিমাইজ ও কনফিগার করে দেওয়া থাকে। এছাড়া, কিছু প্রয়োজনীয় প্লাগইন এখানে বিল্ট ইন অবস্থায় জুড়ে দেওয়া থাকে।

সবশেষে, আপনি যদি খুব বড় মাপের একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে চান যেখানে আপনার সাইটের ফাইল থাকে অনেক বেশী এবং ভিজিটর এর সংখ্যায় থাকবে শত সহস্র তাহলে ডেডিকেটেড সার্ভারটি আপনার জন্য। যেহেতু, এখানে একটি সার্ভার সম্পূর্ণরুপে আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে।

তবে, যে হোস্টিং প্ল্যানই গ্রহন করেন না কেন, হোস্টিং সার্ভারের নিচের কয়েকটি বিষয় মাথায় নিতে হবে-

  • আপটাইম: তারা কি কমপক্ষে ৯৯% আপটাইমের নিশ্চয়তা দিচ্ছে?
  • কম্পানি রেপুটেশন: তারা কত দিন যাবত মার্কেটে রয়েছে?
  • কাস্টোমার: তাদের কাস্টোমারের সংখ্যা ও ফিডব্যাক কেমন?
  • সাপোর্ট: তারা সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘন্টা ধরে সাপোর্ট দিবে?
  • রিসোর্স: হোস্টিং রিসোর্সসহ তাদের কি এস এস এল, ব্যাক আপ, ইমেইল, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে আপনাকে সহায়তা করার সুযোগ আছে?
  • মোবাইল একসেস: আপনিকি তাদের কন্ট্রোল প্যানেলে মোবাইল দিয়ে প্রবেশ করে কাজ করতে পারবেন?

কয়েকটি ভাল ওয়েব হোস্টিং কম্পানির নাম কি?

Bluehost

এই কম্পানি ওয়েব হোস্টিং জগতে বিগত ২০০৩ সাল থেকে সফলতার সাথে বিচরণ করছে। এখন তাদের সার্ভারে ২ মিলিয়নেরও অধিক ওয়েবসাইট হোস্ট করা রয়েছে।

তাদের জনপ্রিয়তার মুল কারণ, আপনি ওয়েব জগতে একজন নুতন ওপেনার হিসাবে যথেষ্ট কম মুল্যে তাদের সেবা গ্রহনের সুযোগ পাবেন।

কম্পানিটি বিশ্বের অন্যতম একটি সেরা মানের প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত। এর পিছনে একটি কারণ হতে পারে বিগত ১২ মাস সময়ে তাদের আপটাইম ছিল ৯৯.৯৫% এবং গতি ছিল ৭১৩ মিলি সেকেন্ড।

ব্লুহোস্টের বিভিন্ন প্যাকেজের সেবা মুল্য তাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখার জন্য লিংকে ক্লিক করুন।

Hostinger

আপনি যদি পাক ভারত উপমহাদেশের অধিবাসি হয়ে থাকেন এবং আপনার অধিকাংশ অডিয়েন্স যদি এই অঞ্চলের হয়ে থাকে, তাহলে আপনি এটিকে বেছে নিতে পারেন। কারণ, এর একটি ডাটা সেন্টার সিঙ্গাপুরে অবস্থিত। অর্থাৎ কিনা, আপনার অডিয়েন্স বা সাইট ভিজিটরের নিকটবর্তি।

 

NameCheap

এটি খুব ভাল একটি ওয়েব হোস্টিং সেবা দান কারি প্রতিষ্ঠান। এদের প্যাকেজ বিন্যাস মোটামোটি ভাল। তবে, এদের ডাটা সেন্টার এশিয়ায় নেই। ইংল্যান্ড ও অ্যামেরিকায় রয়েছে।

ResellerClub

রিসেলার ক্লাব ভাল কয়েকটি ওয়েব হোস্টিং কম্পানির মধ্যে একটি। এদের সেবার মানও বেশ ভাল।

 

BigRock

 

Liquid Web

বন্ধুগন, তাহলে, ওয়েব হোস্টিং কি , ওয়েব হোস্টিং কত প্রকার এবং কিভাবে কাজ করে – বিষয়গুলি সম্পর্কে আজকের আলোচনা থেকে অনেকটাই ধারণা পেয়েছেন। তবে, যদি কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। ধন্যবাদ