অনলাইন ইনকাম: কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায়?

অনলাইন ইনকাম, আজকের দিনের খুব কমন একটি বিষয়।

একটি সময় এমন অতিবাহিত হয়েছে যে, অফলাইন রুট ছাড়া পয়সা উপার্জনের বিকল্প কোন উপায় ছিলনা। সময়টি খুব বেশীদিন আগের কথা নয়। যখন থেকে ইন্টারনেট প্রযুক্তির আবির্ভাব হলো, তখন থেকে দৃশ্যপট ধীরে ধীরে পরিবর্তন হওয়া শুরু করল।

এখনতো বিষয়টি এমন যে, মনে হয় জীবনের পুরো অংশ জুরেই ইন্টারনেট বিস্তৃতি লাভ করেছে। ঘুমোতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ইন্টারনেট এবং ঘুম থেকে উঠার পর ইন্টারনেট। বিষয়টি বাস্তবতার নিরীখেই বলছি।

কম্পিউটার অনেকের কাছে নাও থাকতে পারে কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবহারকারিদের মধ্যে শত ভাগ না হলেও তাদের এক বিরাট অংশ যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে – এটি নির্দিধায় বলা যায়।

আর স্মার্টফোন ব্যবহারকারিদের মধ্যে কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করেনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।

একটি সাধারণ নিয়মের কথাই বলি, যেখানে বা যে রাস্তায় মানুষের চলাচল বেশী সেখানেই বিজ্ঞাপন দাতাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। এক সময়, টিভি চ্যানেল, অফলাইন পত্রিকা, পোষ্টার, লিফলেট ইত্যাদির ভিতর বিজ্ঞাপনের খুব প্রচলন ছিল। তখন সে সব জায়গায় মানুষের বিচরণ বেশী ছিল। এখন আস্তে আস্তে তারে জায়গা দখল করে নিয়েছে অনলাইন যত বিজ্ঞাপন মাধ্যম। কারণ, এখন আপনার হাতে যে ডিভাইসটি রয়েছে সেটি ব্যবহার করে আপনি নিমিষেই আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য যোগার করতে পারছে। আর এভাবেই, অনলাইন জগত আমাদের জীবনের ঐ বড় অংশটি দখল করে নিয়েছে।

যাহোক, কথা অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছে। কিন্তু মুল থিমটি তেমনই।

যেহেতু, অনলাইন জগতের সাথে আমরা ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে পরেছি, তাই সেই মাধ্যম ব্যবহার করে পয়সা উপার্জনের বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিসঙ্গত একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

এর জন্য আপনার প্রয়োজন শুধু একটি কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে থাকে এবং তার সাথে ইন্টারনেট সংযোগ। তাহলে, আপনিও অতি সহজে যোগ দিতে পারলেন সেই অনলাইন জগতে।

আগেই বলেছি, যেখানেই মানুষের চলা ফেরা বেশী সেখানেই সুযোগ তৈরি হবে পয়সা উপার্জনের। বিষয়টি একটি অপরটির সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

তাই প্রশ্ন – আপনি অনলাইন ইনকাম কিভাবে করবেন। এই প্রশ্নটিই হচ্ছে আমার আলোচনার মুল বিষয় বস্তু।

কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট থাকলে ঘরে বসেই যেহেতু অনলাইনে আয় করা যায়, তাই এভাবে সকলেই পয়সা উপার্জন করতে চায়। ফলে এখানে রয়েছে অনেক প্রতিযোগীতা। আর এই প্রতিযোগীতার সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু লোকের রয়েছে সমুহ প্রতারণার জাল। তারা খুব চটকদার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আপনাকে আকৃষ্ট করে আপনার থেকে পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। কাজেই এক্ষেত্রে আপনাকে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে এগুতে হবে।

কথাটি বলে রাখা জরুরি – অনলাইনে পয়সা উপার্জন ততটা সহজ কোন কাজ নয়। এর জন্য আপনাকে তীব্র প্রতিযোগীতার সম্মুখিন হতে হবে। প্রতিযোগীয় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ধৈর্য্য, আত্ববিশ্বাস এবং জ্ঞান ও দক্ষতার। এই বিষয়গুলি অর্জন করতে পারলে আপনিও সফল হতে পারবেন। এটি নি:সন্দেহে বলা যায়।

যাহোক, অদ্যকার পোষ্টটিতে কি কি উপায়ে আপনি অনলাইনে আয় করতে পারেন তা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।

চলুন মুল আলোচনার ফিরে যাই।

অনলাইন ইনকাম কিভাবে করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং

অনলাইন ইনকাম এর জন্য ফ্রিল্যান্সিং নি:সন্দেহে খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এর জনপ্রিয়তার মুল কারণ হলো আপনি ঘরে বসেই এই পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন যদি আপনার ঘরে একটি  কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। তবে, সেই সাথে আপনার থাকতে হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং পেশায় সফল হতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং পেশার সবচেয়ে মজার দিক হল, আপনি নিজের প্রয়োজন অনুসারে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।ফ্রিল্যান্সিং -এ কাজ পাওয়ার জন্য বর্তমানে বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য অনলাইন জব মর্কেটপ্লেস আছে। সেখানে গিয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে রেজিস্ট্রেশণ করে কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

এমন কয়েকটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য জব সাইটের নাম নিচে উল্লেখ করছি-

  • আপওয়ার্ক
  • ফ্রিল্যান্সার
  • গুরু

ঐ সাইটগুলোতে একা্উন্ট তৈরির পর প্রথম প্রথম  কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে, দু’-চারটি কাজ ক্লায়েন্টের চাহিদামত করে দিতে পারলে পরে আর সমস্যা হয় না।

আমি কিন্তু  “ক্লায়েন্টের চাহিদামত” শব্দটি প্রয়োগ করেছি। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে সফল হওয়ার জন্য এটি হচ্ছে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। কারণ, আপনার কাজ জমা দেওয়ার পর ফিডব্যাক প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ক্লায়েন্ট কাজের পারফর্মেন্সের উপর ভিত্তি করে আপনাকে ফিডব্যাক বা রিভিউ দিবে। যদিও আপনিও ক্লায়েন্টকে ফিডব্যাক দিবেন, তবে মনে রাখতে হবে একজন ফ্রিল্যান্সার ক্লায়েন্টকে দেওয়া আপনার ফিডব্যাক মুখ্য নয়। কেননা, আপনি কাজ করবেন আর ক্লায়েন্ট আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিবেন।

এজন্য, উপরে উল্লেখিত জব প্লাটফর্মে নিজের প্রোফাইল রক্ষার স্বার্থে আপনাকে সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে, আপনার প্রোফাইলে ক্লায়েন্ট কর্তৃক প্রদত্ত কোন ফিডব্যাক যেন পাঁচ তারকার কম না হয়।

ফিডব্যাকই শেষ নয়, এর সাথে আবার মন্তব্য প্রদানের সুযোগ থাকে। মনে রাখা জরুরি, কাউকে যদি কোন ক্লায়েন্ট কম ফিডব্যাক দিয়ে বিরুপ মন্তব্য প্রদান করে, তাহলে ধরে নিতে হবে, আপনার প্রোফাইলের অগ্রগতি এখানেই শেষ। আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হবে। তবে, যদি আপনাকে অন্যায়ভাবে কম মার্ক দিয়ে বিরুপ মন্তব্য প্রদান করে এবং আপনি তা যদি প্রমান করতে পারেন, তাহলে জব সাইট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করে এটিকে ওভারকাম করা সম্ভব।

যাহোক, উপরের আলোচনার মুল উদ্দেশ্য এটিই যে, আপনাকে খুব সতর্কতার সাথে কাজ নিতে হবে। যে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে আপনার প্রয়োজনীয় দক্ষতা আছে কিনা সে বিষয়ে আপনি শতভাগ নিশ্চিত হলেই নতুন কোন কাজে হাত দিবেন। অন্যথায় নয়।

এজন্য আপনাকে, ফ্রিল্যান্সিং পেশায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ক্লায়েন্টগন সচারাচার অধিক পরিমানে যে সব কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করানোর জন্য আউটসোর্স করে, আপনাকে সেদিকে তাকাতে হবে। ঐ কমন কাজগুলি করতে গেলে কি কি দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে সেভাবে আপনাকে সজ্জিত হতে হবে।

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার সময় আর একটি শেষ কথা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, তা হলো, আপনি বৈশ্বিক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছেন। সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের সাথে প্রতিযোগীতা করে আপনাকে কাজ বাগিয়ে আনতে হবে।

নিজে একটি ওয়েবসাইট খুলে

আপনি একটি ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে আয় করতে পারেন। ওয়েবসাইট খুলে অনলাইন ইনকাম এর জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার এক্সপার্টাইজ চিহ্নিত করতে হবে।

মানে হল, কোন কোন বিষয়ের উপর আপনি দক্ষতা অর্জন করেছেন তা মাথায় রেখে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঐ ধরণের সেবা বিক্রয় করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে হবে।

যেমন ধরুন, বর্তমান সময়ে অনলাইন টিউটরিং এর ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত। অনেকেই সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপর শিক্ষা লাভের পর তা অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিউটরিং করছে। পাশাপাশি আপনি যদি বিজ্ঞানের কোন বিভাগে ডিগ্রী থেকে থাকে তাহলে আপনি অনায়াসে ঐ বিষয়ে নিচের শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে পড়াতে পারেন।

অনলাইন টিউটরিং এর প্রসঙ্গ।

এবার আসুন, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, আর্টিকেল রাইটিং – ইত্যাদি বিষয়। আপনার যদি এসব বিষয়ের কোন একটি জেনে থাকেন তাহলে ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকে ঐ সেবাগুলি বিক্রি করতে পারেন।

তবে, বিষয় হল, আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক প্রবাহ থাকতে হবে। তা না হলে মানুষ কিভাবে আপনার সম্পর্কে জানবে। একটি ওয়েবসাইট খুলে খুব সুন্দর করে সেবাসমুহের কথা উল্লেখ করা হল, কিন্তু কেউ সেখানে ভিজিটই করে না; তাহলে কি লাভ?

কাজেই, ওয়েবসাইট খুলে সেখানে প্রয়োজনীয় সব সেবার নামসহ অন্যান্য সব কনটেন্ট পোষ্ট হয়ে গেলে সেখানে যাতে মানুষ ভিজিট করে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ভিজিটর আনার ব্যবস্থাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বলা হয়।

মুল বিষয়টি হল, সময়ের সাথে সাথে আগত নতুন নতুন বিষয়ের উপর তাল মিলিয়ে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। দক্ষতা অর্জনের কোন বিকল্প নেই। মানুষ যদি আপনার সেবার মাধ্যমে উপকৃত হয়, তাহলে তার মাধ্যমে আরোও নতুন নতুন গ্রাহক তৈরি হবে। এটিই স্বাভাবিক।

আর একটি বিষয় হল, একটি ওয়েবসাইট খুলার জন্য আপনার তেমন পয়সা খরচ হবে না। ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে এবং কত টাকা খরচ হতে পারে – তার উপর অন্য একটি পোষ্টে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেটি দেখে নিতে পারলে প্রাথমিক একটি ধারণা পাবে ন।

তবে, ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনি শুধুমাত্র ঐসব সেবার নাম উল্লেখ করবেন যেগুলো অনলাইনে বিক্রি করা যায়। যেমন কারোর জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে দেওয়া, ওয়েব ডিজাইন করা, গ্রাফিক্স এর বিভিন্ন কাজ, অনলাইনে ছাত্র পড়ানো ইত্যাদি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

অনলাইন ইনকাম এর আর একটি জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত উপায় হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে তার উপর অন্য এক পোষ্টে আলোচনা করা হয়েছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি কিভাবে অনলাইনে আয় করা যায় তা পরিস্কারভাবে বুঝার জন্য ঐ পোষ্টটি দেখে আসতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে এখানে সংক্ষেপে দু’ একটি কথা বলি। তিনটি মুল উপাদানের সমন্বয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং কার্যক্রম সংগঠিত হয়। এগুলো হল-

  • মার্চেন্ট:  পণ্য বা সেবা উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান যে তার উৎপাদিত পণ্য বা সেবার বিক্রি বৃদ্ধি করতে চায়।
  • এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক: মার্চেন্ট এবং এফিলিয়েট এর মিলন স্থল।
  • এফিলিয়েট: এফিলিয়েট নেটওয়ার্কের কোন পন্য বা সেবা যে ব্যক্তি বা কম্পানি বিক্রির জন্য প্রোমোট করে।

অনলাইন ইনকাম

বিষয়টি আরোও পরিস্কারভাবে বুঝার জন্য উপরের চিত্রের দিকে খেয়াল করুন।

এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হল এমন এক প্লাটফর্ম যেখানে মার্চেন্ট যোগদান করে তার উৎপাদিত পণ্য বা সেবা বিক্রির স্বার্থে। বিনিময়ে এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক উক্ত মার্চেন্ট এর নিকট থেকে সুনির্দিষ্ট একটি কমিশন লাভ করে তার প্রতিটি প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য।

অপরদিকে, এফিলিয়েট হিসাবে কোন ব্যক্তির এফিলিয়েট নেটওয়ার্কে যোগদানের উদ্দেশ্যই হল সেখান থেকে পণ্য বা সেবা বাছাই করে বিক্রির জন্য চেষ্টা করা। এজন্য, এফিলিয়েট -কে এফিলিয়েট মার্কেটার বলা হয়। এক্ষেত্রেও, এফিলিয়েট ব্যক্তি তার প্রতিটি পণ্য বা সেবা বিক্রির জন্য মার্চেন্টের নিকট থেকে সুনির্দিষ্ট হারে কমিশন লাভ করে।

তাহলে, বুঝা গেল, এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ধারণা মতে,  মার্চেন্ট তার পণ্য বা সেবা বিক্রির লাভের যে অংশটি প্রদান করে তা দু’জনকে প্রদান করে। এক – এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক, দুই- এফিলিয়েট মার্কেটার।

এখন প্রশ্ন হল, আপনি কিভাবে একজন এফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে এই পণ্যগুলো বিক্রি করবেন। যেহেতু, অনলাইন ইনকাম এর উপায় সম্পর্কে কথাগুলি আসছে তাই পুরো ব্যাপারটি আপনাকে অনলাইন প্র্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে।

এজন্য, কোন এফিলিয়েট প্রোডাক্টস বিক্রির জন্য আপনাকে কোন না কোন অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। যেমন হতে পারে, আপনার নিজের কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগের মাধ্যমে, বা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে অথবা ফেসবুক বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে।

যাহোক, আলোচনা লম্বা হয়ে যাওয়ায় এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে আলোচ্য পোষ্টে আর কিছু বলছি না। আমার যে পোষ্টে এটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে সেই পোষ্ট দেখে নেওয়ার অনুরোধ করছি। তাহলে, পুরো প্রক্রিয়াটি পরিস্কার রুপে বোধগম্য হবে।

ব্লগিং

অনলাইন আয়ের খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো ব্লগিং। ব্লগিং কি এবং ব্লগিং করে কিভাবে আয় করা যায় – তার উপর বিস্তারিতভাবে অন্য একটি পোষ্টে আলোচনা হয়েছে। এখানে শুধু এতটুকুই বলছি- আপনি যদি সঠিকভাবে ব্লগিং করে সফল হতে পারেন, তাহলে আপনার পিছন দিকে তাকানোর প্রয়োজন হবে না। তবে, সফল হওয়া বলে কথা। এর জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট ধৈর্য ও ইচ্ছা শক্তি।

জেনে রাখা ভাল, বর্তমান বিশ্বে ব্লগিং বিশেষ করে ইংরেজী ভাষায় – অনেক প্রতিযোগীতাপূর্ণ হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ, শুধু কনটেন্ট বা আর্টিকেল লিখে নিজের ব্লগে পোষ্ট করলেই হবে না। আপনার লেখাগুলিকে গুগলের সার্চ রেজাল্ট পেজ -এর প্রথম দিকে র‌্যাংক করাতে হবে। তবেই ভিজিটর আপনার ব্লগে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এভাবে, যখন ভিজিটর আসা শুরু হবে, তখনই কেবল আপনার ব্লগ থেকে আয়ের বিভিন্ন দ্বার একের পর এক উন্মোচন হওয়া শুরু হবে।

তবে, আপনি যদি ইংরেজি ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষা যেমন, বাংলা, হিন্দি ইত্যাদি দিয়ে ব্লগ শুরু করতে চান, তাহলে সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানো যাবে।

আর্টিকেল লিখে

আপনি যদি লেখালেখিতে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আর্টিকেল লিখে খুব সহজেই অনলাইনে আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ইংরেজী ভাষায় যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে। কারণ, আপনার লেখা আর্টিকেলটি ১০০% ইউনিক হতে হবে। যাতে সেখানে কোন ডুপ্লিকেট কনটেন্ট না থাকে।

আর্টিকেল লেখার জন্য প্রথমেই আপনাকে কিওয়ার্ড রিসার্স করে একটি টপিক নির্বাচন করতে হবে। তারপর ঐ টপিকস এর উপর অনলাইন তথ্য ভান্ডার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে সেই তথ্যগুলোকে নিজের ভাষায় বা প্যারাফ্রেজ করে লিখা শুরু করবেন।

আর্টিকেল লিখার আরোও কিছু নিয়ম সম্পর্কে আরেক পোষ্টে আলোচনা করা হয়েছে। দেখে আসতে পারেন।

কিছু জনপ্রিয় অনলাইন জব মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে একাউন্ট খুলে সেখান থেকে আর্টিকেল লেখার কাজ বাগিয়ে নিতে পারেন। যদি আপনার লেখা কনটেন্ট দিয়ে ক্লায়েন্টকে খুশি করতে পারেন, তাহলে আপনার কাজের অভাব হবে না।

এমন কিছু নির্ভরযোগ্য জব সাইটের নাম নিচে উল্লেখ করছি-